সিকিম এবং হালফিল

আমাদের নতুন সময় : 17/09/2019

আইয়ুব হোসেন

বিশ্বনন্দিত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় ১৯৭১ সালে একটা ডক্যু-ফিল্ম বানিয়েছিলেন। এর নাম ‘সিকিম’। ক্ষমতাসীন রাজা চোগিয়ালের অনুরোধে একটি শর্তে সত্যজিৎ রায় সম্মত হয়েছিলেন চলচ্চিত্রটি নির্মাণে। নিজ কাহিনি কোনো হস্তক্ষেপ ব্যতিরেকে কাজ করার সুযোগ থাকতে হবে। রাজা মেনে নেন। সেসময় সিকিমে রাজনৈতিক অস্থিরতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছিলো। বিশেষত ভারতের আগ্রাসী মনোভাব চরিতার্থ করার জন্য সিকিমের অভ্যন্তরে তাদের বশম্বদ ও অনুগত রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে সেখানে গোলযোগ সৃষ্টি ও সরকার পতনের অপতৎপরতা চালায়। বলাবাহুল্য, সিকিম তখন ভারতের পার্শ্ববর্তী একটি স্বাধীন দেশ ছিলো। বিশ্ব পরিমÐলে সিকিমের তেমন পরিচিতিও ছিলোনা স্বাধীন দেশ হিসেবে। সেজন্য রায়ের খ্যাতিকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ব দরবারে সিকিমকে ব্রান্ডিং করার জন্য উচ্চমূল্যে এই ছবিটি করানো হয়। কিন্তু ছবিটির বরাত ভালো ছিলো না।
আপত্তিকর বক্তব্য মনে হওয়ায় সিকিম এবং ভারত কোনো সরকারই চলচ্চিত্রটির ছাড়পত্র দেয়নি এবং প্রদর্শিতও হয়নি। ব্রিটিশ ফিল্ম আর্কাইভের একটা কপি ছিলো। কবছর আগে কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভালে সরকারের নিকট থেকে একদিন প্রদর্শনের অনুমতি নিয়ে ছবিটি এনে উৎসবে দেখানো হয়। চোগিয়াল সরকারের শেষরক্ষা হয়নি। পরবর্তী দুই বছরের মধ্যেই ভারত কৌশলে সিকিমকে একটি রাজ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। সেসময় ভারতকে প্রগতিশীল রাজনীতিকরা স¤প্রসারণবাদী শক্তি বলে ভারতকে অহরহ আখ্যায়িত করেছে। হালফিল ভারতের মোদী সরকারের কার্যকলাপ শঙ্কার সঙ্গে প্রত্যক্ষ করে চলচ্চিত্রটির কথা মনে এলো। এনআরসি, কাশ্মীর, ভাষা বিতর্ক ইত্যাদি ইতোমধ্যে নানা প্রশ্নের উদ্রেক করেছে, করছে। এর ওপর আমাদের ঘাড়ে চেপে বসে থাকা রোহিংঙ্গা জনগোষ্ঠী, যারা এর মধ্যে শঙ্কা জাগানিয়া অপতৎপরতা এবং অন্যায্য সব বক্তব্য দিয়েছে, দিচ্ছে। যাহোক, আমরা নিরাপদে থাকতে চাই, নিরাপদে দেখতেও চাই পাড়া-প্রতিবেশীকে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]