• প্রচ্ছদ » সর্বশেষ » মতে না মিললেই একজনকে মাইরা দশজন উল্লাস করে, এই মড়ক কী দিয়া থামাইবেন?


মতে না মিললেই একজনকে মাইরা দশজন উল্লাস করে, এই মড়ক কী দিয়া থামাইবেন?

আমাদের নতুন সময় : 09/10/2019

সাদিয়া নাসরিন : আচ্ছা, এই যে আপনারা মেধাবী খুনিদের দেখে এতো অবাক হইতেছেন আপনাদের দেখে আমি ততোধিক অবাক হইতেছি। আপনারা কি শিশু না অবোধ না ভ-? মেধাবীদের খুনি হইতে আগে দেখেননি? নাকি কোনো প্রক্রিয়ায় এই ‘ মেধাবী’রা খুনি হয়ে ওঠে তা জানেন না? এরা কি আসমান থেকে নাজিল হইছে নাকি আপনার আমার পারিবারিক সামাজিক প্রাতিষ্ঠানিক স্কুলিং তাদের খুনি বানাইছে? আসেন, নিজেদের প্রশ্ন করি। যার ভুলেই হোক, একটা প্রজন্ম তৈরি হয়ে গেছে যারা কিনা স্যরি বলাটারে হ্যাডমের অভাব হিসেবে ধরে নিছে। বিনয় নামের জিনিসটাকে এরা মকারি (বিদ্রুপ) করে। এরা সামহাউ অনুতপ্ত মানুষ গ্রহণ করতে পারে না। কেউ নত হলেই এরা ধরে নেয় হয় যে তিনি দুর্বল। এদের কাছে যেকোনো প্রকারে জেতাটাই সবচেয়ে জরুরি। এই প্রজন্মের বেশ কিছু মেধাবী তরুণকে আমি চিনি। তারা প্রচুর পড়ে। প্রচুর পড়ার জন্য এদের প্রচুর নেশা করতে হয়। নেশা করে প্রায় সারাদিন ঘুমায়। সারাক্ষণ এ্যারোগেন্ট থাকে। সুস্থ মাথায় এদের সাথে কোনো তর্ক, আলোচনা আগানো যায় না। দুলাইন তর্ক করতে না পারলেই বিলো বেল্ট খেলে। কাউকে বিশ্বাস করতে পারেনা, কোন সমালোচনা নিতে পারেনা। ভিন্নমত সহ্য করতে পারেনা। এরা মেধাবী, কিন্তু একজনের ব্যক্তিগত ডায়রি চুরি করে পড়া টা যে অন্যায় সেই বোধটাও এদের নাই। কারো ডায়রি পড়ে ফেলার মতো অন্যায় কাজ করে ভুল স্বীকার তো করেইনা, আবার দল বেঁধে উল্টো বড় গলায় বলে, ‘হ্যাঁ, আমি পড়ছি, সে পড়ছে, শুধু পড়িনাই, সবাইরে জোরে জোরে শুনাইছি’। মানে হইলো, এখন যা পারো করো’।
এখন এই যে হ্যডম দেখানোর মানসিকতা, ভুলকে ভুল স্বীকার না করার অভ্যাস, মানুষকে সম্মান করতে না জানা, সারাক্ষণ শর্টপাসে খেলার ট্যান্ডেন্সি, মতে না মিললেই একজনকে মাইরা দশজন উল্লাস করে, এই মড়ক কি দিয়া থামাইবেন? আমাদের ছেলেরা যখন বাইরে ব্যাটাগিরি করে এসে আমাদের প্রশ্রয় পাইছে, সন্তানের মিথ্যা কথারে বিনা প্রশ্নে যখন আমরা বিশ্বাস করছি, আমরা যখন সন্তানের হাতে বিনা হিসাবে বেহিসাবী টাকা তুইলা দিছি, সন্তান কেমন সঙ্গ করতেছে সেই খবর রাখিনি, সন্তানের অপরাধ বাবার কাছে লুকাইছি তখন কি এই তাদের অপরাধের দায়ভার আমাদের উপর আসেনা? আমরা কি পরিবার থেকে এদের বেসিক মূল্যবোধ তৈরি করতে পারছি? কারো বাসায় গেলে যে তার অনুমতি ছাড়া বিছানায় শোয়া যায়না, যার বাসায় গেছে তার সাথে মিনিমাম হ্যালো পর্যন্ত না করে যে সোফায় পা তুলে বসা যায়না, এসব মিনিমাম ম্যানার না জানা, এসবের জন্য কি আমরা দায়ী নই? আবেগ, মায়া, মমতা, কৃতজ্ঞতা, মানবিকতা, সহনশীলতা এসব বোধের সাথে পরিচয় কি এদের পরিবার থেকে করানো হইছে? আমরা তো এদের শুধু শিখাইছি জেতো, জেতো আর জেতো। দরকার হলে মানুষকে ন্যাংটো করে দিয়ে হলেও জিতে আসো। তো, জেতার জন্য এরা বোমা বানাইলে, মানুষ খুন করলে, ধর্ষণ করলে, মেয়েদের মলেস্ট করলে, টেন্ডারবাজি করলে, চাঁদাবাজি করলে তারপর কাঁদতে বসেন ক্যান? আয়নায় নিজের চেহারা দেখছেন? ওই যে নয়জন মেধাবী খুনি, বিশ্বাস করেন তাদের বাবা-মার জন্য আমার করুণাও হয় না। এই খুনিরা বাবা-মায়ের কর্মফল। আমার বরং জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছা করে, বাচ্চা বিয়াইছেন, তালেবর বানাইছেন, মেধাবী বানাইছেন, ‘আমার ছেলে অমুক দলের তমুক’ বলার সময় সুখ নিছেন, ছেলে যা বলছে বিশ্বাস করছেন। সব ঠিক আছে, কিন্তু ছেলেরে মানুষ বানাইছিলেন তো। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]