• প্রচ্ছদ » » ও মা, মা গো, জানো আমি একটুও কাঁদিনি


ও মা, মা গো, জানো আমি একটুও কাঁদিনি

আমাদের নতুন সময় : 09/10/2019

দীপঙ্কর সরকার : ও মা, মা গো জানো আমি একটুও কাঁদিনি। ওরা আমাকে খুব মেরেছে। খুউব। তোমাকে এসব কথা বলারইবা কী দরকার, তুমি নিজেই তো আমার মনের সব কথা বুঝতে পারো। ৬ অক্টোবরও কি বুঝতে পেরেছিলে? জানো, ওরা আমাকে পশুরমতো মেরেছিলো। পশুকে মারলেও তো মায়া লাগে, কিন্তু ওদের চোখেমুখে মায়ার ছিটেফোঁটা দেখতে পাইনি। বরং ওদের জন্য করুণা হচ্ছিলো এই ভেবে যেÑ দেশসেরা প্রতিষ্ঠানে পড়লেই মানুষ হওয়া যায় না। এখানেও পশুদের অবাধ বিচরণ। কষ্ট বিশেষ লাগেনি। কষ্ট পেয়েছি শুধু তোমার কথা ভেবে। ওরা যতোই আমাকে আঘাত করছে ততোই তোমার মুখখানা ভেসে উঠেছিলো। শুধুই মা মা বলে চিৎকার করেছি। সে চিৎকার ওদের কানে পৌঁছেনি। কয়েক মিনিট শুধু ভেবেছিÑ আমার পরিণতির কথা। ওরা মেরেই যাচ্ছে আর আমি দুচোখ বন্ধ করে ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছি। আমার নিথর দেহ পড়ে থাকবে স্বপ্নের প্রিয় প্রতিষ্ঠানে। আর কেউ না জানুক অন্তত তুমি জানো বুয়েটে ভর্তি হওয়ার জন্য কি অমানুষিক পরিশ্রম করেছি। চান্স পাওয়ার পর তোমার দুচোখে যে স্বপ্ন দেখেছিলাম আর তা পূরণের জন্য একধরনের দায়িত্ববোধ আমাকে প্রতিদিন নতুন করে ভাবাতো। কিন্তু সময় পেলাম কোথায়? জানো মা, ওরা আমাকে একটু সময় দিলো না। কতো করে বললাম, জানে মাইরেন না, অন্তত মা’টার জন্য বাঁচতে দ্যান। কে শোনে কার কথা। হয়তো পশুদেরও কানেও আমার ক্রন্দনধ্বনি পৌঁছাতো, আর্তনাদে হয়তো বাঘও থাবা মারতে দু’একবার ভাবতো, কিন্তু তারা? তারা এমনই বধির যে ইশারার ভাষাও বুঝতে পারে না। তারা মেরেই যাচ্ছে আর আমার দুচোখে এই নৃশংসতার শেষ দৃশ্যগুলো চোখের সামনে ভাসছে। প্রিয় প্রতিষ্ঠানে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকবো। ডাক্তার মৃত ঘোষণা করবে। বুয়েটের গাড়িতে করে বাসায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেই চেনা পথে। যে পথে ফেরার জন্য অপেক্ষা করতাম, যে হাসি দেখার জন্য অপেক্ষা করতাম সেই বাড়ি ফেরার আনন্দে আর উচ্ছ¡সিত হবো না কেবল চুপচাপ পড়ে থাকবো।
তুমি আমার এমন মলিন, নিথর দেহ সহ্য করতে পারবে তো মা? আমাকে নিয়ে আমার চিন্তা নেইÑ আমি হয়তো মরে গিয়েই বেঁচে গেলাম এই পোড়া দেশে, তুমি বাঁচতে পারবে তো মা? বিচার! কি হবে? আমি কি ফিরে আসবো? না, ও মা, বিচার চেও না, কারও কাছেই বিচার চেও না। কেবল গোপনে চোখের জল ফেলো আর দুহাত তুলে আমার জন্য দোয়া করো। তোমার চোখের জলে স্নান করে আমি শুদ্ধ হবো সেইসঙ্গে আমাকে যারা মেরেছে তাদের মায়ের বুকও যেন খালি না হয় সেই প্রার্থনা করো। মতানৈক্য থাকতেই পারে তাই বলে মৃত্যু? সব সম্ভবের দেশ মাগো এটা। সব সম্ভব। ও চিঠি তুমি ভেসে যাও মায়ের কানে গিয়ে ফিসফিস করে জানিয়ে দিয়ে এসোÑ এভাবে আর কোনো আবরাবের মায়ের কোল খালি হতে না হয়। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]