• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » লিসবনে ১৭৬ বছর ধরে কাচের জারে সংরক্ষিত কাটা মাথা সিরিয়াল কিলার দিয়াগোর!


লিসবনে ১৭৬ বছর ধরে কাচের জারে সংরক্ষিত কাটা মাথা সিরিয়াল কিলার দিয়াগোর!

আমাদের নতুন সময় : 17/09/2019


দেবদুলাল মুন্না: পর্তুগালের লিসবন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানাটমিক্যাল থিয়েটারে একটি জারে ১৭৬ বছর ধরে সংরক্ষিত রয়েছে এক ব্যক্তির দেহহীন কাটা মাথা! কিন্তু কেউ এতোবছরেও সনাক্ত করতে পারেননি এই মুখটি কার? কিন্তু এই কাটা মাথা সংরক্ষণের কারণ হিসেবে অ্যানাটমিক্যাল থিয়েটারের প্রধান গবেষক নোন্স সিয়েরা বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে এটিএক সিরিয়াল কিলারের মাথা। ১৮১০ সালে স্পেনে এক গরিব পরিবারে জন্ম হয় এক ছেলে সন্তানের। নাম রাখা হয় দিয়াগো আলভেজ। খাবারের খরচ জোগাতে ১৯ বছর বয়সেই স্পেন ছেড়ে পর্তুগালে পাড়ি জমায় দিয়াগো। কিন্তু পর্তুগালে এসে একেবারে ব্যর্থ হয় সে। এত কম বয়সে বলার মতো কোনো চাকরি খুঁজে পায় না সে। হন্যে হয়ে কাজ খুঁজে বেরিয়েও প্রতিদিনই খালি হাতে ফিরতে হতো তাকে। প্রতিরাতেই ক্ষুধা আর হতাশায় ঘুম হতো না তার। সেই হতাশা কাটাতে একদিন নেশার জগতে ঢুকে পড়ে দিয়াগো। আর সেখান থেকে অপরাধ জগতে নাম লেখায়। প্রথমে ছোটখাটো অপরাধ করানো হতো তাকে দিয়ে। অপরাধের বিনিময়ে মাদক ও খাবার পেতে থাকে সে। প্রথম দিকে ছিঁচকে চোর ছিল দিয়াগো। এর পর বড় ধরনের ডাকাতি ও রাহাজানিতে সিদ্ধহস্ত হয়ে ওঠে তার হাত। এসব করতে গিয়ে কয়েকটি খুন করে ফেলে দিয়াগো। এভাবেই ধীরে ধীরে সিরিয়াল কিলার হয়ে ওঠে সে। কিন্তু এ তথ্য এখন আর যাচাই বাছাইয়ের সুযোগ নেই। তার উত্তরপুরুষরাও কেউ তাকে দাবি করছে না। ফলে এটি কার মাথা প্রমাণিত সত্য নয়। তবে সিরিয়াল কিলারেরই হওয়ার কথা।’ খবর জি নিউজ।
কিন্তু লিসবনের ইতিহাস বলছে, সেই সময় সারা দিন কাজ করে মজুরিসহ নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারত না কৃষকরা। রহস্যজনকভাবে গ্রাম থেকে প্রতিদিনই কৃষক নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছিল। এভাবে নিখোঁজের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছিলই।
এ সময় লিসবনের এক স্বনামধন্য চিকিৎসক ও পরিবার দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন। সেই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে ধরা পড়ে দিয়াগো আলভেজ।এর পরই বেরিয়ে আসে চার বছর ধরে লিসবনের গ্রামগুলোর নিখোঁজ কৃষকদের রহস্য। জানা যায়, এসব কৃষককে দিয়াগো ও তার গ্যাং খুন করে। প্রায় ৯০টির মতো খুন করে দিয়াগো। পরে আদালতে দিয়াগো স্বীকার করে, কৃষকদের লুট করে তাদের খুন করে দেহ টুকরো টুকরো করে নদীতে ভাসিয়ে দিত সে।
তার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর আদালত তাকে মৃত্যদ- দেন। কীভাবে এত নিষ্ঠুরতার সঙ্গে খুন করত দিয়াগো, তা জানতে উৎসুক হয়ে ওঠেন মেডিকেল সার্জিক্যাল স্কুল অব লিসবনের বিজ্ঞানীরা। তার মস্তিস্ক নিয়ে গবেষণা করার জন্য ফাঁসির পর দিয়াগোর মাথা কাটা হয়।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]