রেলপথের জমি উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে, বললেন রেলমন্ত্রী

আমাদের নতুন সময় : 06/10/2019

শাহীন খন্দকার : রেলওয়ের অবৈধ জমি দখল উদ্ধার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। যে সব দখলদার রেলওয়ের জমি উদ্ধারের বিপরীতে ইনজেংশন জারি করেছেন, সেই সব আইনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। কোর্টের মাধ্যমে ইনজেংশন জারি করে যাতে সরকারের সম্পত্তি দখলে না রাখতে পারে, সেই লক্ষে খুবই দ্রুত সরকার ভুমি আইন পাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে মন্ত্রী জানান, সরকারি জমি রাষ্ট্রীয়  কাজে ব্যবহার করা হবে। কেউ অবৈধভাবে নিজের দখলে রাখতে পারবে না। ইতিমধ্যে জমি উদ্ধারের কাজও রেলপথ মন্ত্রণালয় শুরু করেছে।
ব্রিটিশ শাসনামলের বেঙ্গল রেলওয়ের উত্তরাধিকার সূত্রে বিশাল ভূসম্পদ পেয়েছে রেলওয়ে। তাই দীর্ঘ কয়েক দশকে বেদখলের খপ্পরেও পড়েছে এ প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি। রাজনৈতিক দলনেতা, ব্যবসায়ী, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, এমনকি সরকারি সংস্থার নামও রয়েছে এর দখলদারের তালিকায়। রেলওয়ের হিসাবে সংস্থাটির ৬১ হাজার ৮৬০ একর জমির তিন হাজার ৮৪১ একর জমি বেদখল হয়ে গেছে। গায়েব হয়েছে এক হাজার ৮৪১ একর জমি। কোনো দলিল-নথিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এসব জমির। রেলের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। তবে নব্বইয়ের দশকে অনেক রেলপথ ও স্টেশনে রেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিত্যক্ত এসব সম্পদ দখল হয়েছে বেশি। রেলের জমি ‘বিক্রি’ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
রেলের জমিকে আধুনিক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে শেলটেক কনসালট্যান্ট লিমিটেডকে জরিপের কাজ দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে জরিপ প্রতিবেদন দেয় শেলটেক। রেলের নথিতে জমির পরিমাণ ৬১ হাজার ৮৬০ একর হলেও শেলটেক জরিপে মিলেছে ৫৯ হাজার ৭৫৫ একর। এক হাজার ৮৭১ একর জমির কোনো দলিল-নথি পাওয়া যায়নি। তবে শেলটেকের কাজে সন্তুষ্ট নয় রেলওয়ে। নতুন পরামর্শক নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। সুত্র : সমকাল
এদিকে রেলের সূত্র জানাচ্ছে, দখলদাররা ‘হারিয়ে যাওয়া’ এক হাজার ৮৪১ একর জমির দলিল, পর্চা ও নথি গায়েব করেছে। এর সঙ্গে রেলের কর্মকর্তারাও জড়িত। তারাই রেলের ভূ-সম্পত্তির দলিল অফিস থেকে গায়েব করে ফেলেছেন। আর দখলদাররা নিজেদের নামে জমি রেকর্ড করে নিয়েছে।
চাইলেও জমি উদ্ধার করা যায় না। দখলদাররা মামলা করে, আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে দখল পোক্ত করেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের আওতাধীন চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাাম্মণবাড়িয়ার গঙ্গাসাগর এলাকা নিয়ে রেলের চট্টগ্রাম বিভাগ। সুত্র : যুগান্তর
চট্টগ্রাম বিভাগে রেলের মোট ভূ-সম্পত্তির পরিমাণ ৭২ হাজার ৭১.৭৩ একর। এরমধ্যে রেলওয়ে স্টেশন, রেল লাইনসহ অপারেশনাল কাজে ব্যবহৃত হয় ৪ হাজার ৩৯৬ একর। অবশিষ্ট ২৮ হাজার ৭৫.৭৩ একর ভূমি রেলের কোনো কাজে ব্যবহৃত হয় না। এরমধ্যে ১৫ হাজার ৭৮.২৬ একর ভূমি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের জন্য ইজারা দেয়া হয়েছে ৪শ ৫৪.৬২ একর। কৃষি কাজের জন্য ইজারা দেয়া হয়েছে ৯শ ৮.৪৭ একর। মৎস্য খাতে দীঘি ও পুকুর হিসেবে ইজারা দেয়া হয়েছে ১শ ৭০.৩৩ একর। নার্সারীর জন্য ইজারা দেয়া হয়েছে ১.৬১ একর। সিএনজি স্টেশনকে ইজারা দেয়া হয়েছে ৫.৫৯ একর। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেয়া হয়েছে ৩৭.৬৪ একর। এর বাইরে অন্তত তিন হাজার কোটি টাকার ১শ ৬৯.৮২ একর ভূমি অবৈধ দখলদারদের কবলে আছে। সম্পাদনা : আবদুল অদুদ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]