ঢাকার তীব্র জ্যামে মুক্তির দূত মোটরবাইক রাইড শেয়ারিং

আমাদের নতুন সময় : 29/09/2019


নূর মাজিদ : রাজধানী ঢাকায় প্রয়োজনের তুলনায় সড়কপথের সংখ্যা কম। অন্যদিকে দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সকল কেন্দ্র ঢাকাতেই অবস্থিত হওয়ায় নগরীর জনসংখ্যাও দিন দিন বেড়েছে। যার সঙ্গে পাল¬া দিয়ে বাড়ে যানবাহনের সংখ্যা। দীর্ঘ যানজট, রাস্তা দখল করে পার্কিং, সরকারি- বেসরকারি পরিবহনের দুরাবস্থা সবমিলিয়ে দিনের কর্মব্যস্ত সময়ে নগরীর এক প্রান্ত থেকে ওপর প্রান্তে চলাচল এক দুঃস্বপ্নের ব্যাপার। এই ভয়াবহ সংকটেই যেন মুক্তির দূত হয়ে এসেছে ভাড়ায় মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন সেবা। বাংলাদেশের রাজধানী শহরে প্রতিদিনই যার জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। খবর : রয়টার্স।
ঢাকা জনসংখ্যায় ঠাসা এক খাঁচা। কমপক্ষে আড়াই কোটি মানুষের স্থায়ী আবাস। বিশ্বব্যাংকের ২০১৭ সালের এক গবেষণা অনুসারে, যানজটে ঢাকায় প্রতিদিন ৩২ লাখ কর্মঘণ্টার অপচয় হয়। কারণ এখানে যানবাহনের গড় গতি প্রায় কচ্ছপ প্রকৃতির, বা ঘণ্টায় মাত্র ৭ কিলোমিটার। অথচ, মাত্র এক দশক আগেও এই গড় গতি ছিলো ২১ কিলোমিটার। অর্থাৎ, পরিস্থিতির অবনতি এবং নাগরিক দুর্ভোগ এখন প্রাত্যহিক ব্যাপার। ব্যতিক্রম হলেই বরং ঢাকার মানুষ অবাক হন এখন।
এই অবস্থায় ঢাকায় প্রথম কার ও মোটরসাইকেল যোগে রাইড শেয়ারিং চালু করে উবার। কম ভাড়া এবং সহজে যানজট ঠেলে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুবিধা পেয়ে মোটরসাইকেল সেগমেন্টটি মানুষের কাছে বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এরপর উবারের দেখাদেঝি স্থানীয় অনেক কো¤পানি এই ব্যবসা করছে। এদের মধ্যে উলে¬খযোগ্য পাঠাও, সহজ এবং ও’ভাই ইত্যাদি। এখন দৈনিক কমপক্ষে একলাখ গ্রাহক এসব কো¤পানির রাইডারদের সেবা নিচ্ছেন। বাইকে করে সরূগলি, যানজটের ফাঁক দিয়ে রাস্তা বের করে বাইকাররা নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছেন যাত্রীদের।
বেসরকারি এক সংস্থার কর্মী খাদিজা খাতুন, যিনি প্রায়ই রাইড শেয়ারিং সেবা নেন। তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘বাইক শেয়ারিং আমার জন্য খুব সুবিধা করে দিয়েছে। এখন আমি সময়মতো যে কোন স্থানে যেতে পাড়ি।’
বাংলাদেশ পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউডের ২০১৮ সালের এক গবেষণা অনুসারে, দেশে রাইড শেয়ারিংখাতের বাজার ২ হাজার ২শ কোটি টাকা, যা দেশের পরিবহনখাতের মোট বাণিজ্যের ২৩ শতাংশ। এই সাফল্য অবিশ্বাস্য, কারণ পুরো এক দশক হওয়ার আগেই অনলাইন এই সেবা এশিয়ার অন্য কোন দেশেই এতো ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেনি।
স্থানীয় রাইড শেয়ারিং কো¤পানি পাঠাও-এর শীর্ষ নির্বাহী হাসান এম. ইলিয়াস রয়টার্সকে বলেন, ‘এখন আমাদের নিয়মিত গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ। প্রায় ২ লাখ চালক আমাদের সেবা দেয়ার লক্ষ্যে নিবন্ধন নিয়েছেন। একই দূরত্বের পথে আগে যেখানে মানুষকে বাস ও রিক্সায় যাতায়াতে ঘণ্টাদুয়েক সময় নষ্ট করতে হতো, এখন সেখানে বাইকে খুব বেশি হলে ৪০ মিনিট সময় লাগছে। এটা শুধু মানুষের সময় বাঁচাচ্ছে তাই না বরং দেশের উৎপাদনশীলতাও বাড়াচ্ছে।’ সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]