১০ ছাত্রলীগ নেতা রিমান্ডে

আমাদের নতুন সময় : 09/10/2019

 

মামুন আহম্মেদ : বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বী হত্যা মামলায় ১০ আসামির পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুনানি শেষে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী এ আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন- বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে রবিন, গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে মুন্না, ছাত্রলীগের সদস্য মুনতাসির আল জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম ওরফে তানভীর, মুজাহিদুর রহমান, অনীক সরকার, মেফতাহুল ইসলাম ও ইফতি মোশাররফ সকাল।
এর আগে রাজধানীর চকবাজার থানার পরিদর্শক কবির হোসেন হাওলাদার আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, ৬ অক্টোবর রাত ৮টা ৫ মিনিটের দিকে আবরারকে বুয়েট শেরে বাংলা হলের ১০১১ নং রুম থেকে ডেকে নিয়ে ওইদিন দিবাগত রাত আড়াইটা পর্যন্ত হলের ২০১১এবং ২০০৫ এর ভিতরে নিয়ে আসামিরাসহ এজাহার নামীয় অন্যান্য পলাতক আসামিসহ অজ্ঞাত আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ক্রিকেট স্ট্যাম্প এবং লাঠি-সোটা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় প্রচন্ড মারধর করে। যার ফলে ঘটনাস্থলে আবরারের মৃত্যু হয়। আবরারের মৃত্যু নিশ্চিত করে আসামিরা ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার সিঁড়িতে তার মৃতদেহ ফেলে রাখে। পরে কতিপয় ছেলে আবরারের মৃত দেহ সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
মামলার ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলে মামলার মুল রহস্য উদঘাটন, এজাহার নামীয় পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারসহ অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ পূর্বক গ্রেফতারের লক্ষ্যে এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থণা করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
এদিন বেলা দেড়টার দিকে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। দুপুর ২ টা ৫৫ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হাত কড়া পরিয়ে তাদের এজলাসে তোলা হয়। বেলা ৩ টা ৩ মিনিটের দিকে শুনানি শুরু হয়।
সংশ্লিষ্ট থানার আদালতে সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম রিমান্ড আবেদন পড়ে শোনান। এরপর রাষ্টপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান (হিরণ) রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন।

তিনি বলেন, সহপাঠীরা পরিকল্পিতভাবে আবরারকে নির্মমভাবে আঘাত করে হত্যা করে। এটি একটি আলোচিত ও লোম হর্ষক ঘটনা। এ ঘটনায় বাংলাদেশ স্তব্ধ। তাকে হত্যা করে এমন জায়গায় ফেলে আসলো কেউ ঠিকও পেল না। এ আসামিরা এখন আবরারের বাবা-মায়ের কাছে কি জবাব দিবে। বুয়েট একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। আর এখন সেখানে খুনীরা জন্ম নিয়েছে। ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে তারা এ অপকর্ম করছে। সংগঠনের দোষ দিবো না। আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। পুলিশ যে রিমান্ড আবেদন করে তা মঞ্জুরের প্রার্থণা করছি।
এদিন চার আসামির পক্ষে রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন করে শুনানি করেন তাদের আইনজীবীরা।
মুজাহিদুর রহমানের পক্ষে তার আইনজীবী মোরশেদা খাতুন শিল্পী এবং শামীমুর রহমান বলেন, আমরা সবাই চাই প্রতিটা অপরাধের বিচার হোক। কিন্তু এ আসামি ঘটনাস্থলে ছিল না। পরিস্থিতির শিকার। তদন্ত হোক, তখন বেরিয়ে আসবে দোষী না নির্দোষ। এখন এ আসামির রিমান্ড বাতিলের প্রার্থণা করছি। ইফতি মোশাররফের পক্ষে আইনজীবী মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ভিডিও ফুটেজে দেখা গেলেও ঘটনার সাথে জড়িত না। ইশতিয়াকের আইনজীবী বলেন, ইশতিয়াক ঘটনাস্থলে ছিল না। সেদিন সে বিয়ের অনুষ্ঠানে কুমিল্লা ছিল।
খন্দকার তাবাখখারুলের আইনজীবী আবেদুর রহমান (সবুজ) বলেন, ভিডিও ফুটেজে দেখা গেলেও সে ঘটনার সাথে জড়িত না। অপর ৬ আসামির পক্ষে কোন আইনজীবী ছিলেন না।
শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে প্রত্যেকের ৫ দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন। বেলা ৩ টা ১২ মিনিটের দিকে তাদের আদালতে থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
সোমবার আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় বাবা বরকতুল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]