• প্রচ্ছদ » সাবলিড » ছাত্রলীগের টর্চার সেল থেকে বেঁচে ফেরা আরেক বুয়েট ছাত্রের জবানবন্দি


ছাত্রলীগের টর্চার সেল থেকে বেঁচে ফেরা আরেক বুয়েট ছাত্রের জবানবন্দি

আমাদের নতুন সময় : 10/10/2019

শাহানুজ্জামান টিটু : বুয়েট ছাত্রলীগের টর্চার সেল থেকে আবরার ফাহাদ ফিরতে না পারলেও ভাগ্যের জোরে বেঁচে ফিরেছেন অনেকেই। তবে টর্চার থেকে ফিরে আসা বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী মো. এনামুল হক। তার উপর চালানো নির্যাতন এতোটায় ভয়াবহ ছিলো যা তিনি আত্মীয়-স্বজন-পরিবার-পরিজনকেও বলতে ভয় পেয়েছেন। এনামুল নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, পরীক্ষার হল থেকে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর টর্চার সেলে বিকাল ৫টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নির্যাতন চলেছে। তিনি ওই নির্যাতনের ছবিও প্রকাশ করেছেন। মো. এনামুল হকের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি কিছু অংশ এখানে দেয়া হলো- এগুলো আমারই ছবি, ছয় বছর আগের, আবরার মারা গেছে, আমি ওই দফায় বেঁচে ফিরেছি। বুয়েটের ও এ বি এর দোতলায় মেকানিক্যাল ড্রয়িং কুইজ দেয়া শেষ হওয়া মাত্রই পরীক্ষার রুম থেকে তন্ময়, আরাফাত, শুভ্র জ্যোতি টিকাদারদের নেতৃত্বে ৮-১০ জন ছাত্রলীগের ছেলে শিক্ষকের সামনে থেকে তুলে নিয়ে আহসানউল্লাহ হলের তখনকার টর্চার সেল ৩১৯ নাম্বার রুমে নির্যাতন করে। আমি কারও সাথে যেখানে রাগারাগি পর্যন্ত করতাম না, কারো সাথে কখনোই সম্পর্ক খারাপ পর্যন্ত যেখানে ছিল না, শুধুমাত্র ফেইসবুকে সরকারি নীতির সমালোচনা করে পোস্টের কারণে বুয়েটের মতো একটা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রলীগ আমার সাথে এমন আচরণ করে।
এর ৬ দিন আগে সাবেক বুয়েট ছাত্রলীগ সভাপতি শুভ্র জ্যোতি টিকাদার (’০৯) ও কাজল (’০৯) ল্যাব থেকে আমাকে ধরতে এসে ব্যর্থ হয়ে পরীক্ষার রুম থেকে আমাকে একা ধরতে ওরা ৮-১০ জন প্রস্তুতি নিয়ে আসে!

বিকেল ৫ টা থেকে রাত ১১ টা ৩০!! বদ্ধ রুমে আমার পিঠের ওপর লোহা দিয়ে ’১০ ব্যাচের এক ভাই প্রধানত তার শক্তি পরীক্ষা করে। এর কতদিন আগে কোনো একটা নামাজ মিস দিয়েছি ভুলেই গিয়েছিলাম। কিন্তু সেদিন তারা আসর আর মাগরিব নামাজ পর্যন্ত পড়ার সুযোগ দেয়নি। সারাজীবন একটি মাত্র স্বপ্ন দেখেছিলাম বুয়েটে পড়বো। বুয়েটের ছাত্রদের ভাবতাম আদর্শ। অথচ সেখানেও এমন হবে- জানা ছিল না। ভর্তি পরীক্ষার সময় গুরুজনেরা বলতেন- দোয়া কর, যেখানে তোমার জন্য কল্যাণ, আল্লাহ যেন সেখানেই তোমাকে চান্স পাইয়ে দেন। আর বুয়েটের অন্ধপ্রেমিক এই আমি দোয়া করতাম- আল্লাহ, বুয়েটেই আমার কল্যাণ দাও।
আসলে বুয়েটে পড়ার প্রথম ইচ্ছে হয়েছিল ক্লাস ফাইভে, বাবা বলেছিলেন- ছেলেকে বুয়েটে পড়াতে চাই, সেই থেকে। ভার্সিটি এডমিশনের সময় বাবা অন্য ভার্সিটিগুলোর ফর্ম নিতে দিচ্ছিলেন না, বলছিলেন- ওসবে কালো রাজনীতি ছেয়ে গেছে, বুয়েটেই চান্স পেতে হবে, ওখানেই পড়তে হবে, ওখানে কালো রাজনীতি নেই। জানি, তুমি পারবা।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]