আতঙ্কে রাজধানীর অধিকাংশ ক্যাসিনো বন্ধ

আমাদের নতুন সময় : 20/09/2019

সুজন কৈরী : ক্রীড়া সংগঠনের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চালানো জুয়ার আসর বা ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে হঠাৎ করেই বুধবার রাতে অভিানে নামে র‌্যাব। একইসঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে রাজধানীতে অর্ধশতাধিক ক্যাসিনোর সন্ধান পেয়েছে আইনশৃক্সক্ষলা বাহিনী বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এরমধ্যে আরামবাগ ও গুলিস্তান এলাকাতেই রয়েছে কমপক্ষে পাঁচটি ক্যাসিনো।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মতিঝিলের ফকিরাপুল ইয়ংমেন্স, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ও মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবগুলো ঘুরে দেখা গেছে, অভিযানের পর এগুলো সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে ক্যাসিনো বোর্ডসহ এগুলোর অন্যান্য মালামাল। ক্লাবগুলোতে আটক সবাইকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। অভিযান চালানো ক্যাসিনোগুলোর আশপাশে উৎসুক জনতার ভিড় ছিল লক্ষণীয়। তাদের বেশিরভাগই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্যাসিনো দেখতে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। মিরপুর এলাকা থেকে মতিঝিলের ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সামনে যাওয়া শামসু মিয়া নামের একজন জানান, এক সময় হাউজির নেশা ছিল। গত রাতে(বুধবার) টিভিতে ক্যাসিনো শুনে খেলার বিষয়টি দেখতে গিয়েছিলেন। কিন্তু র‌্যাবের সদস্যরা কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি।
মতিঝিলের দিলকুশা স্পোর্টং ক্লাব, আরামবাগ ক্রীড়া সংঘসহ আশপাশের ক্লাবগুলোতেও ক্যাসিনো চলে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। অবশ্য গতকাল গিয়ে ক্লাবগুলো বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে দোর্দ- প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের মালিকানায় ক্লাবগুলো চললেও হঠাৎ অভিযানের ভয়ে ক্লাবগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।
গতকাল ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, রাজধানীতে অবৈধ জুয়ার আড্ডা বা কোনো ধরনের ক্যাসিনো চালাতে দেয়া হবে না। এসবের নেপথ্যে যত বড় প্রভাবশালীরাই জড়িত থাকুক না কেন পুলিশ আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর হবে। ইতোমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার জুয়ার বোর্ড ও ক্যাসিনোর তালিকা করার কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি জোনের তালিকা পাওয়া গেছে। অন্য জোনের তালিকাও করা হচ্ছে।
এদিকে রাজধানীর ক্যাসিনোগুলো অপারেট করতে চীন ও নেপাল থেকে দক্ষ লোকদের আনা হয়। প্রতি মাসে বেতনের বিনিময়ে বিদেশিরাই বোর্ড নিয়ন্ত্রণ করে। বুধবারের অভিযানে এমন কয়েকজন নাগরিকের পাসপোর্ট ও নাম ঠিকানা পাওয়া গেছে। র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, আমরা ক্যাসিনোতে বিদেশি নাগরিকদের সম্পৃক্ততা পেয়েছি। তারা চাকরি করেন বলে জানিয়েছে। তবে সত্যি তাদের ওয়ার্ক পারমিট ও ভিসা আছে কিনা, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। না থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]