ছাত্রলীগ আছে ছাত্রলীগেই

আমাদের নতুন সময় : 20/09/2019

খালেদ মুহিউদ্দীন

ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে বদলের সপ্তাহ না পেরোতেই পরীক্ষা ছাড়া ভর্তি ছাত্রলীগ নেতাদের ছাত্রত্ব বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ঘেরাও কর্মসূচিতে হামলা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দুই সহকারী প্রক্টরও উপস্থিতি ছিলেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলছেন, ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেনের অনুসারীরাই ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এই হামলা চালিয়েছে। তারা নারী আন্দোলনকারীদের লাঞ্ছিতও করেছে। অবশ্য সাদ্দাম এ ঘটনায় ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, এটি ‘দু’দল শিক্ষার্থীর মধ্যে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা’। নিকট ও খানিক দূর অতীতের অভিজ্ঞতায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের খুব বেশি কিছু চাওয়ার নেই। ছাত্রলীগের কেউ ‘অ্যাকশনে’ গেলে যে তারা দাঁড়িয়ে থাকবেন এই সত্যের মধ্যে ইদানীং আর নতুনের নুন নেই, নেই সংবাদমূল্য। কিন্তু এতোবড় চাঁদাবাজির কথা জানাজানির লজ্জার মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগ যাচ্ছে, আমাদের আশা ছিলো নিজেদের পাঁক থেকে টেনে তুলতে বা পুরনো মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে তারা অনেক সিরিয়াস হবেন। কিন্তু মনে হচ্ছে ছাত্রলীগ আছে ছাত্রলীগেই। মাঠের রাজনীতির জন্য ময়দানের দখল রাখার জন্য আওয়ামী লীগের হয়তো এখনো ছাত্রলীগের দরকার আছে।আন্দোলন করতে বা নস্যাৎ করে দিতে তরুণ কর্মীরা নিশ্চয়ই একটি প্রয়োজনীয় শক্তি।আবার মাথার উপর বড় দল থাকলে ছাত্রনেতাদের হয়তো উপাচার্য বা কর্তাব্যক্তিদের কাছ থেকে আট-নয় অঙ্কের ঈদের সালামি মিলে। আমার কিন্তু মনে হয় দু’পক্ষেরই বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। প্রথমে ছাত্রদের কথায় আসি। দশ বছরের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে বলে ছাত্রলীগ এখন যতো বড় আর যতো জনাকীর্ণ, অল্প কয়েকজন বাদে অন্যদের দুয়েকটি পিঠ চাপড়ানি বা ঠাÐা বিরিয়ানি ছাড়া আর কিছু পাওয়ার নেই। সামনের দুই-এক বছরে ছাত্রলীগ করা তরুণ-তরুণী আরও বাড়বে, ফলে স্বাভাবিকভাবেই ঈদের সালামির অঙ্ক বড় হলেও ভাগ কমবে, বিরিয়ানির প্যাকেট আরও ছোট বা ঠাÐা হয়ে আসবে। তাই সময়টা এভাবে ইনভেস্ট করবেন কিনা তরুণ বন্ধুরা ভেবে দেখতে পারেন। আর আওয়ামী লীগও আর কতোদিন ছাত্রলীগের দায় নেবে? ছাত্রদের এই সংগঠন তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে আর কেন জরুরি? নিজেদের, দলের বা দেশের যেরকম উন্নয়নই করতে চাওয়া হোক না কেন, এতোদিনে নিশ্চয়ই কর্তাব্যক্তিরা বুঝে গেছেন, ঘরের শত্রæ কী ভীষণ! লেখক : প্রধান, ডয়চে ভেলে বাংলা বিভাগ। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]