বাহারি ফুলের হাট শাহবাগ

আমাদের নতুন সময় : 06/10/2019

শাহীন খন্দকার : গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন নগরবাসী। কিন্তু ঘুম নেই শুধু ফার্মগেট খামার বাড়ি ও শাহবাগ, আগারগাঁও, গুলশান ডিসিসি মার্কেট, বনানী কাঁচাবাজার, যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকার কিছু মানুষের চোখে। অনেক ব্যস্ততা তাদের। এব্যস্ততা ফুলের সুগন্ধ ফেরি করার জন্য। আনন্দ, আহ্লাদ আর পবিত্রতার প্রতীক নানা রঙের বাহারি ফুলের বেচাকেনায় ব্যস্ত মানুষগুলো দিন-রাতের পার্থক্যই যেন ভুলে গেছেন। রাত যতো গভীর হয়ে উঠে রাজধানীর ফুলের বাজারগুলো ফুলে ফুলে ভরে উঠে ।
সরেজমিন রাজধানীর শাহবাগের পাইকারি ও খুচরা ফুলের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফুল দোকানের সামনে ফুল আর ফুলের তোড়া থরে থরে সাঝিয়ে রেখেছেন ব্যবসায়ীর। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী ও ভাসমান ফুল ব্যবসায়ীদের ভিড় শাহবাগের ফুলের দোকানে। ব্যবসায়ীরা ছাড়াও সাধারণ মানুষ আগে থেকে ফুল কিনতে চলে এসেছেন, উপস্থিতিও বেশ। গত মঙ্গলবার রাতে পুরান ঢাকা থেকে বাসায় ফেরার পথে শাহবাগ, খামার বাড়ি ও আগারগাঁও দেখা যায়, সারি সারি ট্রাক-পিকআপভ্যান ও বাসের ছাদ থেকে নামানো হচ্ছে গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা, গাজেরা, লহর, ভুট্টা, কাটবেলী, বাহারি ফুলের গাইট। বাতাসেও এসব ফুলের ঘ্রাণ চারিপাশ যেনো সুন্দর পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে।
ফুলের হাটে ফুল ব্যবসায়িদের নিকট জানতে চাইলে বলেন, এসব ফুলের মধ্যে গাঁদা ফুল, গোলাপ ও রজনীগন্ধা যশোর ও ঝিনাইদহ থেকে চাষীরা নিয়ে এসেছেন । আর মানিকগঞ্জ ও ঢাকার আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছে কিছু গোলাপ, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস, গাজেরা, লহর, ভূট্টা এবং কাটবেলী ফুল।
পাইকারি-বিক্রেতাদের যেন কথা বলারও কোনো সময় নেই। ফুল নামানো আর গুণে গুণে সারিবদ্ধভাবে সাজাতে ব্যস্ত সবাই। কারণ, সকাল হওয়ার আগেই বেচাকেনা শেষ করতে হবে। এই ফুলগুলো আবার সরবরাহ করা হবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। ক্রেতা ও বিক্রেতারা জানান, রাত ২টার পর থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ফুলের চালান আসে। আর সকাল ৯টার মধ্যেই পাইকারি কেনাবেচা শেষ হয়ে যায়। তবে বিভিন্ন দিবসে বেচাকেনা জমে উঠে বলে জানান তারা। খামার বাড়িতে ফুল ব্যবসায়ী সবুজ মিঞা জানান, গোলাপ ফুল প্রতি মোটা একশ’ পিস ১০০-১৫০ টাকা, রজনীগন্ধা ৩০০ টাকা, গ্লাডিওলাস ১হাজার থেকে ১হাজার ২শত টাকা, কাটবেলী ৫ শত থেকে ৬শত টাকা, লহর ১শত টাকা, ভুট্রা ৬শত টাকা এবং গাজেরা প্রতি পিচ ২০ টাকা করে কেনা হচ্ছে। তিনি জানান, এ ফুলগুলো আবার ঢাকার বাইরে থেকে আসা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হবে।
রাজধানীর শাহবাগে সবচেয়ে বড় ফুলের বাজার। এখানে ফুলের দোকান ১৩০টি এবং খুচরা বিক্রেতা আছে আরও শতাধিক। অনুসন্ধানে জানা যায় ভালোবাসা দিবস, ২১ ফের্রুয়ারী, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে রাজধানী ঢাকায় কয়েক কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে তার সিংহভাগই হবে শাহবাগে।
শাহবাগের অনন্যা পুষ্প বিতানের মালিক লোকমান হোসেন বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রাজধানীর শাহবাগসহ অন্যান্য ফুল বাজারে ট্রাক ভর্তি ফুল আসে সবচেয়ে বেশী শীত মৌসুমে। এ বছর হঠাৎ করেই সাভারের সাদুল্লাপুর ফুল বাগানে অজানা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় সেখানে ফুল উৎপাদন কম হয়েছে। যার কারণে এবার ফুলের দাম গত বছরের তুলনায় এবার একটু বেশী। যশোরের গদখালি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে দিবসগুলোকে কেন্দ্র করে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ফুল বাণিজ্য হয় প্রতি বছর। সম্পাদনা : আবদুল অদুদ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]