• প্রচ্ছদ » সর্বশেষ » যুক্তরাষ্ট্র ৯০ হাজার কোটি ডলার ব্যয়ের পরও আফগানিস্তানে তালেবানরা এখন সবচে শক্তিশালী


যুক্তরাষ্ট্র ৯০ হাজার কোটি ডলার ব্যয়ের পরও আফগানিস্তানে তালেবানরা এখন সবচে শক্তিশালী

আমাদের নতুন সময় : 17/09/2019


দেবদুলাল মুন্না : জোহরা আতিফির (তার স্বামী তালেবান শাসনের সময় নিহত হয়েছিলেন) মতো অনেক আফগানের কাছে ২০০১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ছিল নির্যাতনকারী আমলে বসবাসের জন্য নতুন করে শুরুর স্মারক। কিন্তু ১৮ বছর পরও যুক্তরাষ্ট্রের ৯০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় ও ১ লাখ ৪৭ হাজার লোক মারা যাওয়ার পরও তালেবান এখন ক্ষমতায় ফেরার ব্যাপারে আগের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী। বিদ্রোহী দলটি দেশের অর্ধেকাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। তালেবানকে উৎখাতের পর ২০১৯ সালের অগাস্ট পর্যন্ত আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা, পুনর্গঠন, ও তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র একাই ৮৯৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। এই ব্যয় ও বিপুল প্রাণহানি সত্ত্বেও আফগানিস্তানের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। আফগান আইনপ্রনেতা ব্রেসনা রাবি বলেন,‘আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে তালেবান অনেক বেশি শাক্তিশালী। তারা এখন দেশের যেকোনো স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে দিতে পারে। তারা যে কোনো সময় বড়ো হামলা চালাতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার গেছে দুর্নীতিতে। মার্কিন অর্থ গরিব মানুষের কাছে যায়নি, গরিব মানুষের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।’
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল পম্পেও সোমবার বলেছেন, ‘আমরা আফগান্তিানে এখনও বছরে ৩০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছি।’ খবর হাফিংটন পোস্টের।
২০০১ সালে ক্ষমতাচ্যূত হওয়ার পর এবারই তারা সবচেয়ে বেশি এলাকার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করে আলোচনা বাতিল করে দিলেও তারা আরো বেশি ক্ষমতা নিয়ে চুক্তি করার মতো অবস্থায় রয়েছে। আমেরিকা সমর্থিত কাবুল সরকারের ওপর আস্থাও কমছে আফগানদের ক্রমশ। কাবুল সরকার বা এর মিত্ররা কেবল তালেবানকে নয়, আরেকটি চরমপন্থী গ্রুপ আইএসকেও দমন করতে পারেনি। ফলে দুই বছর আগে আতিফির এক ছেলে আইএসের হামলায় নিহত হয়েছে।
সাউথ এশিয়ান মনিটরকে দেওয়া এক ইন্টারভিউতে জোহরা আতিফি (৪৫) বলেন, তালেবানদের নৃশংস শাসনের পতনের পর আমরা আশাবাদী হয়েছিলাম। কিন্তু যে স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম, তা কখনোই বাস্তব হয়নি। তালেবান শাসন আর এখনকার অবস্থার মধ্যে কী পার্থক্য আছে? সবাই খুনে, তারা আমাদের প্রিয় ছেলেকে খুন করেছে।’ জোহরা আতিফির স্বামী নিহত হয়েছিলেন ১৯৯৮ সালে। তার দ্বিতীয় ছেলে নিহত হয় ২০১৭ সালে। তিনি এখন সপ্তাহে ২৭ ডলার আয় দিয়ে সংসার চালান।
বিপুল ব্যয়ের পরও আফগানিস্তানে শান্তি এখনও প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় সৈন্যদের ফিরিয়ে আনার দাবি জোরদার হচ্ছে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।
উল্লেখ্য,আফগানিস্তানে মোতায়েন ২২,৬৭৩ জন বিদেশী সৈন্যের মধ্যে মার্কিন সৈন্য ১৪ হাজার। ২০১১ সালে ছিল সর্বোচ্চ এক লাখ। যুদ্ধে ২,৪০০ মার্কিন ও ১,১৪৪ ন্যাটো সৈন্য নিহত হয়েছে। এছাড়া ২০,৫০০ আমেরিকান সৈন্য আহত হয়েছে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]