মেধাবীরা খুন আর খুনি হবে তেমন রাজনীতি চাই না

আমাদের নতুন সময় : 09/10/2019

মোস্তফা ফিরোজ : বেখবর : সকালে উঠে টিভি ছেড়ে টিভি স্ক্রলে দেখলাম, আবরার হত্যার দাবিতে আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের দাবি, ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ করো। আর একটি খবর দেখলাম। সেখানে নাট্য ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বুয়েটের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। বলেছেন, আমি তোমাদের অভিশাপ দিই। এই দুটি ঘটনায় প্রমাণ করে বিদ্যমান দুর্বৃত্তায়ন রাজনীতির প্রতি সাধারণ মানুষের ঘৃণা কতো তীব্র। যে রাজনীতির চক্রে মেধাবী শিক্ষার্থীরা খুন আর খুনি হয়, সেই রাজনীতি অবশ্যই পরিত্যাজ্য। অথচ রাজনীতি ছিলো বলেই বাংলা ভাষা হয়েছে। রাজনীতি ছিলো বলেই দেশটা স্বাধীন হয়েছে। আর রাজনীতি যখন থাকেনা তখন দেশে ভর করে গণতন্ত্রহীন ও সামরিক বেসামরিক স্বৈরতন্ত্র। তখনই সমাজ রাষ্ট্রে চেপে বসে খুন, ঘুম, সন্ত্রাস, দুর্নীতি সহ নানা রকমের পাপাচার অনাচার।
বিদ্যমান রাজনীতির পচন ধরেছে অনেক আগেই। তারপরও ক্ষমতার জন্য মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের দরকার এই রাজনীতির। আজ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেখানে মুক্তবুদ্ধির চর্চা প্রয়োজন, সেখানে রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি ওঠে। কেননা, তারা দেখছে বিদ্যমান ক্ষমতার ছাত্র রাজনীতি ঘৃণার জন্ম দিচ্ছে। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে নিশ্চিহ্ন করছে। তাই রাজনীতির প্রতিই শিক্ষার্থীদের ঘৃণা। আমাদের রাজনীতিকরা রাজনীতিকে সম্মান-মর্যাদার জায়গায় নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। অথচ এমন উচ্চশিক্ষার একটি ভূমিতেই মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগেই স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়েছিলো। মোস্তফা সরয়ার ফারুকী কোনো দল করেন না। কিন্তু বিবেকেরে তাড়নায় তিনি ফেসবুকে বক্তব্য দিয়েছেন। অথচ নির্বাচনের আগে কতো শিল্পী খেলোয়াড়েরা দল বেঁধে রাজনীতির খাতায় নাম লেখালেন, তারা আজ নীরব। কি রাজনীতি! এখন তো দেশের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। অর্থনীতির সমৃদ্ধি সিঙ্গাপুর কানাডাকে ছাড়িয়ে যাবে বলে নীতিনির্ধারকরা প্রচার করছেন। কিন্তু মানবিক গণতান্ত্রিক রাজনীতির যদি উন্নয়ন না আসে তাহলে মানুষ ধনী হয়ে কি করবে? কী হবে এতো টাকাপয়সা? কে খাবে এতো সম্পদ? সৌদি আরবতো অনেক ধনী। কিন্তু সেই দেশের সাংবাদিক জামাল খসোগজিকে নির্মমভাবে খুন করেছিলো সেই দেশের রাষ্ট্রীয় বাহিনী। এইজন্য বিশ্বের কাছে নিন্দিত সৌদি শাসকরা। আমরা কি ধনী দেশও হবো, আবার খুন জখমের মধ্য দিয়ে দেশটাকে মৃত্যুর উপত্যকায় পরিণত করবো? ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]