• প্রচ্ছদ » » বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবারও নৈতিক দায়টুকুও নেবে না?


বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবারও নৈতিক দায়টুকুও নেবে না?

আমাদের নতুন সময় : 09/10/2019

আর রাজী : আবরার খুনের ঘটনা নতুন কিছু নয়। বাংলাদেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্ব ক্ষেত্রে এমন এক পরিস্থিতি জারি রয়েছে যে, সেখানে নিত্য লাশ না পড়াটাই বরং অস্বাভাবিক। আমার বিবেচনায়, এই অবস্থার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আমার পর্যবেক্ষণ বলে, বিশ্ববিদ্যালয় হলগুলোতে হল প্রাধ্যক্ষসহ বেশ ক’জন আবাসিক শিক্ষক নিয়ে যে হল প্রশাসন আছে, সেটি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করে না। কীভাবে হল প্রশাসন আরও ভালোভাবে শিক্ষার্থীদের জীবন-মান উন্নত এবং তাদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে পারবে সেই চেষ্টা যখন নিত্যদিনের সাধনা হওয়ার কথা ছিলো তখন হল প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্তরা কিছু সই-স্বাক্ষর করা ছাড়া তেমন কোনো ভ‚মিকাই রাখে না। নানা কারণে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে বটে, কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে হল প্রশাসন দায়িত্ব পালনে যে ব্যর্থ হচ্ছে বা হয়Ñ এটুকু স্বীকার করার মতো মন-মানসিকতা বা মনের জোরও রাখে না।কিছু আনুষ্ঠানিক সম্মান প্রাপ্তি, বাসাভাড়ায় ছাড়, সামান্য কিছু সুযোগ-সুবিধা, রাজনীতির নষ্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, অধিকতর দায়িত্ব পাওয়ার আশায় সিভিতে হলে নিজের ভ‚মিকার কথা উল্লেখ করাÑ এমন কিছু ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্যই অনেক শিক্ষক হলে নানা পদের দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত হন। শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসা, দায়-দায়িত্ব-কর্তব্যবোধ এক্ষেত্রে থাকে না, থাকে না শিক্ষার্থীদের সেবা দেয়ার, তাদের নিরাপত্তা দেয়ার সার্বক্ষণিক চিন্তা, যতœশীল চেষ্টা এবং নিত্য বদলে যাওয়া নতুন পরিস্থিতি উদ্ভাবনী মন নিয়ে সমাধানের চেষ্টা বা প্রশিক্ষণ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দলবাজ শিক্ষকদের নিয়ে গড়ে ওঠা এই হল প্রশাসন হলে সংঘটিত কোনো অপরাধ-অপকর্মের নৈতিক দায়টুকুও বহন করে না।
আবরার ফাহাদ খুনের ঘটনায় যারা সরাসরি জড়িত তাদের যথাযথ বিচার হয়তো হবে বা হবে না, কিন্তু দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, অবহেলা, অযোগ্যতার জন্য হল প্রশাসন, হল প্রশাসনের ব্যর্থতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়Ñ এই কমান্ড-চেইনের কেউই এখনো এই খুনের ঘটনায় নৈতিক দায় বোধ করেনি এবং করেনি বলেই হল প্রশাসনের বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কেউ (একজন শিক্ষার্থীর জীবনের নিরাপত্তা না দিতে পারার) নৈতিক দায়-দায়িত্ব স্বীকার করেনি, একজনও এখন পর্যন্ত তার পদ থেকে সরে দাঁড়ায়নি। অথচ একজন শিক্ষার্থীর জীবন রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ার নৈতিক দায় স্বীকার করে ওই হলের সব আবাসিক শিক্ষক ও প্রাধ্যক্ষের যার যার পদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়াটা অতি স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারতো। এটি সত্য যে, বাংলাদেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার নৈতিক দায়টুকুও কেউ স্বীকার করে না। তবে যতোদিন পর্যন্ত শিক্ষিত-বাঙালি, তার দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হলে সে ব্যর্থতার নৈতিক দায়টুকুও বোধ না করবে, ততোদিন পর্যন্ত বুঝতে হবে ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করা ছাড়া এদের পদ-পদবি গ্রহণের আর কোনো কারণ নেই। এই মানুষদের দিয়ে আর যেখানেই হোক, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কাম্য পরিবেশ নিশ্চিত করা অসম্ভব। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]