• প্রচ্ছদ » » মিলি কাঁদছে, এমন করে কেউ কাঁদতে পারে!


মিলি কাঁদছে, এমন করে কেউ কাঁদতে পারে!

আমাদের নতুন সময় : 20/09/2019

নাদেরা সুলতানা নদী

মধ্যরাতে মূল শহর থেকে এতোটা দূরের নির্জন এই বীচে শুধু সিকিউরটির দায়িত্বে নিয়োজিত গাড়ি এবং লোক ছাড়া কেউ আসে না বললেই চলে। সামারে কিছু ফিসিং লাভার এলেও হয়তো বেছে নেয় উইকেন্ড। উইকডেজ, শীত, কিংবা শীত আসি আসি বা চলে যাওয়া সময়ের রাতের কনকনে হাওয়ায় তো কখনোই নয়। ৩১ অক্টোবর ২০১৮। অস্ট্রেলিয়ার ক্যালেন্ডারের পাতায় স্পিং বা বসন্ত থাকলেও রাতের আবহ বিশেষ করে সৈকতের এই রাতের প্রকৃতি বলছে ‘শীতের হাওয়ায় লাগলো কাঁপন’। আর শীত কাঁপনে হালকা কুয়াশায় মোড়া নির্জন রহস্যঘেরা এই সৈকতে আলো আঁধারে হাঁটছে তিনি বয়সী তিন তরুণী।
মধ্যত্রিশ ছোঁয়া জিনিয়া, নিশাত এবং চল্লিশোর্ধ্ব মিলি। তাদের পরিচয় একই শহরের দুই প্রান্তে থাকা পরবাসী বন্ধু। জিনিয়া, নিশাত একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুবাদে তারা প্রথমে সহকর্মী। মিলি একটু দূরে, কিন্তু একসময় ওদের প্রতিবেশী ছিলো সেই সুবাদে বন্ধুত্ব। এরপর ক্রমশই তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা অঘটনায় একটু বেশিই কাছাকাছি, পরস্পরের পারিবারিক বন্ধু। জিনিয়া নিশাতের সঙ্গে মিলির বয়সের পার্থক্য থাকা সত্তে¡ও সেই বন্ধুত্বের মধ্যমণি বলা যায়। অনেকদিন ধরে মিলি একটু নিজেকে আড়াল রাখছে কেন যেন। জিনিয়া নিশাতও খুব ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে পরিবার নিয়ে। এর মাঝেই প্রায় মাস ৩/৪ তাদের দেখা না হওয়ায়, জিনিয়া নিশাতই প্ল্যান করে মিলিকে একটা সারপ্রাইজ দেবে। হঠাৎ এই দুই বন্ধুকে পেয়ে মিলি খুবই খুশি বলাই বাহুল্য। পরদিন কারও সকালে উঠার তাড়া নেই, তাই গল্প করতে করতেই বাসার বাইরে গিয়ে কফি খাওয়ার ই” থেকেই মাঝ রাতে বের হয়ে আসা এবং বের হয়েই হঠাৎ রাতের এই লং ড্রাইভ যেন তিনজনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অন্য এক তরুণী জেগে উঠে। জিনিয়া দুর্দান্ত ড্রাইভার, ও ড্রাইভিং সিটে থাকা মানে আরোহীরা নিশ্চিন্ত… সী লাভস ড্রাইভিং। গাড়িতে ইউটিউবে কোনো একটা প্লে লিস্ট বাজতে থাকে। ড্রাইভ থ্রæ থেকে কফি নিয়ে জিনিয়া এগোতে থাকে এবং সোজা এসে এই সৈকতের তীরে। না খুব বেশি সময় খোলা জায়গায় থাকা যায় না… ঠাÐায় জমে যাওয়ার অবস্থা হাত-পা। বাধ্য হয়ে গাড়িতে… প্লেলিস্টে এবার গেয়ে উঠে আইয়ুব বাচ্চু ‘আমি কষ্ট পেতে ভালোবাসি, তাই তোমার কাছেই ছুটে আসি’ জিনিয়া নিশাত যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোতে ফিরে যাওয়া, চিৎকার করে গলা মেলায় গানে, মিলি হঠাৎই বিড়বিড় করে বলে… আমি একটু কাঁদবো, তোমরা কিছু প্রশ্ন করো না… মিলির নিঃশব্দ কান্নায় প্রথমে জিনিয়া নিশাত হকচকিয়ে গেলেও, ক্রমশ ওর কান্নার তোড়ে ভেঙে যেতে থাকে রাতের নিস্তব্ধতা। মিলি কাঁদছে, এমন করে কেউ কাঁদতে পারে, কান্না উপচানো ওর বুকের কষ্ট জিনিয়া নিশাতকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়, কিন্তু ওর কষ্টকে ছুঁতে পারে না ওরা কিছুতেই… কিছু সময় মিলিকে থামানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে অপেক্ষায় থাকে… কান্নার এই বান শেষ করে মিলিই নিশ্চয়ই বলবে… কতোখানি মেঘ জমে আজকের এই ঝরঝর বাদল ধারা… নিশাত, মিলির হাত ধরে থাকে শক্ত করে… বলতে থাক কাঁদো, যতোক্ষণ ইচ্ছা কাঁদো তুমি। মিলি একটু ধাতস্ত হয়ে বলতে থাকে, তোমাদের বলা হয়নি, সংসারটা… আমি… ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]