রূপালি ইলিশের পদ্মার কাছে হেরে গেলো গঙ্গা

আমাদের নতুন সময় : 05/10/2019


রমাপ্রসাদ বাবু : দীর্ঘ ৭ বছর পর পদ্মার ইলিশ পাতে পেলেন কলকাতার মানুষ। এ নিয়ে এতোদিন আফসোসের অন্ত ছিল না তাদের। ভারত ও পশ্চিমবঙ্গ বারবার দাবি জানালেও তাদের সে দাবি ছিল উপেক্ষিত। তবে দুর্গা পূজা উপলক্ষে ভারতে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, বুধবার কলকাতার খাস গড়িয়াহাটের বাজারে সেই বহুল আকাঙ্খিত ইলিশের দেখা মিললেও সংশয়ের শেষ নেই। মৎস্য ব্যবসায়ী সমীর ঘোড়–ইয়ের কাছে ৬০০-৭০০ গ্রাম থেকে এক কেজির ইলিশ যেন ‘পদ্মার অতিথি’। প্রতি কেজির দাম কমবেশি হাজার টাকা। গৌর সাহার কাছে কেজি- হাজার দেড়েক। আবার কেউ কেউ ডায়মন্ড হারবার বা সাগর থেকে আনা দু’চার পিস পেল্লায় ইলিশকে ‘বাংলাদেশি’ বলে চালাচ্ছেন। কে খাঁটি পদ্মাবাসী বা বাংলাদেশি? পারলে সদ্য বাজারে আসা ইলিশের জন্যও রাজ্যে ‘এনআরসি’ তৈরি হয়!

এবার কলকাতা-শিলিগুড়িতে পদ্মার ইলিশ আমদানির রূপকার, হাওড়ার ডাকসাইটে ইলিশ-কারবারি সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদের চোখে, সাগরের ইলিশ লম্বা-পাতলা। বাংলাদেশি ইলিশ মোটা, গোল ভাব। পদ্মার ইলিশের ‘গ্লেজ’ই (জৌলুস) আলাদা। এ কথা শুনে হাসেন বাঙালির ইলিশপ্রেমের ত্রিকালদর্শী সাক্ষী অমলেশ চৌধুরী। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞানের এই অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপকের মতে, ইলিশই নেই গঙ্গায়, তার আবার রূপগুণ! বাইরের রূপে ইলিশের ফারাক বোঝা কঠিন। তবে ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে সাগর থেকে নদীর মিষ্টি জলে ঢুকলে ইলিশের অন্তর-বাহিরে নানান পরিবর্তন ঘটে যায়। তাতেই ইলিশের স্বাদ-রহস্য।
সাগর থেকে নদীমুখী ইলিশ এই বর্ষায় গঙ্গাবিমুখ হওয়ায় হাহুতাশ শোনা যাচ্ছে অনেক দিন ধরেই। ইলিশ মেঘনা হয়ে বাংলাদেশে ঢুকলেও পশ্চিমবঙ্গের বিধি বাম। ফলে পথে বসেছেন এ-পাড়ের মৎস্যজীবীরা। ইলিশের এই বিচিত্র খেয়াল নিয়ে ঘুরেফিরে জেলেদেরই দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞেরা। মোহনার মুখেই এখন মাছধরা জালের ফাঁদ। মেঘনার মোহনায় তবু চলাচলের পথ ধরছে ইলিশ। এ অঞ্চলে ‘ইলিশ করিডোর’ কার্যত অস্তিত্ব নেই বলে জানালেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অধ্যাপক। তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে গঙ্গার মোহনার সঙ্গে মেঘনার মোহনার তুলনাই হয় না। সাগরের কাছে মোহনা ৩০ কিলোমিটার চওড়া। হলদিয়া, ডায়মন্ড হারবার, বজবজ থেকে বাগবাজার— ক্রমশই তা ছোট হচ্ছে। আর মেঘনার মোহনা থেকে বরিশালের মুখ পর্যন্ত পৃথিবীর সব থেকে বড় মোহনা। অন্তত ১২০ কিলোমিটার চওড়া। ফলে বাংলাদেশে ইলিশ-শিকারের হিড়িক যেমন আছে, ইলিশের পদ্মামুখী হওয়ার পরিসরও পর্যাপ্ত।
তিনি আরো জানান, এখন ইলিশের গঙ্গায় ঢোকার সুযোগই নেই। ফরাক্কায় বাঁধ তৈরির পর থেকেই ভাগীরথীতেও ইলিশ-স্রোত কমেছে। আগে নদীর গভীরতা ছিল। মিষ্টি জলের প্রবাহটা এখানেই ভাল ছিল। এখন নেই। উল্টো দূষণ বেড়েছে। ফলে পদ্মার কাছে গঙ্গার ইলিশের হার অনিবার্য।
ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা আনোয়ার জানান, প্রথম তিন দিনেই ১৫০ টন ইলিশ এসেছে পশ্চিমবঙ্গে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]