সম্রাট গ্রেপ্তারে যুবলীগে কেউ ক্ষুব্ধ, কেউ উচ্ছ্বসিত

আমাদের নতুন সময় : 08/10/2019

বাশার নূরু : দাপুটে নেতা ইসমাইল চৌধুরী স¤্রাট গ্রেপ্তার হওয়ার পর যুবলীগের একাংশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখালেও আরেক অংশের মধ্যে দেখা গেছে উচ্ছ্বাস। ক্ষুব্ধদের ভাষ্য, আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া স¤্রাট দলের জন্য ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ, যেসব ‘সুশীলরা’ তার বিরুদ্ধে কথা বলছেন, তারা দলের দুঃসময়ে কোনো কাজে আসেন না।
আর উচ্ছ্বাস প্রকাশকারীরা বলছেন, অপকর্মকারীদের এভাবে বাদ দেওয়ার মধ্য দিয়েই দুর্নাম ঘুচবে যুবলীগের।
স¤্রাট যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে যে কোনো জনসভায় লোকসমাগমের জন্য তার উপরই নির্ভর করতে হত আওয়ামী লীগকে। বিভিন্ন জনসভায় বিশাল মিছিলের নেতৃত্ব দিয়ে আসতে দেখা যেত স¤্রাটকে। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির নানা অভিযোগের মধ্যেও তার নেতৃত্বাধীন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সংগঠনের সেরা শাখা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল।
গত মাসে এক সভায় প্রধানমন্ত্রী যুবলীগের কর্মকা-ে বিরক্তি প্রকাশের পর র‌্যাব ঢাকার ক্রীড়া ক্লাবগুলোতে অবৈধ ক্যাসিনোর সন্ধান বের করলে এগুলোর নিয়ন্ত্রণকর্তা হিসেবে উঠে আসে স¤্রাটের নাম। তখন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী সংগঠনের নেতা স¤্রাটের পাশে দাঁড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু রোববার গ্রেপ্তার হওয়ার পর সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয় স¤্রাটকে।
ক্যাসিনো বন্ধে অভিযানের পর গ্রেপ্তারের গুঞ্জনের মধ্যে ঢাকার কাকরাইলে নিজের কার্যালয়ে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে অবস্থান নিয়েছিলেন স¤্রাট। কিন্তু দুদিন পর নিরুদ্দেশ হয়ে যান তিনি। এর মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে খবর ছড়ালেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা নাকচ করে। রোববার সকালে র‌্যাব জানায়, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের একটি বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে স¤্রাট ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি এনামূল হক আরমানকে।
কাকরাইলে রাজমনি প্রেক্ষাগৃহের সামনের নয় তলা ভবন ভূইয়া ট্রেড সেন্টারের পুরোটা জুড়েই ছিল স¤্রাটের রাজত্ব। সেখানে যুবলীগের নেতা-কর্মী-সমর্থক বেষ্টিত হয়ে সবসময় থাকতেন তিনি। কিন্তু রোববার গ্রেপ্তার অবস্থায় যখন তাকে আনা হয় সেখানে, তখন আগের সেই ভিড় ছিল না। তবে শ খানেক গজ দূরে রয়েল কিং ফটোকপির দোকানের সামনে কিংবা বিপাশা হোটেলের সামনে জড়ো হয়েছিল যুবলীগের কিছু কর্মী। পাঁচ ঘণ্টার অভিযান শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে যখন স¤্রাটকে বের করা হয়। তখন ওই যুবলীগকর্মীরা স্লোগান দিতে থাকে তাদের নেতার পক্ষে। তা দেখে শুরুতে হকচকিয়ে যাওয়া পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা তৎপর হয় তাদের ছত্রভঙ্গ করতে।
প্রায় শতাধিক কর্মী স্লোগান দিতে থাকে ‘স¤্রাট ভাই ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’। পুলিশ তখন রমনা থানার সামনের সড়ক দিয়ে দক্ষিণ দিকে হটিয়ে দেয় তাদের। তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আটকদের পরিচয় জানতে চাইলে রমনা থানার ওসি মাইনুল ইসলাম বলেন, এরা নামধারি যুবলীগ, কিন্তু কোনো পদে নেই। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]