• প্রচ্ছদ » » আওয়ামী লীগের কেবল জামায়াত-শিবিরে কেন বিশেষ ঘৃণা থাকবে, হেফাজত কিংবা চরমোনাইয়ে নয় কেন?


আওয়ামী লীগের কেবল জামায়াত-শিবিরে কেন বিশেষ ঘৃণা থাকবে, হেফাজত কিংবা চরমোনাইয়ে নয় কেন?

আমাদের নতুন সময় : 09/10/2019

সুষুপ্ত পাঠক : বুয়েটের ছাত্রটিকে আওয়ামী কাল্টরা হত্যা করেছে। আওয়ামী লীগ যাদের কাছে ধর্ম, কমিউনিজম যাদের কাছে ধর্ম, জাতীয়তাবাদ যাদের কাছে ধর্মÑ সেই কাল্টরা নিজেদের বিশ্বাসের জন্য হত্যা করতে দ্বিধা করে না। কমিউনিস্টরা শ্রেণির শত্রæ, বুর্জোয়া বলে দ্বিধাহীন অনুতপ্তহীনভাবে হত্যা করতে পারে। কাল্টদের চরিত্রই এ রকম। তাদের হত্যার পেছনে তারা মহৎ আদর্শ, মানব কল্যাণ, বৃহত্তর স্বার্থ অনুসন্ধান করে তারা হত্যাকে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। ‘পাকিপন্থী’ ‘স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি’ এ রকম শ্রেণি শত্রæ হত্যা আইন বিচারবহির্ভ‚ত হলেও কাল্টরা সেটাকে অপরাধ মনে করে না। কুখ্যাত শিবিরের রাজনীতি চলে ইসলামিক কাল্টের উপর। ইসলাম প্রচলিত ধর্মগুলোর মতো নয়, এটি জন্ম থেকেই রাজনীতি ও ফ্যাসিবাদী একটা শক্তি। শিবিরের কাছে আওয়ামী লীগ যারা করে তারা সবাই সেক্যুলার নাস্তিক। বামপন্থীরা সেক্যুলার নাস্তিক। এদের হত্যা, পায়ের রগ কেটে দেয়া দীন ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য অতি প্রয়োজনীয়। শিবিরের ইসলামিক কাল্টই কেবল বাংলাদেশে ধর্মীয় একমাত্র কাল্ট নয়, সবগুলো ইসলামিক দলই তাদের তরিকার কাল্ট অনুসারী। আওয়ামী লীগের কেবল জামায়াত-শিবিরে কেন বিশেষ ঘৃণা থাকবে, হেফাজত কিংবা চরমোনাইয়ে নয় কেন?
যে ছাত্রটিকে হত্যা করা হয়েছে তার কিছু পোস্ট দেখে বোঝা যাচ্ছে সে ইসলামিক কোনো মতবাদে বিশ্বাসী। কেউ বলছে সে শিবির করতো। বিশ্বাস করেন আগামীকালই যদি রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির দাবা খেলায় আওয়ামী লীগ জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সন্ধি করে তখন আবরারের মতো ছেলেরা হবে ছাত্রলীগের কাছের মানুষ। যে লোকগুলোকে আগে দেখতাম হেফাজতে ইসলামকে পচাতো, শফীকে ‘তেঁতুল হুজুর’ ছাড়া তার নাম উচ্চারণ করতো না, সেই একই লোক হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে তার পার্টির যে গোপন সমঝোতা তা যে দেশের কতোখানি উপকার করেছে তার নানা ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ। হুজুরদের ধরে ধরে তারা প্রগতিশীল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানুষ বানিয়ে তুলবেন। কাল্টরা এ রকমই। ব্যক্তি বা মতবাদে এমনই অন্ধ তারা হয়, মগজ বন্ধক দিয়ে নিজস্ব বুদ্ধি বিবেচনা করার ক্ষমতা লোপ পায়। ভারত যে বাংলাদেশ থেকে কেবল নিয়েই গেছে বিনিময়ে কিছু দেয়নি, বৈষম্য, আগ্রাসন চালিয়ে গেছে, আমাদের নেতারা যে তাদের নতজানু ক‚টনৈতিক ও রাজনীতির পরিচয় দিয়েছেন সেই সত্যি কথাগুলোই আবরার তার ফেসবুকে লিখেছিলো। বলা হচ্ছে এসব লেখার জন্যই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এই তত্ত¡টি এখন বাকি কাল্টরা লুে নেবে। গতকালই একটা কমিউনিস্ট কাল্ট ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীদের আগ্রাসনের প্রতিবাদে বাংলাদেশে দুর্গাপূজা বয়কটের আহŸান জানিয়েছিলো। ভারত বিরোধিতাকে এই কাল্টগুলো হিন্দু বিরোধিতা, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ঘৃণায় পর্যুবেশিত করে ফেলে। ভারতের পরাষ্ট্রনীতির দায় ভারতের সাধারণ মানুষের নয়। ভারতের রাজনীতির জন্য ভারতীয়দের ‘হিন্দু’ ‘দাদাবাবু’ ‘ধুতি খুলে নেয়া’ এ রকম চিকন সাম্প্রদায়িকতা বেগ পায় ভারতের বিরোধিতার নামে। এসবের বিরুদ্ধে লিখে লিখে ‘ভারতপ্রেমী’ ট্যাগ খেয়েছি। মানুষকে বোঝাতে চেয়েছি, পাকিস্তান আমাদের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে যে পৈশাচিকতা ঘটিয়েছিলো তার জন্য পাকিস্তানের সাধারণ মানুষকে অভিশাপ বইয়ে বেড়াতে আমরা দিতে পারি না। পাকিস্তানি মাত্রই ঘৃণা কাম্য নয়। পাকিস্তানে, ভারতে, বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ গরিব। তাদের সবাই প্রতিদিনের একই জীবন সংগ্রাম করতে হয়। আওয়ামী কাল্টদের সঙ্গে প্রথম পরিচয় বøগে আসার পর। সিপি গ্যাং ছিলো সেই কাল্ট। এদের ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ ছিলো আসলে পার্টির প্রতি শর্তহীন আনুগত্যতা। প্রয়োজন পড়লে, যদি দেখে তাদের নেতানেত্রীর উপর দিয়ে কেউ চলে যাচ্ছে তাহলে তাজউদ্দিন, জাহানারা ইমাম কেউ তাদের মুখের বিষ থেকে রেহাই পায়নি। বিশ্বাস করুন, ইসলাম নিয়ে লিখে যতোখানি আমি নিরাপদ, এই কাল্টদের নিয়ে লিখে আমি ভয়ে থাকি যে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এসে না এরা মেরে যায়। বেশি কিছু আর বলবো না এই প্রসঙ্গে। বুয়েটের ছাত্রটির নির্মম হত্যার বিচার যারা চাইছেন তারা, কিন্তু কেউ বলেননি, আবরার হত্যাকে সমর্থন করি না, কিন্তু তারও উচিত হয়নি সরকারকে দোষারোপ করা। নাস্তিকদের যখন হত্যা করা হয়েছিলো তখন আসলে বিভিন্ন গোত্র চেহারার গ্রæপের কাল্টরা জাস্টিফাই করেছিলেন। দোষ দিয়েছিলেন নাস্তিকদের লেখালেখিকে। আবরার শিবির করুক বা চরমোনাই করুক, কিচ্ছু আসে যায় না এখন আর। কারণ তাকে হত্যা করা হয়েছে তার রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে। তার রাজনৈতিক বিশ্বাসের পরিবেশ নিশ্চিত করতে আপনাকে সর্বপ্রথম এগিযে আসতে হবে নাস্তিকদের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতায়, কারণ তারাই এদেশে প্রথম ভিকটিম। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]