আবারও বিতর্কের মুখে ছাত্র রাজনীতি

আমাদের নতুন সময় : 10/10/2019

 

আশিক রহমান : বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার পর ছাত্র রাজনীতি নিয়ে আবারও বিতর্ক ওঠেছে। বর্তমান ছাত্র রাজনীতি সাধারণ ছাত্রদের স্বার্থে কাজ করে না বরং বিশ^বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের দাপটে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ অন্য ছাত্র সংগঠনগুলো একরকম কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এর ফলে কেউ কেউ ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের কথা বলছেন অনেকেই। তবে বুধবার এক সাংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি ছাত্র রাজনীতি করেই এ পর্যন্ত এসেছি, তা নিষিদ্ধ করবো কেন? তবে কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলে নিষিদ্ধ করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনেকটা সহমত পোষণ করে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ না করে অপরাজনীতি বন্ধের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. একে আজাদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ছাত্ররাই একমাত্র নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে। দেশের যেকোনো সংকটে দাঁড়িয়ে যায়। পেশাজীবীরা কখনো স্বার্থের বাইরে গিয়ে কাজ করে না। ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করে সংকটের সমাধান হবে না বরং তা নিষিদ্ধ করলে সমাজের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে। তবে এই মুহূর্তে ছাত্র রাজনীতির নামে যে অপরাজনীতি চলছে, তা বন্ধ করতে হবে।
ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন ছাত্র রাজনীতির বর্তমান অরাজক পরিস্থিতি দূর করার জন্য সাময়িক হলেও তা নিষিদ্ধের পক্ষে। তার মতে, বাংলাদেশের অধিকাংশ খেটে খাওয়া কর্মজীবী মানুষ দেশের ভালো-মন্দের ব্যাপারে নির্বিকার। একমাত্র ছাত্র-শিক্ষকই এ দেশের জন্য নিঃস্বার্থভাবে চিন্তা করে। তাই এ অংশের কথা ভেবে আমি ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি বন্ধের পক্ষে ছিলাম না। কিন্তু সম্প্রতি আমি অনেক ভেবে সেই পথ থেকে সরে এসেছি।
তবে তার সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা নূরে আলম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের মধ্যে সমাধান নেই। ফলে তা নিষিদ্ধ নয়, ক্ষমতাসহ রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে ছাত্র রাজনীতির সস্পৃক্ততা বন্ধ করতে হবে। লেজুড়বৃত্তি বন্ধ করতে হবে। এখন ছাত্র রাজনীতি সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দেয়ার পাঁয়তারা চলছে। মূল্যবোধ বিবর্জিত কোনো রাজনীতি দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণ হতে পারে না। ছাত্র রাজনীতি ঢেলে সাজাতে হবে।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু বলেন, ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ নয়, রাজনৈতিক দলকে হাত সরাতে হবে। সমিতি ও সংগঠন নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার স্বার্থে সরকার অবশ্য আইন দ্বারা কোনো সংগঠন নিষিদ্ধ করতে পারে। সন্ত্রাসী ও উগ্র ধর্মান্ধ সংগঠন সে কারণে নিষিদ্ধ হয়। সম্পাদনা : রমাপ্রসাদ বাবু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]