ট্রাম্পের হয়ে নির্বাচনী প্রচার চালানোয় মোদীর ব্যাপক সমালোচনা

আমাদের নতুন সময় : 25/09/2019


আসিফুজ্জামান পৃথিল : আগামী বছরই হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এ নির্বাচনের অন্যতম প্রার্থী বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হিউস্টনে একটি সভা করেছেন। সে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ট্রাম্প। এ শোডাউনে প্রকাশ্যেই ট্রাম্পের পক্ষে নির্বাচনী প্রচার চালান মোদী। তার নির্বাচনী শ্লোগান ‘আবকি বার মোদী সারকারের’ অনুকরণে বলেন, ‘আবকি বার ট্রাম্প সারকার।’ খবর বিবিসি, ফার্স্টপোস্ট, নিউইয়র্ক টাইমসের।
পর্যবেক্ষকরা অনেকেই মনে করছেন, আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হয়ে মোদীর এই প্রচারণা এক অভূতপূর্ব ঘটনা। যদিও ভারতের শাসক দল বিজেপি বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা এই সব সমালোচনা আদৌ গায়ে মাখছে না। টেক্সাসের হিউস্টনে রোববার রাতে প্রায় ৫০ হাজার ইন্দো-আমেরিকান দর্শকের সামনে হাত-ধরাধরি করে নরেন্দ্র মোদী ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য ব্যাপকভাবে হইচই ফেলেছে। কিন্তু অনেকে তার চেয়েও বেশি অবাক হয়েছেন মোদী সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আবার জেতানোর আহ্বান জানানোয়।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মোদী ভারতের বাইপার্টিসান আদর্শকে এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি ইন্দো-আমেরিকানদের একপ্রকার উৎসাহ দিয়েছেন তারা যেনো ডেমোক্রেটদের ভোট না দেন। অথচ ডেমোক্রেটদের ভেতর ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকদের প্রচ- রকমের প্রভাব রয়েছে। মোদী এই প্রভাব ভেঙে ভারতীয় সরকারকে এক ভিন্ন ধরণের মেরুকরণের দিকেই নিয়ে গেলেন। যেটি লম্বা দৌঁড়ে ভারতের কূটনীতির জন্য লাভজনক হওয়ার সম্ভাবনা অতি ক্ষীন। এই ঘটনার পর ভারতের পররাষ্ট্রনীতি যদি দুর্বল হয়ে পরে পুওেরা দায়ই বর্তাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বাক্যবাগিশতার উপর।
দেশ এবং বিদেশ উভয় স্থানেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছেন মোদী। রাজনৈতিক স্ক্রিপ্টে বারেবারে পরিবর্তন এনে দেশে থাকা বিরোধীদের একেবারে কোণঠাসা করে ফেলেছেন মোদী। তিনি একজন ‘পলিটিক্যাল জিনিয়াস’ এতে কোনো সন্দেহ নেই। এটিই তিনি ব্যবহার করলেন ট্রাম্পের পক্ষে। কারণ তিনি জানেন, তার আহ্বানে ইন্দো-আমেরিকানদের অনেকেই রিপাবলিকানদের দিকে ঝুঁকবেন। মোদীর ক্তব্যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কংগ্রেস নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আনন্দ শর্মা টুইট করে প্রধানমন্ত্রীকে মনে করিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ভারতের নীতি বরাবরই ছিল ‘বাইপার্টিসান’। অর্থাৎ রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ভারত কখনোই একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাত দেখায়নি। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পের হয়ে শ্লোগান দিয়ে মোদী আসলে দুই দেশেরই সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক মর্যাদাকেই খর্ব করেছেন।
কংগ্রেস মুখপাত্র ব্রিজেশ কালাপ্পা বিবিসিকে বলছিলেন, ‘এটা তো পরিষ্কার যুক্তরাষ্ট্রের ঘরোয়া রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ। তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয়রা বরাবরই ডেমোক্র্যাটদের সমর্থক, বারাক ওবামাকে তারা খুবই পছন্দ করতেন। সেখানে একজন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট যদি ইন্দো-আমেরিকানদের ভোট জিততেও চান, মোদী কেন তার ফাঁদে পা দেবেন? কই, চীনের নেতারা তো তাদের ডায়স্পোরার কাছে গিয়ে কখনও এরকমটা করেন না!’ বিজেপি এসব সমালোচনা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে বলছে, আসলে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে দাঁড়িয়ে মোদীর অসাধারণ সাফল্যে বিরোধীরা ঈর্ষাণি¦ত বলেই এসব অভিযোগ তুলছে। বিজেপি নেতা সৈয়দ শাহনওয়াজ হুসেন বলেন, ‘একটা সময় ছিলো যখন পাকিস্তান বিদ্রƒপ করে বলত ভারতের প্রধানমন্ত্রী না কি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে গ্রাম্য নারীদের মতো শুধু নালিশ করেন। আর আজ যখন মোদীজির হাতে হাত রেখে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোরেন, তখন কী বার্তা যায়? এটাই যায়, যে ভারত হল মার্কিনিদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত, ভরসা করার বন্ধু। ভারতীয়দের আসলে গর্বিত হওয়া উচিত, তারা এমন একজন নেতা পেয়েছে যিনি ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রে সঙ্গে এক কাতারে নিয়ে এসেছেন।’ সম্পাদনা : রমাপ্রসাদ বাবু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]