• প্রচ্ছদ » » শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেকার সম্পর্ক সম্পর্কে


শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেকার সম্পর্ক সম্পর্কে

আমাদের নতুন সময় : 17/09/2019

তুষার আবদুল্লাহ

এক ব্যাংকার বন্ধু স¤প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন রাজধানীর বনশ্রী জুনিয়র আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষকদের হিং¯্রতার কথা। তার ছেলে জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলো একবার সহপাঠীকে শিক্ষকের দেওয়া শাস্তি দেখে ভয়ে। স্কুলে যাওয়া নিয়েও তার মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিলো। কদিন বাদে সে নিজেই আক্রান্ত হলো শিক্ষক দ্বারা। অপরাধ ছেঁড়া কাগজ ডাস্টবিনে ফেলতে যাচ্ছিলো ছেলেটি। আবার জ্বর এসেছে তার। বাবা শিক্ষকের মারের চিহ্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে দিয়েছেন। এই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিভাবকরা অভিযোগ নিয়ে যাওয়ার সাহস করেন না। প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। পৌঁছালেও বলেন সন্তানকে স্কুল থেকে সরিয়ে নিতে। তথাকথিত নামি স্কুলের শিক্ষকদের আচরণ আরো ভয়াবহ। অভিভাবকরা তাদের কাছে জিন্মি। কারণ এ প্রকারের স্কুলে ভর্তি করাতে পারা যুদ্ধ জয়ের সমান। সঙ্গে আছে ডোনেশনের চাপ। তাই তারা সয়ে যান।
শ্রেণিকক্ষের পাশে বইমেলা করতে দেশের বিভিন্ন স্কুলে যাওয়া হয়। সেখানে দেখেছি সন্তানের সামনে বাবা কিংবা মাকে কি বীভৎসভাবে শিক্ষকরা অপমান করছেন। ওই অভিভাবক সমাজে, রাষ্ট্রে যতো পরিচিত বা প্রভাবশালীই হোন না কেন, রেহাই নেই। অভিভাবকদের তারা দাস বা প্রজা মনে করে অপমান করে যেন বিকৃত আনন্দ পান। এখন তো দেশজুড়ে নানা প্রকারের স্কুলের বাণিজ্য চলছে। সরকারি- বেসরকারি, বাংলা-ইংরেজি মাধ্যম, প্রি-ক্যাডেট, ক্যাডেট মাদ্রাসা এবং বাংলা সংস্কৃতির ধারকের ভনিতা দিয়ে স্কুল বাণিজ্য। সবখানেই শিক্ষার্থী এবং তার অভিভাবকদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ আছে। বলছি না অভিভাবকরা দেবদূত। তাদেরও সমস্যার শেষ নেই। তাদের আচরণও শিক্ষকদের সঙ্গে খুব শোভন বলা যাবে না। কিন্তু শিক্ষককে তো তাদের সঙ্গে সমান অবস্থানে এনে দাঁড় করানো যাবে না। তাদেরও এসে এক কাতারে দাঁড়ানো ঠিক হবে না। যে ছেলেটি বা মেয়েটি তার কাছে প্রাইভেট পড়ছে বা তার কোচিংয়ে যাচ্ছে, তাদের সঙ্গে আচরণ এক প্রকার। আর যারা যাচ্ছে না তাদের সঙ্গে আরেক প্রকার হবে কেন? নিজেরা সৃজনশীল পদ্ধতি বুঝে উঠতে পারেননি, এখনো সেই দায় চাপিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীদের ওপর। শিক্ষকদের হিংস্রতা সইতে না পেরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের আত্মহননের কথা আমরা জানি। এই সংখ্যার চেয়ে বহু গুণিতক হলো আতঙ্কে স্কুল ছেড়ে দেওয়া। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের ঘটনা তো এখন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। এই বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে আসতে আমরা কয়েকজন ভাবছি সন্তানদের জন্য একটি ভালোবাসার স্কুল তৈরি করতে। এ খবর জেনে অগ্রজ এক বন্ধু লিখেছেনÑ‘আমার স্কুল জীবন কেটেছে শিক্ষকদের অন্যায় আচরণে ভুগতে-ভুগতে। আমার সন্তানদের অবস্থাও তাই। আশা করি আপনাদের স্কুলে কোনো ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষকদের অন্যায়ের বলি হবে না।’ পাঠকরা ভাবতে পারেন আমি শুধু শিক্ষকদের উদ্দেশে ক্ষোভ বর্ষণ করে গেলাম। এই ক্ষোভ কতোদূর নিগৃহীত হলে তৈরি হতে পারে ভেবে দেখুন? তবে যতো ক্ষোভ তার চেয়েও উত্তাল শিক্ষকদের প্রতি আমার, আমাদের ভালোবাসা। সংক্ষিপ্ত। লেখক: বার্তা প্রধান, সময় টিভি। বাংলাট্রিবিউন থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]