• প্রচ্ছদ » » আমি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য হলে কী করতাম?


আমি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য হলে কী করতাম?

আমাদের নতুন সময় : 19/09/2019

কামরুল হাসান মামুন

আমার কিউরিয়াস মাইন্ডও জানতে চায় আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কাজ কি? আরও সুনির্দিষ্টভাবে বললে একজন ভিসির কাজ কী? তার চেয়ে বরং আমি বলি আমি যদি ভিসি হতাম কী করতাম। ১. অকারণে যেসব শিক্ষক ভিসির অফিসে ঘুরঘুর করে তাদের নিরুৎসাহিত করতাম। ২. সব প্রকার শিক্ষক নিয়োগ কিমিটি থেকে ভিসি প্রোভিসির অন্তর্ভুক্তি বাতিল করে কেবল যেই সাবজেক্টের শিক্ষক নিয়োগ হবে সেই বিষয়ের শিক্ষকদেরই নিয়োগ বোর্ডে থাকার নিশ্চয়তা বিধান করতাম। ৩. হলের স্পোর্টসের উদ্বোধন, হলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ইত্যাদি ট্রিভিয়াল প্রোগ্রামে গিয়ে সময়ের অপচয় করতাম না। ৪. শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের গবেষণাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য উদ্যোগী হতাম। ৫. প্রমোশনের ক্ষেত্রে সক্রিয় কতো বছর সার্ভিস দিলো এসব বিবেচনার চেয়ে শিক্ষকের গবেষণা ও ছাত্র দ্বারা শিক্ষকের মূল্যায়নের উপর অনেক বেশি গুরুত্ব দিতাম। ৬. শিক্ষকদের প্রোমোশনের ক্ষেত্রে হলের হাউস টিউটর হওয়ার পয়েন্ট, রোভার স্কাউটসহ অন্যান্য নন-একাডেমিক কাজের জন্য পয়েন্ট বিবেচনার বিধান বাতিল করতাম। এগুলোর জন্য আর্থিক সুবিধা হতে পারে, কিন্তু শিক্ষক নিয়োগ বা প্রমোশনের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নিতাম না। ৭. রেজিস্ট্রার ভবনকে কীভাবে অটোমেটেড করে ছাত্র দুর্ভোগ কমানো যায় তার জন্য সচেষ্ট হতাম। ৮. সব ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ই-মেইল (ফঁ.ধপ.নফ) আইডি দিতাম। ৯. ছাত্রছাত্রীদের ফধঃধনধংব তৈরির ব্যবস্থা নিতাম। ১০. শিক্ষকরা যেন স্বাধীন এবং মুক্ত চিন্তা করতে পারে তার পরিবেশ সৃষ্টির ব্যবস্থা নিতাম। ১১. বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক বরাদ্দ বৃদ্ধি চেয়ে না পেলে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে দাবি জানতাম। ১২. ছাত্র-শিক্ষকের গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধির জন্য সরকার, অ্যালুমনি এবং ঢ়যরষধহঃযৎড়ঢ়রংঃদের কাছে আবেদন জানাতাম। ১৩. ছাত্রছাত্রীদের আবাসিক ব্যবস্থার উন্নয়নে উদ্যোগী হতাম। ১৪. সব শিক্ষকের নিজস্ব ওয়েব পেজে তার সব তথ্য থাকার নিশ্চয়তা বিধান করতাম। ১৫. বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব পেজের হোম পেজকে ভিসির ছবিও ও সংবাদ প্রকাশে নিরুৎসাহিত করে ছাত্র-শিক্ষকের অর্জনকে প্রাধান্য দিতাম। ১৬. দ্বিতীয় এক্সামিনার পদ্ধতি বাতিল করতাম। ১৭. প্রতি বিভাগে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু করে আন্তর্জাতিক মানের পোস্ট-ডক নিয়োগের ব্যবস্থা করতাম। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞান সৃষ্টির পথে মূল উপাদান হলো পিএইচডি ও পোস্ট-ডক প্রোগ্রাম। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট-ডক বলতে কোনো কনসেপ্টই নেই। ১৮. সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধ করে দেয়ার উদ্যোগ নিতাম। একজন ভিসি যদি সারাদিন এইটা উদ্বোধন, সেই প্রোগামে যোগদান, ৬০-৮০টা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ আর প্রমোশন বোর্ডে থাকা লাগে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে ভাববেন কখন? যদি সারাদিন কিছু তোষামোদকারী দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকেন তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আসল সমস্যা জানবেন কীভাবে? ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]