বাজারে পেঁয়াজ, ডিম, মুরগিসহ অধিকাংশ পণ্য ও সবজির দাম চড়া, মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস

আমাদের নতুন সময় : 28/09/2019


রমজান আলী : গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাড়ছে সকল প্রকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। দুই সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজ কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা। হঠাৎ করে বেড়েছে ডিম ও মুরগির দাম। পাইকারী বাজারে ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১০-১১৫ টাকা। খুরচা বাজারে এক পিস ডিমের দাম ১০ টাকা। আর ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা।
শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার, রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৪৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৩০-১৩৫ টাকা। বয়লার মুরগির দাম বাড়লেও লাল কক ও পাকিস্তানি লেয়ার মুরগি আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। লাল কক মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২১০-২১৫ টাকা এবং লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৫০-২৬০ টাকা।
বাজার ভেদে ফার্মের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১০-১১৫ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১০০-১০৫ টাকা। আর মুদি দোকানে এক পিস ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৯ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা এবং পিসে ১ টাকা বেড়েছে।
বয়লার মুরগির দাম বাড়ার বিষয়ে খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী মমিনুল বলেন, গরমের কারণে ব্রয়লার মুরগির দাম অনেকদিন কম ছিল। এখন একটু গরম কমায় দাম বাড়তে শুরু করেছে। আমাদের ধারণা, সামনে ব্রয়লার মুরগির দাম আরও একটু বাড়বে।
এদিকে শীতের আগাম সবজি শিমের কেজি গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। ছোট আকারের ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা পিস, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০-৫০ টাকা। গত সপ্তাহে ৪০-৫০ টাকা পিস বিক্রি হওয়া পাতাকপির দাম কমে ৩০-৪০ টাকায় নেমে এসেছে। আর মুলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০-৬০ টাকা কেজি।
শীতের আগাম সবজির সঙ্গে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে লাউ, টমেটো, করলা, গাজর, ঝিঙে, বরবটি, বেগুন, পটল, ঢেঁড়স, উসি, ধুন্দুলসহ সব ধরনের সবজি। ছোট আকারের লাউ আগের সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা পিস।
পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা কেজি। গাজর বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজি। করলা ৬০-৭০ টাকা, বরবটি ৭০-৮০ টাকা, বেগুন ৫০-৬০ টাকা, চিচিংগা, ঝিঙা, ধুন্দুল ৫০-৬০ টাকা, পটল ৪০-৫০ টাকা ও কাঁকরোল ৪০-৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকা কেজি ।
সবজির দামের বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী রিফা বলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শীতের সকল সবজির দাম কমে যাবে। শীতের সবজি বেশি সরবরাহ হলেই দাম কমে যাবে। ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। ফুলকপি, পাতাকপি, মুলার দাম ইতোমধ্যে কিছুটা কমেছে। বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ আরও বাড়বে শিগগির। তাই আশা করা যায়, কিছুদিনের মধ্যেই সবজির দাম কমে আসবে।
এদিকে ভারতীয় পেঁয়জের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার অজুহাতে গত সপ্তাহে হঠাৎ করেই পেঁয়াজের দাম এক লাফে প্রায় দ্বিগুণ হয়। ৫০-৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজের দাম এক লাফে ৮০-৯০ টাকা হয়েছে যায়। পেঁয়াজের এমন দাম বাড়ার প্রেক্ষিতে খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে ট্রেডিং কর্পোরেশন অবস্থা বাংলাদেশ (টিসিবি)।
পেঁয়াজের দামের বিষয়ে মালিবাগের ব্যবসায়ী মশিউর বলেন, কথায় চিড়া ভেজে না। পেঁয়াজের দাম কমাতে হলে বাজারে সরবরাহ বাড়াতে হবে। বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ তো বাস্তবে দেখছি না। টিসিবি যে পেঁয়াজ বিক্রি করছে, সেখান থেকে কয়জন কেনার সুযোগ পাচ্ছে? ঢাকায় যে মানুষ তার এক শতাংশও টিসিবির পেঁয়াজ পাচ্ছে না। তাহলে টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রির প্রভাব কীভাবে বাজারে পড়বে? সম্পাদনা : সমর চক্রবর্তী




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]