• প্রচ্ছদ » » শেষরাতে সঙ্গমতৃপ্ত নর-নারীর পুরোটা সংলাপ বাধ্য হয়ে শুনতে হতো!


শেষরাতে সঙ্গমতৃপ্ত নর-নারীর পুরোটা সংলাপ বাধ্য হয়ে শুনতে হতো!

আমাদের নতুন সময় : 17/09/2019

ইসরাত জাহান উর্মি

‘লেখক’ বিষয়টা আমার কাছে বিস্ময়বোধক। লেখক কোথায় লুকিয়ে থাকে? কোনো কোনো লেখক ঘাসের ভেতর লুকিয়ে থাকা সাপের মতো, হঠাৎ ছোবল দেন। নীল হয়ে যায় শরীর। বেদনার বিষে। আমি তো লেখক নই, লিখতে পারি না। লেখকদের কাছে আমার গল্পগুলো জমা রাখতে ইচ্ছা করে। লেখক কেমনে হয়? আমি যা দেখি তা তারা কেমনে বর্ণনা করে? তারা কি গোপনে গোপনে আমার পেছনে হাঁটে? রোকেয়া হলে যখন থাকতাম বর্ষাকালে স্বর্ণচাঁপা ফুটতো, সারিবাঁধা গাছ ছিলো কতোটি, হাউজ টিউটরদের অফিস ঘেঁষে, সেই গন্ধে তো কাউকে ভোর হতে দেখিনি। গেটের কাছে একটা জারুল গাছ ছিলো। আর আমার ছিলো আম্মার হাতে কাজ করা একটা জারুল রঙের শাড়ি। কুরুশকাঁটার আঁচল। আমি তখন খুব সুন্দরী ছিলাম। যদিও অদ্ভুদ কারণে কোনোদিনই নিজেকে আমার সুন্দর লাগেনি। তো ওই জারুলরঙা শাড়িটা পরে জারুল গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আমার ছবি তুলতে ইচ্ছা করতো। ওইদিকে এক্সটেনসন আর মেইন বিল্ডিংয়ের ফাঁকে ছিলো একটা কুর্চি গাছ। গ্রীষ্মে ফুলে ফুলে সাদা হতো। তো এই রোকেয়া হল থেকে কতোজন কতো কি হলো, কবি হলো তো শুধু জাহানারা পারভীন। কবি হয়ে সে আমার কথা সবিস্তারে বলে যায় কবিতায়। মানুষ কেমনে কবি হয়। কবিদের কাছে আমার গল্পগুলো জমা রাখতে ইচ্ছা করে। একবার মুন্সীগঞ্জের এক নদীধোয়া গ্রামে গিয়েছিলাম অপুদার বিয়ে খেতে। তুষারের সঙ্গে। সন্ধ্যায় লঞ্চ ছাড়লো, মাঝরাতে বিয়ের লগ্ন। অপুদার কালীরবাজারে ইলেকট্রিকের দোকান। দেখতে সুন্দর। তো বিয়ে করলো কালো, দেখতে ভালো না বেশি বয়সের এক নারীকে। মাঝরাতে বিয়ের মÐপে আমি সেই মেয়েটার মুখের কাঠিন্য দেখলাম। বড়লোক বা সুন্দর স্বামী পাওয়ার কোনো গর্ব বা আহ্লাদ ছিলো না তার চেহারায়। মোমের মতো গলে না যাওয়ার এই নারীবাদ সে কোথায় শিখেছিলো?
অথবা নাসিমা আপু আর জয়নাল দুলাভাইয়ের গল্পটা। শীতে বেড়াতে যেতাম ওদের বাড়ি। এক বিছানাতেই ঘুমাতাম। আমি ছিঃ ছিঃ তখন বেশ বড়। শেষরাতে সঙ্গমতৃপ্ত নর-নারীর পুরোটা সংলাপ বাধ্য হয়ে শুনতে হতো। নাসিমা আপু বলতো, ‘এ রকম আজানের সময় করলাম?’ দুলাভাই আশ্বস্ত করতো, ‘অসুবিধা নেই।’ এই গল্পগুলো কোনো লেখকের কাছেই তো জমা রাখবো আমি। আমি তো লেখক নই। কিংবা সেই বিবাহিতা ভদ্রমহিলার কথা। সন্তানের জননী। মফস্বলের সুন্দরী। এক তরুণ অবিবাহিত ধর্মে হিন্দু সরকারি ডাক্তারের সঙ্গে তার সখ্য। তখনকার প্রেম তো। অপ্রকাশ্য। চাপা। তো তরুণ ডাক্তার যখন বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলো পাত্রীর সাদাকালো ছবি ভদ্রমহিলা সংসারের কাজের ফাঁকে দেখে। কেন দেখে? প্রায় প্রেমিকের হবু বউয়ের ছবি সে কেন একটু পর পর স্মিতমুখে দেখতো? বিয়ের কেনাকাটা করার আগে ডাক্তার বললো আপা, কি রঙের শাড়ি কিনবো বলেন? ভদ্রমহিলা বললো, পাকা টমেটো রঙের। বিয়ের কেনাকাটা শেষ হলে যখন জানতে চায়, দাদা কি শাড়ি কিনলেন? ডাক্তার হেসে উত্তর দিলো কেন পাকা টমেটো রঙের কাতান। একইসঙ্গে বিজয়িনী আর সর্বহারার হাসি দেখেছিলাম ভদ্রমহিলার মুখে। আসলেই দেখেছিলাম? নাকি আমার কল্পনা? বিভ্রম? সেই মহিলা মরে গেছেন। তার অসমাপ্ত সব গোপন কথা নিয়ে সে চন্দনা পাড়ে শুয়ে আছে। আমি তো লেখক নই। তার গল্পগুলো আমি লিখতে পারবো না। লুকিয়ে থাকা লেখকেরা যদি আমার সামনে আসতো এই গল্পগুলো দিতাম তাদের হাতে। মানুষ কেমনে লেখক হয়… এই বিস্ময় আমার জন্মের বিস্ময়। এই বিস্ময় আমার কাটে না। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]