• প্রচ্ছদ » লিড ১ » বুয়েট ছাত্র আবরারকে পিটিয়ে হত্যা, বিক্ষোভ, ৯ ছাত্রলীগ নেতা আটক


বুয়েট ছাত্র আবরারকে পিটিয়ে হত্যা, বিক্ষোভ, ৯ ছাত্রলীগ নেতা আটক

আমাদের নতুন সময় : 08/10/2019

মাসুদ আলম : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের(বুয়েট) একটি হল থেকে সোমবার ভোরে আবরার ফাহাদ নামের এক ছাত্রের লাশ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নয়জন ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে যে ঐ ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়। তিনি আরো জানান, এটি যে হত্যাকা- সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকতেই পারে। কিন্তু তদন্তে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারবে না। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে খুনিদের শনাক্ত করা হচ্ছে।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন বিবিসিকে জানান, সোমবার ভোরে শেরে বাংলা হলের সিঁড়ি থেকে একজন ছাত্রের লাশ উদ্ধার করে তারা। সোহরাব হোসেন জানান, আমরা ধারণা করছি রাত দুইটা থেকে আড়াইটার দিকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আমরা মরদেহ উদ্ধার করেছি ভোরে।’
রোববার গভীর রাতে শের-ই-বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পরে একতলা থেকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির মাঝে আবরারের লাশ ফেলে রাখা হয়। আবরার তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। যে রুমটিতে আবরারকে হত্যা করা হয় সেখান থেকে চারটি খালি মদের বোতল, চারটি ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প, একটি চাপাতি, দুটি লাঠি উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে সোমবার আবরার হত্যার বিচার দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে সহপাঠী ও শিক্ষার্থীরা। ঢাবিতেও মিছিল করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এসময় ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ এবং ‘জানি বিচার চেয়ে লাভ নেই তবুও আবরার হত্যার বিচার চাই’ বলে স্লোগান দেয় বিক্ষোভকারীরা। ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির দাবি জানান তারা। আজ মঙ্গলবারও বিক্ষোভ এবং মানববন্ধন করবে সহপাঠী এবং শিক্ষার্থীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন আবরার। সেটি বুয়েট শাখার গ্রন্থনা ও গবেষণা সম্পাদক ইশতিয়াক মুন্নার নজরে আসে। তিনি একই বুয়েট শাখা ছাত্রলীগ সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু, উপ দফতর সম্পাদক মোস্তফা রাফি, উপ সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, উপ আইন সম্পাদক অমিত সাহা, ক্রীড়া সম্পাদক মেজবাউল ইসলাম জিয়ন ও তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকারকে বিষয়টি জানিয়ে আবরারকে ডেকে আনার নির্দেশ দেন। এদের মধ্যে দুইজন রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর আবরারকে ডেকে ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে নেওয়ার পর আবরারের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নেওয়া হয়। তার ফেসবুক মেসেঞ্জার চেক করাসহ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর শুরু হয় মারধর। একপর্যায়ে আবরার অচেতন হয়ে পড়লে কোলে করে মুন্নার কক্ষে (২০০৫ নং) নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে দোতলা ও নিচতলার সিঁড়ির মধ্যবর্তী জায়গায় অচেতন আবরারকে নিয়ে যান তারা। এরপর হল প্রভোস্ট ও চিকিৎসককে খবর দেওয়া হয়। চিকিৎসক এসে আবরারকে মৃত ঘোষণা করেন। তখন কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দেয়। এরা সবাই বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলের অনুসারি।
সহপাঠী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বিকেলে গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া থেকে হলে আসেন আবরার। তিনি শের-ই-বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। তাকে ২০১১ নম্বর কক্ষে আটকে রেখে মারধর করা হয়। রাতে দুইজন এসে তার রুম থেকে তার পোশাক নিয়ে যায়। তাকে মারধর করা হচ্ছে বুঝতে পেরেও কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি। ধারণা করা হচ্ছে ফেসবুকে স্ট্যাটাসের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
২০১১ নম্বর কক্ষে চার শিক্ষার্থী থাকেন। ঘটনার পর থেকে তিনজন পলাতক রয়েছে। তারা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা, উপদপ্তর সম্পাদক মুজতাবা রাফিদ, ইফতি মোশারফ, আরেকজন চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী, দুর্গাপূজার ছুটিতে দুই দিন আগে গ্রামের বাড়িতে গেছেন।
সহপাঠীরা আরো জানান, আবরারকে জেরা ও পেটানোর সময় ওই কক্ষে অমিত সাহা, মুজতাবা রাফিদ, ইফতি মোশারফ ওরফে সকাল ও বিটুসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিলেন। দ্বিতীয় দফায় আবরারকে পেটান তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার ও ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়নসহ ৪/৫ জন। এরা সবাই মেহেদী হাসান রাসেলের অনুসারী। তার নেতৃত্বে ৮/১০ জন আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করে। হত্যা পর সিঁড়িতে তার মৃতদেহ ফেলে রাখা হয়। আবরার খুব মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছিলো। সে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলো না। সিসিটিভির ফুটেজ শিক্ষার্থীরা দেখতে চায়।
চকবাজার থানার ওসি সোহরাব হোসেন বলেন, আাবরারকে হত্যায় একাধিক বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত চলছে। সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাউল ইসলাম জিওন ও তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকারসহ ৯জনকে আটক করা হয়। তারা বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলে থাকেন। এ ঘটনায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চকবাজার থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন বলেন, রাত ৪টা ৭ মিনিটে বেতারযন্ত্রের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বারান্দায় আবরারের লাশ দেখতে পান। তার কপাল, হাত ও কোমর থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত কালো জখমের চিহৃ রয়েছে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]