বুয়েট হলে হলে টর্চার সেল ও মিনিবার

আমাদের নতুন সময় : 09/10/2019

আসিফ কাজল : একটি মাস্টার্স ও মেয়েদের হলসহ বুয়েটে আটটি আবাসিক হল রয়েছে। এর মধ্যে স্নাতক ছাত্রদের ৫ টি হলেই আছে টর্চার সেল। শিক্ষার্থীদের র‌্যাগিং ও ভিন্ন রাজনৈতিক মতার্দশের ছাত্রদের জন্য এসব টর্চার সেল ব্যবহার করা হয়। এছাড়া মদ্যপান ও রাজনৈতিক নেতাদের ব্যবহারের জন্য ছিল একাধিক কক্ষ। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বার বা মিনিবার বলে জানে। তিতুমীর হল, শেরে বাংলা হল, আহসানুল্লাহ হল, এম এ রশিদ হল, সোহরাওয়ার্দী হলে পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য। টর্চার সেলে ব্যবহার হয় ক্রিকেট স্ট্যাম্প, হকিস্টিক, ও কোমরের বেল্ট। এছাড়াও চড়-থাপ্পড় তো আছেই।

আবাসিক শিক্ষার্থীরা বলেন, ২০১১ এর মত একাধিক কক্ষ রয়েছে টর্চারের জন্য। তবে হলের ছাদেই বেশীর ভাগ র‌্যাগিং ও পেটানোর ঘটনা ঘটে। গত এক বছরে ওই হলে তিন জন ছাত্রকে শিবির সন্দেহে মারধর ও পুলিশে দেওয়া হয়। কিছুদিন আগে অভিজিৎ কর নামের এক ছাত্রকে চুল বড় রাখার কারণে তা কেটে দেয়া হয়। হলের নিরাপত্তা প্রহরী নুরুল ইসলামও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কক্ষ নম্বর ৩০০৪। এই কক্ষকে বলা হয় মিনি বার। কক্ষ নম্বর ২০০৪ ও ২০০৫। পুরোটাই বার বলে পরিচিত শিক্ষার্থীদের কাছে। এছাড়া মেকানিক্যাল অনুষদের ছাত্র দিহানের কক্ষও মদের আখড়া নামে পরিচিত। মদ, গাজা ও ইয়াবা সেবন ছিল ছাত্রদের নিত্তনৈমিত্তিক ব্যাপার। বহিরাগত ছাত্ররাও নেশা করতে দিন-রাত আসা যাওয়া করে এখানে।

তবে কক্ষগুলো তালাবদ্ধ থাকায় ভিতরের চিত্র দেখা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় অন্তত শেরে বাংলা হলের ৫০ জন আবাসিক শিক্ষার্থী গাঁ ঢাকা দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত এই হত্যাকা- সংশ্লিষ্ট যতগুলো ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে তাতে শুধুমাত্র ১৭ ব্যাচের ছাত্রদেরকে দেখা গেছে। ১৫ ব্যাচের মেহেদি হাসান রবিন ভিডিওতে একজনকে দেখা গেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, নিহত আবরার ফাহাদ ১৭ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। শিক্ষার্থীরা বলেন, এই ধরণের ঘটনা নিয়মিত ঘটতো। হল প্রভোস্ট সব জানেন, তিনি চাইলে হত্যাকা-টি ঠেকাতে পারতেন। শেরেবাংলা হল প্রভোস্ট জাফরুল্লাহ খান বলেন, আমি মাত্র ৭ মাস আগে হলের দায়িত্ব পেয়েছি। আমার এই সময় এমন কোনো ঘটনা হয়নি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা আমাকে অভিযোগ করতে পারতেন। তবে হলে কোনো অভিযোগ বাক্স নাই বলেও তিনি স্বীকার করেন। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]