• প্রচ্ছদ » সর্বশেষ » এএফপির বিশেষ প্রতিবেদন, রাতের আঁধার চিরে কাশ্মীর উপত্যকার বুকফাঁটা আর্তনাদ


এএফপির বিশেষ প্রতিবেদন, রাতের আঁধার চিরে কাশ্মীর উপত্যকার বুকফাঁটা আর্তনাদ

আমাদের নতুন সময় : 17/09/2019


আসিফুজ্জামান পৃথিল : একজন কাশ্মীরি আবিদ খান এএফপি বলেছিলেন, সৈন্যরা রাতে আসে। আজও হয়তো আসবে। এ কথা বলার সময় তার হাত কাঁপছিলো। স্পষ্টতই তার কোন ¯œায়বিক রোগ নেই। তিনি ভয়ে কাঁপছিলেন। তিনি দুই ডজন মানুষের একজন যারা এএফপিকে জানিয়েছেন, ভারতীয় সেনারা তাদের নির্যাতন করেছে। ডেইলি মেইল।
৫ অগাস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলুপ্তির পর রক্ত¯œাত হিমালায়ান উপত্যকার অধিবাসীরা বড় ধরণের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের ভয় দেখিয়ে দমাতে চায়। আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে, যেনো কেউ নূন্যতম প্রতিবাদের সাহস না পায়। ডেইলি মেইলকে এমনটাই বলেছেন স্থানীয়রা। আবিদ খান এএফপিকে বলেন, ‘রাস্তার ধারে বসিয়ে তারা আমার ভাইকে বিদ্যুতের শক দিয়েছে। আমাকে তার ব্যাথাতুর চিৎকার শুনতে বাধ্য করা হয়েছে।’ সোপিয়ান জেলার হিপোরা গ্রামের ২৬ বছর বয়সী আবিদ নিজেও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। হাত পা এবং পশ্চাৎদেশে নির্যাতনের ভয়াবহ ক্ষত তিনি এএফপি সংবাদদাতাকে দেখান।’ আবিদ জানান তাকে স্থানীয় চোওগাম সেনা শিবিরে কয়েকবার ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি জানান, সেনারা প্রতিবারই তাকে নগ্ন করেছে। কবজি ও পা বেঁধেছে। এরপর তাকে কোনো কারণ ছাড়াই রড দিয়ে পিটিয়েছে। তার যৌনাঙ্গ ধরে টানাহেচড়াও করেছে একাধিকবার। কাশ্মীরে এই ধরণের ঘটনার পেছনে প্রধান কারণ আতঙ্ক সৃষ্টি করে যুবকদের দমিয়ে রাখা বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
আবিদ আরো বলেন, ‘আমি বারবার তাদের জানিয়েছে আমি সন্ত্রাসী বা বিচ্ছিন্নতাবাদী নই। তারা বারবার আমাকে বিদ্যুতের শক দিয়েছে। আমার অন্ডকোষে তারা শক দিয়েছে, লাঠি দিয়ে খুঁচিয়েছে। মারার সময় তারা বলছিলো তারা আমাকে নুপুংশক করে দেবে।’ আবিদ জানান ক্যাম্পটির মেজর তার বিরুদ্ধে নিজের বিয়েতে হিজবুল মুজাহিদিন নেতা রিয়াজ নাইকুকে দাওয়াত দেয়ার অভিযোগ করেছিলেন। তবে আবিদের দাবি তিনি এই বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাকে চেনেননা। তবে রিয়াজ এখন ভারতীয় সেনাদের উপর কৃতজ্ঞ। কারণ এই নির্মম নির্যাতন তার মধ্যে স্বাধীনতার স্বপ্ন উস্কে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি ২০ দিন সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারিনি। ১০ দিন টানা বমি করেছি। বিনিময়ে পেয়েছি মুক্তির স্বপ্ন। স্বাধীনতার স্বপ্ন। আর কতো নির্যাতিত হবো। এবার অধিকার বুঝে নেয়ার পালা। আমি ঠিকভাবে খেতে পারিনা। আমার স্ত্রী যে ঘরে ঘুমায় আমি সেখানে যেতে পারিনা। এরকম নির্যাতন না করে গুলি করে মেরে ফেলাও ভালো।’
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এ ধরণের কোনো নির্যাতনের কথা অস্বীকার করে আসছেন। একই কথা প্রতিধ্বনিত হচ্ছে কাশ্মীরে সেনা মুখপাত্র কর্নেল রাজেশ কালিয়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে। তিনি বলেন, ‘সকল সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পেশাদারভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে পরিচালনা করি আমরা। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’
এদিকে আরো ২৪ জন সোপিয়ানবাসী একই অভিযোগ জানয়েছে এএফপিকে। নির্যাতনের তালিকা তৈরী করা এক কাশ্মীরি বলেন, ‘প্রতি গ্রামের দুই থেকে ৩জন তরুণকে উদাহরণ সৃষ্টির জন্য বিনা কারণে এরকম নির্যাতন করে সেনাবাহিনী। তারা প্রথমে বাড়িতে হামলা চালায়, ফোন কেড়ে নেয়, এরপর গ্রাম থেকে কয়েকজনকে তুলে নেয়।’ সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]