• প্রচ্ছদ » » ছাত্রলীগ যে মাস্তান-খুনি বাহিনী তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন আগেও ছিলো না


ছাত্রলীগ যে মাস্তান-খুনি বাহিনী তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন আগেও ছিলো না

আমাদের নতুন সময় : 09/10/2019

ববি হাজ্জাজ : অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে শোক প্রকাশ করছি তরুণ ছাত্র আবরার ফাহাদের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায়। তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। প্রত্যক্ষরূপে বোঝা যাচ্ছে যে তার ফেসবুকে লেখা এক বাণী নিয়ে তার উপর ছাত্রলীগের মাস্তান বাহিনীর অত্যাচারই তার মৃত্যুর মূল কারণ। আওয়ামী লীগের শুদ্ধি অভিযান আসলে কতোটা শুদ্ধ, সে প্রশ্ন না হয় পরেই করলাম। ছাত্রলীগ যে মাস্তান-খুনি বাহিনী তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন আগেও ছিলো না, আর আবরারের এই হৃদয় বিদারক হত্যাকাÐের পর এটা পরিষ্কার যে, কোনো শুদ্ধিতে ছাত্রলীগ শুদ্ধ হয়নি। তরুণ প্রজন্মের আজ অনেক প্রশ্ন আছে। ৬ অক্টোবর সারাদিন সারারাত খবর হলো শুধু যুবলীগের সম্রাটকে নিয়ে, কিন্তু ভারতের সঙ্গে ফেনী নদী নিয়ে কেউ একটা প্রশ্নও তুলেনি। সংবাদ মাধ্যম যখন নীরব তখন বিচক্ষণ তরুণরা কথা বলবে। ১৯৫২তে তারা বলেছে, ১৯৭০-১৯৭১-এও তারাই বলেছে। তখন তাদের উপর পাকিস্তানি বাহিনী অত্যাচার করেছে, আজ ছাত্রলীগ অত্যাচার করছে।
ফেনী নদীর পানি নিয়ে শুধু আবরার নয়, আমরা সবাই বলবো। ১৭ কোটি জনগণ যখন আবরারের মতো সজাগ হয়ে প্রশ্ন করবে তখন কোনো খুনি বাহিনীর সাহস হবে না অস্ত্র তুলে ধরা। এদেশের মানুষ বহুকাল ধরে প্রতীক্ষায় ছিলো যে ভারতের সঙ্গে ন্যায়সংগত পানি বণ্টন চুক্তি হবে। ফারাক্কা থেকে তিস্তা, প্রত্যেকটা জায়গায় আমারা কেবল বঞ্চিতই হয়েছি। বহুকাল ধরে কোনো ন্যায়সঙ্গত পানি বণ্টন চুক্তি না থাকা এ জাতির উপর ভারতীয় সরকারের নিষ্ঠুরতার বহিঃপ্রকাশ ব্যতীত আর কিছু নয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ভারতীয় সরকারের সঙ্গে পানিবণ্টন চুক্তিতে আবদ্ধ হলো, কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় এটি যে কয়েক দশক ধরে আমাদের বেঁচে থাকার মতো পানি যখন আমরা পাচ্ছি না তখন আমাদের দেশের জনগণের পানি পাবার কোনো ধরনের কোনো নিশ্চয়তা ছাড়াই আমরা ফেনী নদীর পানি দেয়ার চুক্তি করে বসলাম। তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি বরাবর ভÐুল হবার কারণ দিল্লি সরকার নাকি পশ্চিমবঙ্গের সরকারকে রাজি করাতে সক্ষম হয় না। আমাদের ন্যায্য পাওনা চাইলে যে দিল্লি সরকার অক্ষমতা প্রকাশ করে সেই দিল্লি সরকারকে কিছু দেয়ার সময় আমরা হাত খুলে কেন দেবো? আওয়ামী সরকার তো শুধু দিয়েই আসছে, আর তার বদলে পাচ্ছে শুধু নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তোলা সেলফি ছবি।
চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে ভারত। নজরদারির জন্য বাংলাদেশের উপক‚লীয় অঞ্চলে বঙ্গোপসাগরে রাডার বসাবে দেশটি। অভিন্ন ফেনী নদী থেকে ভারতকে পানি দিতে রাজি হয়েছে। বাংলাদেশ। ভারতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস রপ্তানিরও ঘোষণা দেয়া হয়েছে এবং এই তালিকা সহজে শেষ হবার নয়। বি.দ্র. বছর তিনেক হলো বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে শুল্কমুক্ত ট্রানজিট সুবিধা পাচ্ছে ভারতের পণ্যবাহী যানবাহন এবং আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে কলকাতা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনও বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে শিলিগুড়ি যাবে। কিন্তু ভারতের কাছে বাংলাদেশের যে প্রত্যাশা ছিলো তার কিছুই পূরণ হয়নি, এমনকি পূরণ হবার মতো কোনো নমুনাও আমরা দেখি না। যদি সম্পর্ক শুধু দেয়ারই হয় তাহলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার যারা পরিচালনা করছেন তারা কি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের দিকে নজর রাখছেন নাকি দিল্লি সরকারের নব্য সাম্রাজ্যবাদে প্রভাবিত হয়ে কাজ করছেন? আর আজ যেই ছাত্রলীগ দেশপ্রেমী আবরারের প্রাণনাশের দায়ী তারা কি বিশ্বজিতের খুনিদের মতো জাতিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ঘুরে বেড়াবে নাকি এখন আমরা সোচ্চার হবো? ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]