• প্রচ্ছদ » সাবলিড » জাতীয় ছাত্রসমাজ থেকে ঢাকা দক্ষিণের যুবলীগ সভাপতি সম্রাট


জাতীয় ছাত্রসমাজ থেকে ঢাকা দক্ষিণের যুবলীগ সভাপতি সম্রাট

আমাদের নতুন সময় : 07/10/2019

মাসুদ আলম : ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে স¤্রাট। এরশাদের জাতীয় পার্টির ছাত্র সংগঠন ছাত্রসমাজের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা ছিল। পরে ১৯৯০ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগে যোগ দেন। এরপর ৯৩ সালে ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ২০০৩ সালে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। সে সময় দক্ষিণের সভাপতি ছিলেন মহিউদ্দিন আহমেদ মহি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন। মূলত শাওনই স¤্রাটকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতেন। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ঢাকা সিটি কর্পোরশনের দরপত্র নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। পরবর্তীতে ২০১২ সালে স¤্রাট ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি হন। এরপর আর তার পেছনে তাকাতে হয়নি।
সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রয়েছে অঢেল সম্পদ। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ক্যাসিনো কা-, দখলবাজি, সব জায়গায় খবরদারি চালাতেন স¤্রাট। সব সময় নেতাকর্মী-সমর্থক বেষ্টিত থাকেন। আন্ডারওয়ার্ল্ডে তার একচ্ছত্র দাপট। এককথায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণের স¤্রাট বলা হতো তাকে।
জানা গেছে, স¤্রাটের পৈত্রিক নিবাস ফেনীর পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের পূর্ব সাহেবনগর গ্রামে। তার বাবা নাম ফায়েজ উদ্দীন চৌধুরী রাজউকের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ছিলেন। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার বড় স¤্রাট। বাবার চাকরির সুবাদে ঢাকাতে বড় হন স¤্রাট। পরিবারের সঙ্গে প্রথমে বসবাস করতেন কাকরাইলে সার্কিট হাউস সড়কের সরকারি কোয়ার্টারে। ২০০৬ সালের পর যখন ওয়ান ইলেভেন আসে সেই সময় সম্রাট আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন। যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নিজস্ব কোনও কার্যালয় না থাকলেও স¤্রাট দায়িত্ব নেওয়ার পর কাকরাইলে রাজমনি সিনেমা হলের উল্টো দিকে বিশাল এক ভবনের পুরোটাজুড়ে অফিস শুরু করেন। সাংগঠনিক কাজের কথা বলা হলেও এখানে বসেই স¤্রাট ক্যাসিনো ব্যবসা থেকে শুরু করে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এখানে থাকতো তার কর্মী বাহিনী ও অপকর্মের সঙ্গীদের আনাগোনা। যুবলীগ নেতা খালেদ ও জিকে শামীমের গুরু হিসেবে পরিচিত স¤্রাট। স¤্রাট সাংগঠনিক কর্মকা-ে চেয়ে অর্থ উপার্জনের দিকেই বেশি মনোনিবেশ করতেন। আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতা ও যুবলীগ চেয়ারম্যান ছিল তার ক্ষমতার প্রধান উৎস।
দক্ষিণ যুবলীগের এক নেতা বলেন, স¤্রাটের বড় ভাই বাদল চৌধুরী তার ক্যাসিনো ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। ছোট ভাই রাশেদ ছাত্রলীগের রাজনীতি করেন। স¤্রাটের নেশা ও ‘পেশা’ জুয়া খেলা। তার চাঁদাবাজি ও জুয়ার টাকা দক্ষিণের অধিকাংশ নেতাই পেতেন। তার টাকায় অনেক নেতাকর্মী এখন কোটিপতি। দৈনিক তার আয় ছিলো প্রায় কোটি টাকা। প্রতি মাসে সিঙ্গাপুরে যেত জুয়া খেলতে। সেখানেও স¤্রাট ভিআইপি জুয়াড়ি হিসেবে পরিচিত। সিঙ্গাপুরের চেঙ্গি এয়ারপোর্টে তাকে রিসিভ করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও ছিলো। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]