• প্রচ্ছদ » সাবলিড » গ্রামীণ-রবির সঙ্গে সরকারের পাওনা টাকা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে, বললেন অর্থমন্ত্রী


গ্রামীণ-রবির সঙ্গে সরকারের পাওনা টাকা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে, বললেন অর্থমন্ত্রী

আমাদের নতুন সময় : 19/09/2019


রমজান আলী : অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, দেশের দুই শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবি এবং বিটিআরসি সব ধরনের বিরোধ থেকে সরে আসবে। সরকারের পাওনা টাকা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে। বুধবার সচিবালয়ে মোবাইলফোন অপারেটর গ্রামীণফোন, রবি ও বিটিআরসির মধ্যে এ সংক্রান্ত এক বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, দুই মোবাইল ফোন অপারেটর যে মামলা করেছে, তারা সেটি প্রত্যাহার করবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আলোচনার মাধ্যমে আমরা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। আশা করছি, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে। বকেয়া সংক্রান্ত যে সমস্যা রয়েছে, সেটি সমাধানে তারাও হারবে না, আমরাও হারব না। তারাও এ দেশে ব্যবসা করবে এবং আমাদের পাওনাও বুঝিয়ে দেবে। এ ক্ষেত্রে আমরাও তাদের সাহায্য করব। তবে আমরা মামলার ঝামেলায় যাচ্ছি না।
তিনি বলেন, তাদের কাছ থেকে প্রতি বছর পাঁচ হাজার কোটি টাকা করে পাই। বকেয়া চার হাজার কোটি নিয়ে বিরোধ। তারা কিছু কিছু ব্যাপারে বিরোধ করছে। আমরা নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করেছি। বিটিআরসির ব্যাপারটি আট হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ভুল বোঝাবুঝির জন্য এ সমস্যা হয়েছে। আমরা দেখছি কোন পদ্ধতি অবলম্বন করলে সমস্যা সমাধান হবে। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আমরা সমাধানে পৌঁছাতে পারবো বলে আশা রাখছি। আলোচনার মাধ্যমে ট্যাক্সে আমরা একটু ছাড় দিতে চাই। এভাবেই একটা সমধানের দিকে আমরা যাচ্ছি।
বিটিআরসির দাবি অনুযায়ী, গ্রামীণফোন ও রবির কাছে প্রতিষ্ঠানটির পাওনা ১৩ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা এবং রবির কাছে ৮৬৭ কোটি টাকা। এ টাকা আদায়ে ব্যান্ডউইডথ সীমিত করা এবং প্যাকেজ ও সরঞ্জামের ছাড়পত্র (এনওসি) দেয়া বন্ধ করে দিয়েছিল বিটিআরসি। তাতে কোনো কাজ না হওয়ায় এরপর ৫ সেপ্টেম্বর দুই অপারেটরকে লাইসেন্স (টু-জি ও থ্রি-জি) বাতিল কেন করা হবে না, তা জানতে চেয়ে চিঠি দেয়া হয়। জবাবের সময় ৩০ দিন। চিঠির পর গ্রামীণফোন বরাবরের মতোই পদক্ষেপটিকে অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেছে। রবি বলেছে, তারা সময়মতো চিঠির জবাব দেবে। সব মিলিয়ে বিষয়টি সহজে সুরাহা হবে, এমন কোনো ইঙ্গিত বিটিআরসি ও দুই অপারেটরের কাছ থেকে মিলছিলো না। বিটিআরসির চিঠির আগেই নিরীক্ষার বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে জেলা দায়রা জজ আদালতে মামলা করেছে গ্রামীণফোন ও রবি। গত ২৫ আগস্ট রবি প্রথমে মামলা করে, পরের দিন মামলা করে গ্রামীণফোন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই গতকালের সভাটি বসে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, মোবাইল ফোন অপরেটররা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখে। কাকতালীয়ভাবে বড় দু’টি অপারেটরের সঙ্গেই দেনা-পাওনা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। তারা জনগণের সেবা করছে ২২ বছর ধরে, এর মধ্যে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।
গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফোলি বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে আমরা সহযোগিতা করছি। এ সুন্দর উদ্যোগের জন্য আমরা সন্তুষ্ট। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এ সমস্যার সমাধান হবে। এটি আমাদের সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা দ্রুত সমাধানে আসতে চাই।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, তাদের কাছে বিটিআরসির পাওনার ৬০ থেকে ৭০ ভাগই ইন্টারেস্ট। তবে আমরা যে চার হাজার কোটি টাকা পাই, সেখানে ইন্টারেস্ট নেই। বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেছিলেন, আগে টাকা দিয়ে আলোচনা করতে হবে। কিন্তু এখন আগে সমাধান দরকার। তারা মন্ত্রীকে কথা দিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব আলোচনার মাধ্যমে এটি সমাধান হবে। সম্পাদনা : প্রিয়াংকা আচার্য্য ও সালেহ বিপ্লব




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]