• প্রচ্ছদ » » বিশটা স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে ভর করেছে


বিশটা স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে ভর করেছে

আমাদের নতুন সময় : 09/10/2019

মোস্তফা ফিরোজ : একটি হত্যাকাÐ। আসামি ১৯। বুয়েটের কথা বলছি। বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যা করা হলো। এই হত্যার আসামিরাও মেধাবী ছাত্র। মেধাবী ছাত্র হিসেবেই তারা বুয়েটের মতো উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পেরেছিলো। এমন ভাগ্য কতোজন শিক্ষার্থীর কপালে জোটে? বুয়েটে ভর্তি হওয়া কি এতো সহজ? নিশ্চয় নয়। এই বিশজন ছোটবেলা থেকে মেধার চর্চায় উত্তীর্ণ হয়ে বুয়েটে পড়াশোনা করার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলো। বুয়েট শেষ করে তারা নিশ্চয় দেশে বস বিদেশে উচ্চ পদে আসীন হতেন। তাদের বাবা-মা পরিবারের আশা পূরণ হতো। একদিন আগে পর্যন্ত এই বিশটি পরিবার গর্ব কতো যে তাদের সন্তান বুয়েটে পড়াশোনা করে। কিন্তু হায়! আজ সবই দুঃস্বপ্ন। একটি মৃত্যু এতোগুলো পরিবারকে তছনছ করে দিলো। নিহত আবরার ফাহাদের মায়ের কান্না আহাজারি। শোকে কাতর বাবার বিধ্বস্ত চেহারা যারা দেখেছে তাদের নিশ্চয় দিনটা বেদনায় কেটেছে। আমি ভাবছি এই হত্যাকাÐের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া ওই বিশ ছাত্র আসামির বাবা-মা ও পরিবারের কথা। তারা নিশ্চয় নির্ঘুম রাত কাটাবে আজ। সন্তানের ভবিষ্যৎ ভেবে আজ দিনটা তাদের কেমন কেটেছে সন্তানের বাবা হিসেবে আমিও অনুমান করতে পারছি। ফাহাদের পরিবারের পাশাপাশি এই পরিবারগুলোর যন্ত্রণাও তীব্র। কেননা সমাজের চোখে তাদের সন্তান এখন হত্যাকারী। এই লজ্জা অপমান তাদের সইতে হবে। এমন যন্ত্রণা বয়ে বেড়ানো কঠিন। যে সন্তানকে নিয়ে তারা এতোদিন গর্ব করতো একটি হত্যাকাÐের ঘটনায় তা চুরমার হয়ে গেলো।
যে ছাত্ররা এই হত্যাকাÐ ঘটালো তারাও হয়তো মনে করেনি যে, এটা কোনো অন্যায় কাজ করেছে। এমন একটা রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভেতরে তাদের মস্তিষ্ক ও মনন তৈরি হয়েছে যে তারা ভেবেছে বিরুদ্ধ একটি মতকে ধ্বংস করাটাই হচ্ছে সঠিক রাজনীতির আদর্শ ও কর্তব্য। নতুবা কোনো সংঘাত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। অথচ রুম থেকে ডেকে নিয়ে ঠাÐা মাথায় হত্যা করা হলো আবরারকে। ক্ষমতার রাজনীতি তাদের এমনভাবে তৈরি করেছে যে, বিপক্ষের কোনো মতাদর্শ তারা সহ্য করতে পারে না। তারা দেখেছে ক্ষমতার বাইরে যারা থাকবে তারা কেবল নিশ্চিহ্ন হবে। পরমত সহিষ্ণু ও সহঅবস্থানের গণতান্ত্রিক রাজনীতি এই ছাত্র হত্যাকারীদের কেউ শেখাইনি। হায়! অপরাজনীতির শিকার হয়ে হত্যা হলো আবরার। আর হত্যায় জড়িত হয়ে ছাত্রগুলোর ভবিষ্যৎও এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এই সর্বনাশা রাজনীতির অবসান কবে হবে?
২. দলে যখন শুদ্ধি অভিযানের ঘোষণা, তখন ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার নেতাকর্মীদের হাতে নিহত হলো আবরার ফাহাদ। এটা যেন দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। তার আগেও দেখা গেলো ঢাবিতে বিরোধী ছাত্র সংগঠনকে মারধর ও মধুর কেন্টিনে বসতে না দেয়ার ঘটনা। তাহলে এ কেমন শুদ্ধি অভিযান? আগের সঙ্গে এখনকার অবস্থার পার্থক্য কোথায়? তবু ধন্যবাদ ছাত্রলীগকে। তারা আবরার হত্যার নিন্দা করেছে। দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এই ঘটনায় সাংগঠনিক তদন্তে কমিটি করেছে। একইভাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও প্রতিবাদ করেছেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, ভিন্নমতের কাউকে এভাবে মেরে ফেলতে হবে? বিএনপি তো দিল্লি চুক্তিকে দেশবিরোধী বলেছে। তাই বলে কি বিএনপি নেতাদের মেরে ফেলবো? আবরার ফাহাদ কি অপরাধ করেছিলো যে তাকে মেরে ফেলতে হলো? সে কি অপরাধী? সে কি সন্ত্রাসী? সে কি ভিন্ন কোনো দল ও সংগঠন করে? না কিছুই না। সে তার ফেসবুকে দিল্লিতে দু’দেশের সই হওয়া চুক্তি বা সমঝোতার কিছু বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে লিখেছে। তাহলে তো সে দেশপ্রেমিক। কোন দল ও সংগঠন না করেও যে দেশের পক্ষে কথা বলে তাকে তো সবারই সম্মান ও শ্রদ্ধা করা উচিত ছিলো। কিন্তু ওই বুয়েটের বড় ভাইয়েরা সেটা পছন্দ করেনি। তার ফেসবুকের স্ট্যাটাস দেখে মনে হয়েছে সে শিবির করে। দেশের পক্ষে কথা বললে সে শিবির হবে, এটা কেমন কথা? তাহলে অন্যরা কি দেশপ্রেমিক নয়? আজব যুক্তি। আসলে এটা হচ্ছে ক্ষমতার রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। ভিন্নমত, ভিন্ন দল, ভিন্ন মানুষ সহ্য না করার স্বৈরতান্ত্রিক অপসংস্কৃতির রাজনীতি। উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখন আর গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা হয় না। এই কারণে যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তার গর্ভে জন্ম নেয়া রাজনৈতিক কর্মীদের শিক্ষাটা হলো বিপক্ষের দল ও মতকে দমন করো। যদি প্রতিপক্ষ নিঃশেষ হয়ে যায়, তখন নিজ দলের ভিন্ন গ্রæপকেও নিশ্চিহ্ন করো। এই প্রক্রিয়ায় রাজনীতি চলতে চলতে এখন তা ফ্রাঙ্কেনস্টাইনে রূপ নিয়েছে। তাই শুদ্ধি অভিযানে দৃশ্যমান অনেক ঘটনার পরও কিছুতেই রাজনীতির পরাক্রমশালী দানবদের ঠেকানো যাচ্ছে না। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]