• প্রচ্ছদ » » মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কি পারবেন পাগলাঘণ্টিটা বাজিয়ে দিতে?


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কি পারবেন পাগলাঘণ্টিটা বাজিয়ে দিতে?

আমাদের নতুন সময় : 17/09/2019

চিররঞ্জন সরকার

টোটকা দিয়ে, ইশারা-ইঙ্গিতে ভয় দেখিয়ে, শোভন-রব্বানীকে পদ থেকে সরিয়ে সর্বগ্রাসী দুর্নীতি থামানো যাবে না। এর জন্য সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনা করতে হবে। ‘ঠক বাছতে যদি গ্রাম উজাড়’ হয়, প্রয়োজন হলে তাই করতে হবে। তবুও সেই রিস্ক নিতে হবে। নেয়া দরকার। চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি-কমিশনবাজি যে কতোটা গভীর ও বিস্তৃত হয়েছে, সেটা নিশ্চয়ই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জানেন। এখন দরকার এ ব্যাপারে একটা কঠিন ঝাঁকুনি, কিছু বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। দুর্নীতি-অবৈধ উপার্জনের বিরুদ্ধে ‘পাগলঘণ্টি’ বাজিয়ে দেয়া! দুর্নীতি দমন কমিশনে কিছু মেরুদÐওয়ালা লোক নিয়োগ করুন। তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিন। চুনোপুঁটি থেকে রাঘব-বোয়াল সবার বিরুদ্ধে দলনিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবেশ তৈরি করুন। প্রয়োজনে আইন আরও শক্ত করুন। আইনের ফাঁকফোকর বন্ধ করুন। সরকারের কতো কতো সংস্থা আছে। পুলিশ, র‌্যাব, গোয়েন্দা-সবাইকে একযোগে চাঁদাবাজ-টেন্ডারবাজ-কমিশনবাজ-ঘুষখোর-অবৈধ উপার্জনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাঠে নামিয়ে দিন।
একইসঙ্গে যারা গত দশকে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কর-প্রশাসনকে সক্রিয় করুন। তারা দামি বাড়ি-গাড়ির মালিক, বিলাসী জীবনযাপনকারীদের আয়ের উৎস তলব করুক। গোয়েন্দারা পর্যায়ক্রমে ‘সন্দেহভাজন’ বিত্তবানদের বিত্তের উৎস খুঁজে বের করুক। আমলা, ছাত্রনেতা, যুবনেতা, মন্ত্রী-এমপি, শিল্পপতি, গণমাধ্যমের মালিক, আর প্রমোদভ্রমণের নামে ঘন ঘন বিদেশ সফরকারী, সবার অবৈধ অর্থের খোঁজে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। অবৈধ আয়ের সব টাকা উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করতে হবে। দেশে সরকারের চেয়ে বড় ‘শক্তি’ বা ‘মস্তান’ আর দ্বিতীয়টি নেই। সরকার যদি সত্যি সত্যি আন্তরিকতা নিয়ে অবৈধ উপার্জনের বিরুদ্ধে মাঠে নামে, অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘পাগলাঘণ্টি’ বাজিয়ে দেয়, তাহলে যেকোনো ‘পাগলা কুকুরের’ও ‘লেজ’ সোজা হতে বাধ্য। এর আগে আমরা সেই নমুনা দেখেছি। ২০০৭ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত¡াবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটা অপরিকল্পিত ঝাঁকুনিতেই কিন্তু ঢাকা শহরের অলিগলিতে টাকার বস্তা, দামি গাড়ি বেওয়ারিশ লাশের মতো পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিলো! এখনো সরকার যদি আটঘাঁট বেধে মাঠে নামে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ও আন্তরিক উদ্যোগ গ্রহণ করে, তাহলে অবৈধ উপার্জনকারীরা আবারও টাকার বস্তা পথে ছুঁড়ে দেবে। বাড়ি-গাড়ি থুয়ে ভাগবে। দরকার শুধু একটা ‘বিপ্লবী’ সিদ্ধান্ত।
এই কাজ করলে দেশের কোটি কোটি মানুষ সরকারের পক্ষে থাকবে। দু-চার লাখ দুর্নীতিবাজ হয়তো বিপক্ষে যাবে, সাবোটাজ করার চেষ্টা করবে, কিন্তু দেশের কোটি কোটি মানুষ যদি সরকারের পক্ষে থাকে, তাহলে কি সেই ফাঁড়া কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব? আরেকটি কথা। আস্তে আস্তে মানুষের ‘খিদে’টাকেও একটু কমিয়ে আনতে হবে। পোলাও-কোর্মা-বিরানিতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে ডাল-শাক-ভাত খেতে একটু কষ্ট হবে বৈকি! সেজন্য সুনীতি-সদাচারের দীক্ষার সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘শাক-ভাতে’ অভ্যস্ত হওয়ার কথাও বলতে হবে। কৃচ্ছ¡তা শেখাতে হবে। ‘খাই-খাই’ স্বভাবটা বাড়ে প্রশ্রয় পেলে। আর মানুষের পেটের খিদের চেয়ে চোখের খিদে কিন্তু বেশি সর্বনাশা! এ ব্যাপারে বিখ্যাত গ্রিক দার্শনিক ডায়োজেনেসের একটা গল্প প্রচলিত আছে। সেই সময় ডায়োজেনেসের রাজ্যে ডেনেস নামে এক রাজা ছিলেন। তিনি তোষামোদ খুব পছন্দ করতেন। কিন্তু ডায়োজেনেস রাজাকে মোটে পাত্তা দিতেন না। তিনি তোষামোদিও পছন্দ করতেন না। ফলে তাঁকে খুব কষ্ট করে দিন কাটাতে হতো। একই সময়ে অ্যারিস্টোপাস নামে আরেকজন দার্শনিক রাজা ডেনেসকে খুশি করে খুবই আরাম-আয়েশে ছিলেন। একদিন অ্যারিস্টোপাস ডায়োজেনেসের বাড়িতে এসে দেখলেন তিনি শাক দিয়ে ভাত খাচ্ছেন। অ্যারিস্টোপাস ঠাট্টা করে বললেন, ‘তোষামোদীটা একটু শিখলে তোমাকে এমন শাক দিয়ে ভাত খেতে হতো না’। ডায়োজেনেস উত্তরে বললেন, ‘আর তুমি যদি কষ্ট করে শাক দিয়ে ভাত খাওয়াটা শিখতে তাহলে তোমাকে অমন নির্লজ্জ তোষামোদী করতে হতো না’। এই গল্পের সঙ্গে আমাদের দেশের দুর্নীতিবাজদের ভীষণ মিল আছে। দুর্নীতিবাজরা যদি ডায়োজেনেসের মতো ‘শাক দিয়ে ভাত খেতে’ শিখতেন তাহলে তাদের অবৈধ আয়ের জন্য এমন বেপরোয়া বেহায়া তৎপরতা চালাতে হতো না। যাহোক, শেষ কথা হলো, সব কিছুই নির্ভর করছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত কোন পথে যান, কী পদক্ষেপ নেন-এখন সেটাই দেখার বিষয়! ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]