• প্রচ্ছদ » » কেবল আবরার হত্যাকাÐের বিচার করেই আপনি এরকম খুনাখুনির মিছিল থামাতে পারবেন না


কেবল আবরার হত্যাকাÐের বিচার করেই আপনি এরকম খুনাখুনির মিছিল থামাতে পারবেন না

আমাদের নতুন সময় : 09/10/2019

ইমতিয়াজ মাহমুদ : ভিন্নমতের কারণে মানুষকে খুন করা অন্যায়। খুন করা সে তো এমনিই অন্যায়Ñ এমনকি কেউ যদি ঘোরতর অপরাধও করে থাকে, তাকে আপনি পিটিয়ে মেরে ফেলতে পারেন না বা গুলি করে মেরে ফেলতে পারেন না। এই ন্যূনতম ন্যায়বোধটা আমাদের এখানে শিক্ষিত মিডল ক্লাসের মধ্যে নেই। অন্তত সংখ্যাগরিষ্ঠের মধ্যে যে নেই সেকথা তো আমি নিজের চোখেই দেখেছি। আপনারাও দেখেছেন। অভিজিৎ রায়কে যখন হত্যা করে হয়েছে তখন কি আপনি আশপাশের লোকজনের মুখে সেই হত্যাকাÐকে জাস্টিফাই করে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যুক্তি তর্ক শোনেননি? আমি শুনেছি। থাবার মৃত্যুর পরও এ রকম ঘটনা ঘটেছে। বারবার এ রকম হয়েছেÑ ধর্মবিশ্বাসীরা নাস্তিকদের হত্যা করাকে সমর্থন করেছে। এক মোল্লা তার সমর্থকদের বলেছে যে, নাস্তিকদের হত্যা করা নাকি ওয়াজিব হয়ে গেছে।
আমরা বারবার চিৎকার করেছি যে, এভাবে ভিন্নমত দমন করা কোনো সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয়। মানুষকে কথা বলতে দিতে হয়Ñ সে যতো মন্দ কথাই হোক না কেন। আমার মতামত যদি শোনেন, আমি তো সবসময়ই বলে আসছি যে, বাক ও চিন্তার স্বাধীনতা একটা নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা, এর কোনো সীমাবদ্ধতা বা সীমারেখা থাকতে পারে না। বিপরীতে আপনারা চেঁচিয়েছেন, যে না, মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা আছে বটে, তবে সেটা নাকি শর্তযুক্ত। আপনার ভুল-ভ্রান্ত। কিন্তু একটা পর্যায় পর্যন্ত তো আমাদের ঐক্য হবার কথা, যে ভিন্নমতের কারণে কাউকে নিপীড়ন করা ঠিক নয়। কিন্তু এই কথাটাও আপনারা স্পষ্ট করে বলেন না। আপনার মুখে নানা রকম কথা বলেন বটে, কিন্তু আপনাদের অন্তরে সাপ। আপনাদের কথা হচ্ছে যে, আমার পক্ষে যারা কথা বলবে ওদের বাক স্বাধীনতা আছে, বাকিদের মারধর করা বা অন্য কোনোভাবে হেনস্তা করা জায়েজ আছে।
এই যে সম্প্রতি বুয়েটে একটা ছেলেকে হত্যা করার খবর এসেছে, মনে তো হচ্ছে যে ছেলেটাকে হত্যা করা হয়েছে ওর মতামতের জন্য। হত্যার উদ্দেশ্য ছিলো কিনা জানি না, কিন্তু খবরে যেটা এসেছে, ওকে মারধর করা হয়েছে শিবির সন্দেহে। মানে কি? মানে হচ্ছে যে, এই ছেলেটাকে তার রাজনৈতিক মতামতের কারণে মারধর করা হয়েছেÑ সেই মারধরেই তার মৃত্যু হয়েছে। এখন আমাকে বলেন, আপনারা যদি তখনই শক্ত অবস্থান নিতেন, যে না, কোনো অবস্থাতেই ভিন্নমতের কারণে মানুষকে হামলা করা সহ্য করা হবে না, তাহলে সম্ভবত আজকের এই ঘটনা আপনাদের দেখতে হতো না। সেদিন যদি আপনারা স্পষ্ট করে বলতেন যে, একজন মানুষ যতো খারাপ কথাই বলুক না কেন, সেই কথাটা তাকে বলতে দিতে হবে। কণ্ঠ রুদ্ধ করা যাবে না। তাহলে হয়তো এই ঘটনাটা দেখতে হতো না। সেদিন যদি সরকার বলতো, যে না, আপনার অনুভ‚তিতে যতো তীব্র আঘাতই লাগুক না কেন, আপনার পছন্দ না হলে আপনি শুনবেন না, কিন্তু মুখের কথার জন্য কাউকে সাজা দেয়া যাবে নাÑ তাহলে আজকে এই ঘটনা দেখতে হতো না। বুয়েটে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাÐটির বিচার চাই। কিন্তু সেই সঙ্গে এই কথাটাও বলে রাখি, কেবল এই হত্যাকাÐের বিচার করেই আপনি এ রকম খুনাখুনির মিছিল থামাতে পারবেন না। আপনি যদি আসলেই চান যে, এ রকম খুনাখুনি না ঘটুক, আসলেই যদি চান যে, দেশের ছেলেমেয়েরা গণতান্ত্রিক আচরণ শিখুক, নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য নিয়ে পরস্পরকে সভ্য পন্থায় আক্রম করতে শিখুক- যুদ্ধটা হোক বাক যুদ্ধÑতাহলে আপনাকে স্পষ্ট করে সবার উদ্দেশ্যে এই কথাটা বলতে হবে যে, এ দেশে প্রতিটা মানুষ যা ইচ্ছা তাই বলতে পারবে। কারও কথা যদি শুনতে তিক্ত হয়, কারও কথা যদি আপনার ধর্ম, বিশ্বাস বা রাজনৈতিক ধারণা বা আপনার প্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে চ‚ড়ান্ত রকমভাবে হেয় করেÑ তবুও সেই কথাটা বলার অধিকারও সবার আছে।
রাষ্ট্রের ক্যারেক্টারটাই করে ফেলেছেন অসহিষ্ণু, আপানরা মুখেও বলছেন এই কথা, তাহলে আপনাদের দলের ক্যাডাররা কি করবে? এ রকমই করবে। আর অন্যরা? ওয়েল, মুসলিম ফান্ডামেন্টালিস্টরা তো এমনিতেই বাকস্বাধীনতা গণতন্ত্র এসব মানে না। আপনাদের কথায় ও কাজে তারাও উৎসাহিত হবে। এই যে ছেলেটা মারা গেলো, সম্ভবত তার সঙ্গে আমার কখনোই মতের মিল হতো না। সম্ভবত আমি তার মতামতকে নিয়ে হাসিঠাট্টা করতাম, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতাম, হেসে উড়িয়ে দিতাম। তাকে হত্যা করে আপনারা চেতনার শহীদ বানিয়ে দিলেন। আপনারাই হিসাব করেন, এসব করে দেশকে কতোটুকু এগিয়ে নিচ্ছেন আর কতোটুকু অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। সংক্ষিপ্ত। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]