আমাদের সম্মিলিত নীরবতাই আবরারের খুনের জন্য দায়ী

আমাদের নতুন সময় : 10/10/2019

কামরুল হাসান মামুন : একটি দেশ তখনই সুন্দর যখন সেই দেশে একটি থ্রেশোল্ড পরিমান প্রতিবাদী মানুষ থাকে। বর্তমান বাংলাদেশে রক্তের শ্বেতকণিকাসম এই প্রতিবাদী মানুষের সংখ্যা এলার্মিংলি কমে গেছে। তাই বলা যায় বাংলাদেশ এখন ক্যান্সারে আক্রান্ত। রক্তের শ্বেতকণিকাসম এই প্রতিবাদী মানুষের সংখ্যা থ্রেশহোল্ড থেকে নিচে নেমে গেলে ভাইরাস আর ব্যাক্টেরিয়াসম মানুষদের জয়জয়কার। ওরা তখন বেপরোয়া হয়ে উঠে এই সংখ্যাকে আরো কমানোর। বর্তমান বাংলাদেশ মহাদুর্যোগের মধ্যে দিয়ে পার হচ্ছে যেখানে মূর্খ, ভন্ড আর শয়তানরা উল্লাসে মত্ত আর ভালো মানুষরা কোণ্ঠঠাসা। নগর পুড়িলে দেবালয় এড়ায় না। একসময় দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিলো প্রতিবাদী মানুষের সূতিকাগার। শিক্ষার মানের সাথে প্রতিবাদী মানুষের সংখ্যার একটি সম্পর্ক আছে। পেছন ফিরে তাকালে স্পষ্ট হবে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদী কণ্ঠের সংখ্যা দিন দিন কন্সিস্টেন্টলি কমেছে এবং সেই সাথে শিক্ষার মানও কমেছে।
আমরা যখন ছাত্র ছিলাম তখন দেখেছি ক্যাম্পাসে একটি লাস পরলে ছাত্র-শিক্ষকরা কি রকম বিক্ষোভে ফেটে পড়তো। কিন্তু সেটাও লক্ষ করেছি এই বিক্ষোভের মাত্রা দিন দিন কমেছে। আস্তে আস্তে কমেছে বলে অনেকদিন টের পাইনি। কিন্তু থ্রেশহোল্ড মাত্রার চেয়ে কমে যাওয়ায় এখন দৃশ্যমান। এখন যেহেতু খারাপের সংখ্যা বেশি তাই একটি ভীতির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। সবাই এখন নিরাপদ থাকতে চায়। বাবা-মা সন্তানদের বলে কিচ্ছুতে যাবা না। দেখবা কিন্তু বলবা না। আর কিছু করার চিন্তাও করবা না। এর মাধ্যমে খারাপরা আরো শক্তিইশালী হয়ে এখন শক্তিধর হয়ে আমাদের সামনে মূর্তিমান। দুনিয়ার সকল দেশে একটি জিনিস সত্য সেটি হলো যেই দেশে যেই সম্প্রদায়ের মানুষ সংখ্যাগরিষ্ট হয়েছে সেই দেশে তারাই সংখ্যালঘুদের উপর দৃশ্যত কিংবা অদৃশ্যত নির্যাতন চালিয়েছে। এই নির্যাতনের মাত্রাটা কিরকম সেটাও সংখ্যাগরিষ্টের মানুষদের মানের ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও আজ খারাপ মানুষ, কি শিক্ষক কি ছাত্র, দিয়ে ভরপুর। এই সুবিধাটা যখন যে সরকারে থাকে তারাও বুঝেছে। তাই বাংলাদেশের প্রতিটি সরকার এই অংশটিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে। এই কাজে বর্তমান সরকার সবচেয়ে বেশি সফল। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]