• প্রচ্ছদ » » যুবলীগ চেয়ারম্যান কাকে চ্যালেঞ্জ করলেন?


যুবলীগ চেয়ারম্যান কাকে চ্যালেঞ্জ করলেন?

আমাদের নতুন সময় : 20/09/2019

মোস্তফা ফিরোজ

ছাত্রলীগই যখন গত দশ বছরে তেমন কাজে আসলো না, সেখানে যুবলীগের এমন কি প্রয়োজন? এই প্রশ্নটি হঠাৎ করে মনের ভেতরে জেগে উঠলো যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর আক্রমণাত্মক বক্তব্য শুনে। তিনি ক্ষেপে গেলেন কেন বিরোধী নেতাদের মতো? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন মদ জুয়ার আসর আর ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে প্রশংসনীয় অভিযান চালাচ্ছে তখন হঠাৎ করেই তিনি পাল্টা দেখে নেয়ার হুমকি দিলেন। বললেন, ষাটটি ক্যাসিনো সংলগ্ন পুলিশ ও র‌্যাব গ্রেপ্তার করা হোক। এমন দাবি সম্ভবত বিরোধী দলগুলোও করতে সাহস পান না। তিনি তাদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেছেন, তারা কি এতোদিন আঙ্গুল চুষেছেন?
খুবই অবাক ও হতাশ হলাম যুবলীগ চেয়ারম্যানের কথা শুনে। তিনি কি এই অভিযানের প্রেক্ষাপটটি জানেন না? কার নির্দেশে হচ্ছে এটা কি তিনি বুঝতে পারছেন না? চাঁদাবাজি, কমিশনের টাকা ভাগাভাগি এবং নানা রকমের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ততার জন্য এর আগে ছাত্রলীগের সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক রাব্বানীকে পর্যন্ত দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় যে এটি হয়েছে সেটাও সবার জানা। আবার গত শনিবার দলীয় এক সভায় যুবলীগ ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি স¤্রাট ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ ভ‚ঁইয়ার নাম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন এরা শোভন-রাব্বানীর থেকেও খারাপ। তখনই বোঝা গিয়েছিলো যে, তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেয়া হবে। এর চারদিনের মাথায় রাজধানীর দুষ্কর্মের আখড়া ক্লাবগুলোতে অভিযান শুরু হলো। তার আগে দুপুরে খালেদকে আটক করা হয়। ফলে এটা তো অপ্রত্যাশিত ছিলো না। নাকি অপরাধ জগতের মাফিয়ারা মনে করছিলো যে, তাদের ঘাঁটাতে সরকার এতো সাহস পাবে না?
এটা স্পষ্ট যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আর অনাচার পাপাচার বরদাশত করতে চাচ্ছেন না। তাই তিনি দলীয় ও প্রশাসনিকভাবে নিজ দলের রাজনৈতিক দুষ্টচক্রের বিরুদ্ধে অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন। এমন একটি প্রশংসনীয় অভিযানের জন্য সবাই যখন সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর তারিফ করছেন তখন যুবলীগের চেয়ারম্যানের এমন উসকানিমূলক বক্তব্যের অর্থ বুঝতে পারলাম না। তিনি আসলে কার উপরে ক্ষিপ্ত হলেন? কেন হলেন? তার এখানে কি কোনো স্বার্থের ব্যাঘাত ঘটেছে? ওমর ফারুক জানতে চাইছেন এতোদিন কেন অভিযান চলেনি? উত্তর সহজ, সরকার এতোদিন চায়নি। এখন চাইছে, তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইচ্ছা বা অনিচ্ছা অথবা তাদের সম্পৃক্ততা থাক বা না থাক, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে মাঠে নেমেছে। এখন তো তারা পরিচিতজনদের চিনবে না। এটাই স্বাভাবিক। যুবলীগের চেয়ারম্যান দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে আটক অভিযানকে বিরাজনীতিকরণের ষড়যন্ত্রের আভাসও পেয়েছেন। তাহলে কি দলীয় রাজনীতি ছত্রছায়ায় এমন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক, টেন্ডারবাজি, খুন, ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ কর্ম চলতেই থাকবে? এসবের বিরুদ্ধে অভিযান কি বিরাজনীতিকরণ? দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর অথরিটিকে চ্যালেঞ্জ করা কি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ নয়? ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]