• প্রচ্ছদ » সর্বশেষ » বাসাতেই সময় কাটছে শোভন-রাব্বানীর দেখা নেই চিরচেনা নেতাকর্মীদের


বাসাতেই সময় কাটছে শোভন-রাব্বানীর দেখা নেই চিরচেনা নেতাকর্মীদের

আমাদের নতুন সময় : 17/09/2019


সমীরণ রায় : নেতাকর্মীর ভিড় সামলানো কঠিন। কখনও ঘেমে-নেয়ে একাকার। তবুও পাশ থেকে কেউ নড়ে না। বিরক্তির সুরে বলতেন, এখন যাও পরে এসো। কে কার কথা শোনে। তবুও নেতার পাশে থাকতে হবে। মুখ দেখাতে হবে। নেতার ঘুম ভেঙেছে কিনা মাথায় নিয়ে ফোন করতে হবে। যেখানেই যেতেন, সেখানেই ছিল প্রটোকলের লম্বা বহর। মধুর ক্যান্টিন, ডাকসু ভবন, পার্টি অফিস, টিএসসি চত্বর এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত ভিড় লেগে থাকতো বাসার নিচেও। প্রিয় নেতা, প্রিয় ভাইকে একবার সালাম দেয়ার জন্য ছিল দীর্ঘলাইন। ভিড়, হুড়োহুড়ি, নেতাকে এক নজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা। চারপাশ ছিল শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত। হঠাৎ যেন করেই সব কিছু শেষ। সদ্য পদ হারানো ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর অবস্থা এমনই। কেউ তাদের খোঁজ রাখে না। নিভৃতে বাসায়ই কাটছে তাদের সময়।
গত শনিবার ছিল আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভা। ওই সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের পর নানা অভিযোগের দায়ে পদত্যাগ করেন তারা। এর আগ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সদ্য বিদায়ী এই দুই নেতার পাশে ছিলো নেতাকর্মীদের আনাগোনা। কিন্তু ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে আল নাহিয়ান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্যরে নাম ঘোষণার পর পরই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। রাতারাতি বদলে গেল ভাই। তাদের পেছনে এখন আর কেউ নেই। পদ হারিয়ে এখন নিঃস্ব, রিক্ত। দু’দিন ধরে নিজ বাসায়ই বন্দি তারা। বাড়ির সামনে নেই কোনো ভিড়, নেই কোনো কর্মী, নেই সালাম দেয়ার কেউ। প্রধানমন্ত্রীর আস্থা হারিয়ে শোভন ও রাব্বানী অনেকটাই একা হয়ে পড়েছেন। শেখ হাসিনা বিমুখ হওয়ায় নেতাকর্মীরাও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন তাদের কাছ থেকে। সবাই এখন নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন। এতোদিনে যেসব কর্মীর ফেসবুকে প্রোফাইল ছিল শোভন-রাব্বানীর সঙ্গে ছবি। এখন তা সরিয়ে নিয়েছেন সবাই। সে জায়গায় যুক্ত হচ্ছে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয় ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখকের ছবি।
জানা গেছে, গতকাল সোমবার বিকেল পর্যন্ত বাসা থেকে বের হননি তারা। এমনকি কোনো নেতাকর্মীও তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যায়নি।
রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, সারাদিন কোথাও বের হইনি, বাসায় বিশ্রামেই ছিলাম। তবে কি করবো এখনো কিছু ঠিক করিনি। ছাত্রলীগকে ভালোবাসি। আমি শেখ হাসিনার কর্মী। তিনি আমার জন্য যা ভালো মনে করবেন, আমি তাই করব। তার হুকুমের বাইরে যাব না।
গোলাম রাব্বানী বলেন, বাসা থেকে কোথাও যাইনি। কোথায় যাবো বুঝে উঠতে পারছি না। তবে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে। আমরা ষড়যন্ত্রের শিকার। তারপরও ক্ষমা প্রার্থী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের নেত্রী। তিনি মায়ের মতো। তার নির্দেশনায় আগামী দিনগুলো চলতে চাই। সম্পাদনা : রমাপ্রসাদ বাবু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]