• প্রচ্ছদ » » ‘তুই’, ‘তুমি’, ‘আপনি’ এবং আমিও বেয়াদব!


‘তুই’, ‘তুমি’, ‘আপনি’ এবং আমিও বেয়াদব!

আমাদের নতুন সময় : 07/10/2019

আকতার বানু আলপনা

স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়Ñসবখানেই স্যার-ম্যডামরা আমাদের ‘তুমি’ বলেছেন। স্কুলে কোনো কোনো শিক্ষক ‘তুই’ও বলতেন। আমার কখনো সেটা খারাপ লাগেনি। বরং ভালোই লাগতো। কলেজের শিক্ষকরাও তুমিই বলতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু একজন শিক্ষক (সুফী স্যার) আমাদের ‘আপনি’ করে বলতেন। তবে আমাদের সেটা শুনতে ভালো লাগতো না। বরং অস্বস্তি বোধ করতাম। এর কারণ হলো আমাদের কালচারে বড়রা ছোটদের তুমিই বলেন। এটাই ভদ্রতা। এটাই আদব। এর বিপরীতটাই বরং বেয়াদবী। আর সেই বড় বা গুরুজন যদি শিক্ষক হন, তাহলে তিনি কোনোমতেই তার শিক্ষার্থীদের ‘আপনি’ বলবেন না। বললে সেটাই বরং শিক্ষার্থীদের প্রতি তামাশা বা অপমানের মতো শোনায়। আমাদের পাঠ্যবইগুলোতেও শিক্ষার্থীদের ‘তুমি’ বলেই সম্বোধন করা আছে। যেমনÑ ‘এসো নিজে করি।’ শিক্ষার্থীরা এখনকার শিক্ষকদের আগের মতো শ্রদ্ধা করে নাÑ এটা অতি সত্যি কথা। তবে আমার মতে এর কারণ ‘তুমি’ সম্বোধন নয়। আমার বিবেচনায় তার কিছু কারণ আছে। যথা : ১. ঠিকমতো ক্লাস না নেয়া, পড়া বোঝাতে না পারা, ফলাফল দিতে দেরি করা, ক্লাসে দেরিতে আসা, ভালো বিষয়জ্ঞানের অভাব, সব শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতে না পারা। (ফাঁকিবাজ শিক্ষকদের শিক্ষার্থীরা সাময়িকভাবে পছন্দ করলেও পরে ঘৃণা করে)। ২. ক্লাসে ঠিকমতো না পড়িয়ে প্রাইভেটে পড়িয়ে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে হাত পেতে টাকা নেয়া। ৩. নানা অনিয়ম, অনৈতিক কাজকর্ম, লোভ ও অব্যবস্থাপনার সঙ্গে শিক্ষকদের সম্পৃক্ত হওয়া। নানা অন্যায় মেনে নেয়া বা নিতে বাধ্য হওয়া। ৪. নিজ দলের ছাত্রছাত্রীদের নানা অনৈতিক সুবিধা দেয়া বা তাদের নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করা। ৫. শিক্ষার্থীদের প্রতি নানা পক্ষপাতমূলক আচরণ করা। যেমনÑ যেসব শিক্ষার্থীরা কোনো শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ে, তাদের ওই শিক্ষক কর্তৃক প্রশ্ন আউট করে দেয়া বা নম্বর বেশি দেয়া। অনৈতিকভাবে নিজের পছন্দের শিক্ষার্থীদের নম্বর বেশি দেয়া, চাকরি দেয়া, নানা সুবিধা দেয়া ইত্যাদি। ৬. তাদের মর্যাদার উপযুক্ত বেতন, সুবিধা না দিয়ে নানাভাবে শিক্ষকদের মর্যাদাহানি করা। তাদের চেয়ে কম মর্যাদার লোকেদের দ্বারা শিক্ষকদের উপর খবরদারি করার সুযোগ তৈরি করে দেয়া। ৭. শিক্ষকদের প্রতি সমাজের মানুষদের, বিশেষ করে ক্ষমতাবান মানুষদের অশ্রদ্ধা করা, যা দেখে শিক্ষার্থীরাও শিক্ষকদের অশ্রদ্ধা করতে শেখে ইত্যাদি। ড. সলিমুল্লাহ খানের কথামতো আমিও বেয়াদব। কারণ আমিও অনার্সের ছেলেমেয়েদের ‘তুমি’ বলি। তবে বিএড, এমএড এবং এমফিল, পিএইচডি শিক্ষার্থীদের বলি না। বলি না তাদের বয়সের কারণে। অন্য কোনো কারণে নয়। বিদেশের কালচারের সঙ্গে আমাদের কালচারের সব কিছু মেলে না। শিক্ষকরা হলেন সমাজের সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি, সবার নমস্য, সবার আদর্শ। তাই শিক্ষকদের তাদের যোগ্য সম্মান, বেতন, সুবিধা ইত্যাদি দিতে হবে। সমাজে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে হবে। সেইসঙ্গে শিক্ষকদেরও সততা, নৈতিক মনোবল, নির্লোভ মনোভাব, শিক্ষকতা পেশার প্রতি ভালোবাসা, আন্তরিকতা থাকতে হবে এবং নিজেদের পেশাদারিত্ব বাড়াতে হবে। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে পৃথিবীর সব ভালো শিক্ষকদের প্রতি জানাচ্ছি অশেষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। একইসঙ্গে যেসব কুলাঙ্গার শিক্ষক ও লোকজন শিক্ষকতার মতো মহান পেশাকে নানাভাবে কলুষিত করেছেন তাদের প্রতি ঘৃণা জানাচ্ছি। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]