‘কেউ যদি পানি পান করতে চায় আমরা না দেই, সেটা কেমন দেখা যায়?’

আমাদের নতুন সময় : 10/10/2019

 

রাশিদ রিয়াজ : ফেনী নদীর উৎস সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হলেন প্রায়ই সকল সাংবাদিক। শুধু একজন সাংবাদিক ক্ষীণস্বরে বললেন ‘ভগবান টিলা’। প্রধানমন্ত্রী জানান, হ্যা এই ভগবান টিলা পাহাড়টি বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। বুধবার গণভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে ফেনী নদীর পানি ভারতকে দেয়ার ব্যাপারে চুক্তি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্নটি করেন কেউ জানেন কি না ফেনী নদীর উৎস কোথায়? এসময় বেশ কয়েকটি মূহুর্ত ‘পিনড্রপ সাইলেন্ট’এর মত পরিবেশে রুপ নেয়।
এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, খাগড়াছড়ির ভগবান টিলা পাহাড়ে ফেনী নদীর উৎপত্তি এবং নদীটি একটি সীমান্তবর্তী নদী। এরপর নদীটি মাটিরাঙ্গা, রামগড়, সোনাগাজী হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে নদীটি পাহাড়িয়া আঁকাবাকা পথে ভারতের বেশকিছু অংশ ঘুরে এসেছে। এর ৯৪ কিলোমিটার সীমান্তে, ৪০ কিলোমিটার বাংলাদেশের ভেতরে। এখন নদীটির যে অংশের কাছাকাছি ভারতের সাবরং এলাকা সেখানে খাবার পানির সংকটে বাংলাদেশ এ নদী থেকে ১.৮২ কিউসেক পানি দিতে রাজি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি পানি পান করতে চায় তাহলে মানবিক ব্যাপারের মতই এ সামান্য পানি খাওয়ার জন্যে ভারতকে দেয়া হচ্ছে। কারণ সীমান্তবর্তী নদী হিসেবেই ফেনী নদীতে ভারত-বাংলাদেশের অধিকার আছে। যে চুক্তিটা হয়েছে সেটা তাদের খাবার পানির জন্য। তারা যখন আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে পানি তোলে, সেটার প্রভাব আমাদের দেশেও পড়ে। তাই নদী থেকে সামান্য পানি দিচ্ছি। যে চুক্তিটা হয়েছে, সেটা ত্রিপুরাবাসীর খাবার পানির জন্য। সব জায়গায় আমরা নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করেছি। যেটুকু পানি নিয়েছে, ততটুকু আমাদের অংশে পড়েছে বলেই চুক্তি করেছি।
একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমারসহ উজান থেকে আসা নদীগুলোর পানি বণ্টন ও এনআরসি নিয়ে আলোচনা চলছে। উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তিনি বিএনপিসহ অন্যদের সমালোচনার বিষয়ে বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের কাছে আমার প্রশ্ন, জিয়াউর রহমান ও পরে খালেদা জিয়া যখন ভারতে যায় তারা কি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি করতে পেরেছিল? তারা কী জবাব দিয়েছিল? আমরা ক্ষমতায় আসার পর গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি করার পর শুনতে হয়েছে ২৫ বছরের চুক্তি, দেশ বেচার চুক্তি। এবার হিসাব করে দেখেন কতটা গেছে আর কতটা পেয়েছি।’ সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]