• প্রচ্ছদ » » ৭৩-এর অধ্যাদেশের অধীনে চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত বাকি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভাইস চেন্সেলর নিয়োগ প্রক্রিয়া কী?


৭৩-এর অধ্যাদেশের অধীনে চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত বাকি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভাইস চেন্সেলর নিয়োগ প্রক্রিয়া কী?

আমাদের নতুন সময় : 08/10/2019

 


কামরুল হাসান মামুন : ৭৩-এর অধ্যাদেশের অধীনে চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত বাকি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভাইস চেন্সেলর নিয়োগ প্রক্রিয়া কী? উত্তর হলো গোয়েন্দা ও আমলাদের রিপোর্ট। বর্তমান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভিসিদের কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতি প্রমাণ করে এই প্রক্রিয়া সঠিক না। পৃথিবীর এমন একটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বলুনতো যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ হয় গোয়েন্দা ও আমলাদের রিপোর্টে? পাবেন না। সরকারি কর্মকর্তারা ভিসি হিসাবে তার নামই প্রস্তাব করবে যারা গুণেমানে তাদের চেয়ে খারাপ। সংকটের মূল এখানেই। ৭৩ এর অধ্যাদেশের অধীনে থাকা চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগের প্রক্রিয়া কি? সিনেটে একটি নির্বাচনের মাধ্যমে তিন জনের একটি প্যানেল তৈরি করে সেটা আচার্য অর্থাৎ মাননীয় রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। সেখান থেকে আমলাদের রিপোর্ট, গোয়েন্দাদের রিপোর্ট ও সরকারি দলের নেতাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে একজনকে ভিসি হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিয়োগ পাওয়ার পরপরই দুটি ধারায় বিভক্ত হয়ে যায়। এর একটি ধারা চুটিয়ে রাজনীতি করে আর বিশ্ববিদ্যালয়ে যত প্রকার নির্বাচন আছে সেগুলোতে অংশগ্রহণ করে। কালক্রমে ভিসি হওয়ার একটি অলিখিত রুল তৈরি হয়েছে যে, যারা ভিসি হওয়ার দৌড়ে থাকবে তাদেরকে অন্তত দুইবার শিক্ষক সমিতির সভাপতি সেক্রেটারি হতে হবে। ৭৩ এর অধ্যাদেশের অধীনে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকটের মূল এখানেই।
পৃথিবীতে এমন আরেকটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয় দেখান যেখানে এই পদ্ধতিতে ভিসি নিয়োগ হয়? পাবেন না। তাই সময়ের পরিক্রমায় প্রমাণিত হয়েছে এটিও ভালো পদ্ধতি নয়। তাই সময় হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে চিন্তাভাবনা করা। সত্যি বলতে কি আমাদের কেন নতুন নতুন নিয়ম আবিষ্কার করা লাগে? বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কোন পদ্ধতিতে তাদের ভিসি নিয়োগ দেয় এবং কি তাদের কাজ সেগুলোর দিকে নজর দিলেই কিন্তু আমাদের সমস্যাগুলো সমাধান হয়ে যায়। চৎড়ারফবফ আমরা সমাধান চাই। জাতির পিতা যেই উদ্যেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবাধ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন শিক্ষকরা তার মর্যাদা রাখতে পারেনি। আমরা প্রমাণ করে ছেড়েছি যে উনি ভূল করেছেন।
সারা পৃথিবীর বিশ্ববিদ্যালয়ের মান দিনদিন বৃদ্ধি পায় আর আমাদেরগুলোর অধঃপতন হতে হতে এখন পাতালে গিয়ে ঠেকেছে প্রায়। আজকের ড়ঢ়রহরড়হ.নফহবংি২৪.পড়স-এ ‘ভাইস চ্যান্সেলরের জীবন কাহিনী’ শিরোনামে অধ্যাপক জাফর ইকবালের একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে। খুবই তথ্যনির্ভর ও সুলিখিত। লেখাটি সবাইকে পড়ার অনুরোধ করছি। আমার অনেক কথা উনিই বলে দিয়েছেন। ‘কেন একজন শিক্ষক ভাইস চ্যান্সেলর হতে চান? একজন শিক্ষকের জীবন কতো আনন্দের, আমি যখন আমার শিক্ষকতা জীবনের পঁচিশ বছরের কথা চিন্তা করি সেখানে কতো মধুর স্মৃতি। সেই তুলনায় একজন ভাইস চ্যান্সেলরের জীবনে দাপ্তরিক কাজ ছাড়া আর কী আছে? সুট-টাই পরে একটা মিটিংয়ের পর আরেকটা মিটিং, একটা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণ দেওয়ার পর আরেকটা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণ, এই জীবনের জন্য কেন একজন লালসায়িত হয়?”- মুহম্মদ জাফর ইকবাল। ‘আমাদের এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়- বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার ক্ষেত্রে পরিণত করতে আমরা কতটুকু আগ্রহী? আর তা করতে হলে যে কোনো মূল্যেই হোক, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দলবাজি ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন করতে হবে; উপাচার্য ও শিক্ষক নিয়োগে মেধা এবং দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একইসঙ্গে নজর রাখতে হবে, মেধাবী ও দক্ষরাও যেন সুযোগ পেয়ে নাসিরউদ্দিন না হয়ে ওঠেন’ – আবু সাঈদ খান। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]