পেঁয়াজের দামে নাভিশ্বাস নগরবাসীর ব্যবসায়ীদের কারসাজিকে দুষছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

আমাদের নতুন সময় : 02/10/2019

স্বপ্না চক্রবর্তী : ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের ঘোষণার ৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় হঠাৎ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। তবে দাম নিয়ন্ত্রণে বাজারে বিশেষ মনিটরিং টিম নামালেও দাম বাড়ার এ ঘটনাকে ব্যবসায়ীদের কারসাজি বলে দাবি করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’র ৩৫ টি ট্রাকে রাজধানীতে ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ সরবরাহ করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল দাবি করে ট্রাকের পরিমাণ আরও বাড়ানোর দাবি করেছেন সাধারণ মানুষ।
গতকাল মঙ্গলবার টিসিবি’র ট্রাকগুলোর সামনে দেখা যায়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও পেঁয়াজ না কিনেই ক্রেতারা বাড়ি ফিরছে হচ্ছে। অনেকে আবার মাত্র দুই কেজি পেঁয়াজ হাতে পেয়েও অসোন্তষ্টি নিয়ে ফিরেছেন বাড়ি। এ ব্যাপারে টিসিবি’র মুখপাত্র মো. হুমায়ুন কবির জানান, প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম মাত্র ৪৫ টাকা হওয়ায় ট্রাক থেকে পেঁয়াজ কিনতে ভীড় জমাচ্ছেন লোকজন। কিন্তু আমাদের সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা এই সংখ্যা আর বাড়াতে পারছি। প্রতি একজন মানুষ ২ কেজি করে পেঁয়াজ কিনতে পারছেন। ৪ জনের পরিবারের ২ সপ্তাহ চলার জন্য তা যথেষ্ট বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে ক্রেতাদের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে আগামীতে আরও বেশি স্থানে পেঁয়াজ বিক্রি করার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে পেঁয়াজের যথেষ্ট সরবরাহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন। তিনি বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রতিদিনই মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ আসছে। আশা ২/১ দিনের মধ্যে বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তিনি দাবি করেন পাইকারি পর্যায়ে দাম কিছুটা কমলেও খুচরা বাজারে কিছু ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণে দাম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই কারসাজি নিয়ন্ত্রণে ইতমধ্যে ১০ টি জেলায় আমাদের ১০ জন যুগ্মসচিব চলে গেছেন। তাদের নেতৃত্বে বিশেষ মনিটরিং টিম বাজারে অভিযান চালাচ্ছে। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের খুচরা পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মনজুর মিয়া বলেন, আজও আমাদের ১০০ টাকা থেকে ১১০ টাকা পাইকারি দরে পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে। তাহলে তো আমাদের ১২০ টাকার নিচে বিক্রি করার কোনো উপায় নাই।
পাইকারি ক্ষেত্রে পেঁয়াজের বাড়তি দাম আদায়ের ব্যাপারটি স্বীকার করে কারওনবাজারের খান এন্ড সন্স বাণিজ্যলয়ের স্বত্ত্বাধিকারী লোকমান হোসেন বলেন, গত কয়েকদিন আগে আমাদের কাছে সরবরাহ একেবারেই কম ছিলো। তাই আমরা বাধ্য হয়ে দেশি পেঁয়াজ ১ শ থেকে ১১০ টাকা দরে পাইকারি হারে বিক্রি করেছি। আজও (গতকাল) আমরা দেশি পেঁয়াজ ১ শ থেকে ১ শ ৫ টাকায় বিক্রি করেছি। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি করেছি ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়। তবে চাহিদা কম থাকায় বিক্রি অর্ধেকে নেমে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। এভাবে চাহিদা কমতে থাকলে দুই একদিনের মধ্যে দাম কমাতে বাধ্য হবেন বলে জানান তিনি। সম্পাদনা : সমর চক্রবর্তী




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]