শুনবেন আফগান রূপকথার গল্প?

আমাদের নতুন সময় : 17/09/2019

রাশেদ খান : রশিদ খানের কড়া ভাষায় বাংলাদেশকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা দেখে আপনি রাগ করেন। আপনার চেতনায় আঘাত লাগে। সেই আফগানিস্তানের সাথে টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ হেরে যাওয়ার পর আপনার চেতনায় আঘাত লাগে না? শুনবেন আফগান রূপকথার কথা? বর্তমান আফগান ক্রিকেট দলের ব্যাটিং কোচের নাম হচ্ছে নওরোজ মঙ্গল। যাকে বলা হয় আফগান ক্রিকেটের রূপকথার নায়ক। নওরোজ মঙ্গল থাকতেন পেশোয়ারের শরণার্থী শিবিরে। নিয়মিত মাঠে গিয়ে খেলা দেখতেন। আর স্বপ্ন দেখতেন আফগানিস্তানের হয়ে খেলার। একদিন তার স্বপ্ন সত্যি হইছে, তিনি তার দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বাংলাদেশকে টেস্টে হারানোর পরের দিন তিনি সাংবাদিকদের কাছে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলছেন- ‘আমি কিন্তু ২০০৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট ম্যাচ দেখেছিলাম মাঠে বসে (পেশোয়ারে)! আজ আমাদের দল সেই বাংলাদেশকে টেস্টে হারিয়ে দিয়েছে!’
শুরুতে আফগানীদের কোনো অবকাঠামোই ছিলো না। মাঠ ছিলো না, অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধা ছিলো না। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, হাজারও সমস্যা ছিলো। সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিলো, লোকে ক্রিকেট সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানতো না। তারা মনে করতো, এটা আমাদের দেশের খেলা হতে পারে না। নিজের দেশের মানুষ তাদের খেলা দেখে হাসাহাসি করতো, বিরক্ত হতো। কিন্তু আফগানী ক্রিকেটারদের ছিলো ভালো কিছু করে দেখানোর সংকল্প! ধীরে ধীরে আফগান ক্রিকেটাররা ছড়িয়ে গেছে ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেট সহ অন্য দেশ গুলোর লীগে। বিদেশি লিগে আফগানী একজন প্লেয়ার ভালো খেললে, সে সুপারিশ করতো আফগানী আরেকজন প্লেয়ারের জন্য। ওরা নিজেদের আমিত্ব কে বিলীন করে দিয়ে দেশ নিয়ে চিন্তা করছে। ওদের চিন্তায় ছিলো না, দুই ম্যাচ খেলে অবসর নিয়ে রাজনীতি করবো, কিছু টাকার মালিক হবো।ওদের সবার সংকল্প ছিলো ‘আফগান ক্রিকেট দল’ নিয়া। আর সেদিনের সেই সংকল্প এখন তাদের কে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যে টানা ১৩টি টি-টোয়েন্টিতে আজকে আফগানিস্তান অপরাজিত। পাকিস্তানের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে ক্রিকেট খেলা শুরু করা যুদ্ধবিধস্ত আফগানীদের ক্রিকেটে কোনো নোংরা রাজনীতি নেই।
আপনি জানলে আরো অবাক হবেন! ২০১৮ সালের ৭ মে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের সাফল্য মুগ্ধ হয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট মো. আশরাফ ঘানি এক ডিক্রি জারি করে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন। সেই ডিক্রিতে বলা আছে, ‘এখন থেকে কেউ যদি আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের উপর প্রভাব বিস্তার কিংবা হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে সরকার। সেটা যে কেউ হোক না কেন!’ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিবের অভিষেক ২০০৬ সালে। আর আফগানিস্তান ২০০৯ থেকে ওডিআই খেলা শুরু করে। বয়সের হিসেবে সাকিবের ক্যারিয়ারের চাইতে জুনিয়র আফগানিস্তানের ওডিআই স্ট্যাটাসের বয়স। সেই আফগানরা মোট ৯৮ টি ম্যাচ খেলে ৫১টাই জিতেছে। যেখানে বাংলাদেশের ৩৪০ ম্যাচ খেলে জিতেছে মাত্র ১০৮ টা। কেবল ম্যাচ জয়ের পরিসংখ্যান দিয়ে আসলে আফগানদের উন্নতি বোঝা যাবে না। ২০০৯ সালে ওডিআই খেলা শুরু করা আফগানিস্তান হচ্ছে বর্তমান অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন (২০১৭)। যে আফগানিস্তান আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এক সময় শিরোনাম হইত বিশ্বের নাম্বার ওয়ান শীর্ষ সন্ত্রাসী লাদেন নিয়া। সেই আফগানিস্তান এখন শিরোনাম হয় আইসিসির র‌্যাংকিং’এ নম্বর ওয়ান বোলার রশিদ খান নিয়া। ঔদ্ধ্যত্বপূর্ণ আচরণ এই রশিদ খানদেরই মানায়, চেতনা খোর বাংলাদেশিদের নয়। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]