• প্রচ্ছদ » » এবারের দুই নোবেল লরিয়েট ওলগা তোরাকারচুক ও পিটার হান্ডকে তারা বিশ্বসাহিত্যে জনপ্রিয় না হলেও এখন হওয়ার সুযোগ পাবেন


এবারের দুই নোবেল লরিয়েট ওলগা তোরাকারচুক ও পিটার হান্ডকে তারা বিশ্বসাহিত্যে জনপ্রিয় না হলেও এখন হওয়ার সুযোগ পাবেন

আমাদের নতুন সময় : 11/10/2019

দেবদুলাল মুন্না :  ঔপন্যাসিক জর্জ অরওয়েল সম্পর্কে সমালোচক মেক্সিকান কথা সাহিত্যিক ব্রিজেস বেহেনো বলেছিলেন, অরওয়েল সারাজীবন উপন্যাস না লিখে একটা লিফলেট ছাপলেই হতো। ২০০৯ সালে সাহিত্যে নোবেলজয়ী জার্মানভাষী লেখিকা হার্তা মুয়েলারের বেলায় কেউ কেউ সেই কথা বলেছেন। তার নোবেল জয় যতটা না সাহিত্যিক তার চেয়ে বেশি কমিউনিজমের বিরোধিতারই পুরস্কার। সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার নিয়ে বিরুপ সমালোচনা রয়েছে। গতবছর পুরস্কার ঘোষণা স্থগিত ছিল। কারণ আর কিছুই নয় কমিটির মধ্যে দ্বন্ধ দেখা দিয়েছিল বিচারকমÐলীর মধ্যে।কেলেঙ্কারির কারণে এক বছর বন্ধ ছিলো সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার। নতুন কমিটি গঠন করে এ বছর দু বছরের নোবেল পুরস্কার একসঙ্গে দেয়া হয়েছে। ২০১৮সালের মুলতবি থাকা পুরস্কার পেয়েছেন পোলিশ লেখক ওলগা তোরাকারচুক আর এ বছরের পুরস্কার পেলেন অস্ট্রিয়ান সাহিত্যিক পিটার হান্ডেক। কিন্তু নোবেল সাহিত্যিকদের নাম ঘোষণা হওয়ার পরপরই বেশ কয়েকবার ধরে ‘এ বছরই মিলান কুÐেরা পাবেনই পাবেন, মুরাকামি পাবেনই পাবেন’এমন শোরগোল থেমে গেল। তাদেরভ ক্তরা হলেন হতাশ। মিলান কুÐেরা হাফিংটন পোস্টকে বলেই দিলেন গতকাল, ‘ আমি নোবেল পাওয়ার জন্য তো লেখিনি।জাঁপল সাত্রে এ পুরস্কার প্রত্যাখান করেছিলেন। অনেকে করেছেন।এ নিয়ে এর বেশি কিছু বলার নেই।’ কিন্তু তবু তার কথায় শ্লেষ আছে নোবেল কমিটির বিচারকদের সাহিত্যবোধ নিয়ে।
এবার যারা পুরস্কৃত হলেন তাদের মধ্যে গতবছর ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ পেয়েছিলেন পোল্যান্ডের লেখক ওলগা তোরাকারচুক। তাঁর ‘ফ্লাইটস’ উপন্যাসের জন্য তিনি এ পুরস্কার পেলেন। এই প্রথম পোল্যান্ডের কোনো লেখক মর্যাদাপূর্ণ এ পুরস্কারটি জয় করলেন। ওলগা পোল্যান্ডের একজন বেস্টসেলার লেখক। এর আগেও তিনি বহু পুরস্কার পেয়েছেন। ‘ফ্লাইটস’ উপন্যাসে মানবদেহের ব্যবচ্ছেদ নিয়ে গল্প ফেঁদেছেন ওলগা। অ্যাকিলিসের শরীরের তন্তু ব্যবচ্ছেদকারী ডাচ্ চিকিৎসকের নিজের বিচ্ছিন্ন পায়ের ব্যবচ্ছেদের গল্প থেকে শুরু করে মিউজিক কম্পোজার ফ্রেডেরিক শপিনের হৃদপিÐ তাঁর বোনের প্যারিস থেকে ওয়ারশতে বহন করে আনার গল্পের সমন্বয় করেছেন তিনি। উপন্যাসটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন জেনিফার ক্রফট। তোরাকারচুক এর নোবেল পাওয়া প্রসঙ্গে সুইডিশ অ্যাকাডেমি বলেছে, ‘তিনি পুরস্কার পেলেন তার কল্পনার বর্ণনার জন্য, যা তিনি অত্যন্ত শক্তিমত্তার সঙ্গে দিয়েছেন। তিনি জীবনের সীমা অতিক্রম করতে পেরেছেন। আর হ্যান্ডেক এর পুরস্কার পাওয়া নিয়ে বলা হয়েছে, ‘তার প্রভাববিস্তারি জাদুবাস্তব লেখার জন্য যেটি তিনি চমৎকার ভাষাশৈলীর স্বাক্ষর রেখে লিখেছেন। তিনি সারা বিশ^ আবিস্কার করেছেন, বিশেষত মানবিক অভিজ্ঞতা।’
সাহিত্যবিশারদরা বলছেন তোরাকারচুক একটি বিষ্ময়কর কিন্তু অসাধারণ পছন্দ ছিলো। বিচারকরা বলেছেন, একজন লেখিকা যিনি স্থানীয় মানুষের জীবনকে কাছ থেকে দেখেছেন। যদি পৃথিবীকে দেখেন পাখির চোখ দিয়ে।’ পুরস্কার ঘোষণার সময় এই ওলগা জার্মানিতে একটি ট্রেনে ভ্রমণ করছিলেন। তিনি প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘আমি সবসময় মনে করেছি পোল্যান্ড তার ইতিহাসের অন্ধকার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার যোগ্যতা রাখে।’ তোরাকারচুক সাহিত্যে নোবেল পাওয়া ১৫তম নারী। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ান নাট্যকার পিটার হ্যান্ডেক এর নোবেল পাওয়াটি পোলিশ লেখক ওলগার চেয়েও বেশি বিতর্ক তৈরী করবে বলে মত দিচ্ছেন সাহিত্যবিশারদরা। এর দুদিন আগেই সুইডশ অ্যাকাডেমি ঘোষণা দিয়েছিলো, এই পুরস্কারের ক্ষেত্রে তারা পুরুষতান্ত্রিক ও ইউরোসেন্ট্রিক ধারণা থেকে বেরিয়ে আসবে। কিন্তু হ্যান্ডেককে পুরস্কার দিয়ে কমিটি আগের ধারাতেই থেকে গেলো। তবু হ্যাÐেক ততো জনপ্রিয় লেখকও না। সে অর্থে ওলগাও না। হয়তো এই দুই নতুন নোবেল লরিয়েটের সৃষ্টির প্রতি এখন সাহিত্যবোদ্ধাদের আগ্রহ জন্মাবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]