• প্রচ্ছদ » সর্বশেষ » ছাত্র রাজনীতি না থাকলে এ রাষ্ট্রে কেবল চিরস্থায়ী স্বৈর-শাসন থাকবে


ছাত্র রাজনীতি না থাকলে এ রাষ্ট্রে কেবল চিরস্থায়ী স্বৈর-শাসন থাকবে

আমাদের নতুন সময় : 09/10/2019

আর রাজী, ফেসবুক থেকে :ছাত্র-রাজনীতির সাথে এই সব খুনখারাবি-চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি-অপরাধ-অপকর্মের সম্পর্ক কী? মাস্তান-সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় প্রশাসন, আর বিপদে পড়লে নিজেদের ব্যর্থতা-অপরাধ ইত্যাদি ঢাকতে ছাত্র-রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অথচ সব পক্ষই জানে, ক্ষুদ-কুড়া-টাকা-পয়সা-সুবিধাদির বিনিময়ে ছাত্রনামধারী পোষা কিছু গু-া, ক্ষমতাবানদের স্বার্থে, ক্ষমতাসীনদেরই ছত্রছায়ায় থেকেই অপকর্মগুলো চালিয়ে যায়। এসবের সাথে ছাত্র-রাজনীতির সরাসরি কোনো সম্পর্ক নাই। এই প্রেক্ষাপটে বরং অতিদ্রুত প্রকৃত ছাত্র রাজনীতির সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরির জন্য মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

দেশটা তো আমলা-সেনাবাহিনী বা শিক্ষকরা চালাবে না, চালায় না; চালাবে রাজনীতিকরা। ছাত্র-রাজনীতি না থাকায় এরই মধ্যে ভয়ঙ্কর শূন্যতা এই রাষ্ট্রে তৈরি হয়ে গেছে। ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের নামে, আগামীর আবরার ফাহাদদের কণ্ঠ রুদ্ধ করে দিলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয় না খুললে তুই ভর্তি হোতিস কোথায়’ ভিসিদের চিরস্থায়ী জমিদারিতে পরিণত হবে। মনে রাখতে হবে, এই জমিদার ভিসিদের ওপর ভর দিয়েই টিকে থাকতে চায় স্বৈরাচার।
বিদ্যমান বাস্তবতায় বরং খুব দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-রাজনীতির সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরির জন্য যা যা করার তা করতে হবে। নইলে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই দেশ চালানোর মানুষ আমরা পাব না। আকাশ থেকে দেশ চালানোর মানুষ আসবে না। তাদের রাজনীতির মধ্য দিয়ে এবং একমাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়েই আসতে হবে।
আমলা-শিক্ষকসহ নানান পেশাজীবী-পক্ষ বিরাজনীতিকরণ চাইবে। এমন কি বিদেশে সন্তান-পালা রাজনীতিক-ব্যবসায়ীরাও সন্তানদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ মাথায় রেখে তা চাইতে পারে। এটা এ দেশে অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না- আমলা-কামলা দিয়ে দেশ চালানোর পরিণতি ভয়ঙ্কর। কিছু ছেলেমেয়ে যদি ১৮ বছর বয়স থেকেই রাজনীতি না করে তাহলে দেশ অনিবার্যভাবে রাজনীতিক শূন্যতায় পড়বে। যা হবে ভয়াবহ। এরই মধ্যে সেই আসন্ন ভয়ানক দিনের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি।
১৮ বছর হয়ে যাওয়া শিক্ষার্থী অর্থাৎ দেশের নাগরিকদের রাজনীতি পাইকারিভাবে নিষিদ্ধ করাও যায় না। তবে আগামী ২০ বছর, বা অন্তর্বতী কিছু সময়ের জন্য, শিক্ষাঙ্গনে কেবল ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। যে দলই রাষ্ট্রের ক্ষমতায় যাবে বা ক্ষমতার অংশ হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই দলের পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া ছাত্র সংগঠনটির ‘ক্যাম্পাস রাজনীতি’ নিষিদ্ধ হয়ে যাবে- এমন একটা অভিনব পন্থার কথা হয়তো ভাবা যেতে পারে। এতে সাময়িক কিছু উপকার হয়তো হতে পারে। কিন্তু এ-ও অনেক অনেক বেশি ভাবনা-চিন্তার দাবি রাখে। কারও অধিকার খর্বের আলাপ তোলা কোনো বিবেচনাতেই স্বাভাবিক ব্যাপার নয়। যদি তুলতেই হয়, তার আগে নাগরিকদের নিজেদের মধ্যে অনেক অনেক বেশি আলাপ চালাতে হবে। অনেকগুলো সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বুয়েট বা অন্য কোনো শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান যদি এমন কিছু করতে চায়, তবে অবশ্যই সে সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের অবাধ ভোটাভুটির মাধ্যমে হতে হবে। মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্র শাসনের সেই সাধারণ সূত্র- ‘রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান কেবল রাজনৈতিকভাবেই হতে পারে, অন্য কোনো ভাবে নয়’।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]