কী ছিল মুমূর্ষু আবরারের শেষ আকুতি

আমাদের নতুন সময় : 11/10/2019

দেবদুলাল মুন্না: শেষ মুহূর্তেও আবরারের মুখে ছিল বাঁচার আকুতি। আর্তনাদ করে বলেছিলেন , ‘প্লিজ আপনারা কেউ আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।’ প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসির করা এক রিপোর্টে উঠে এসেছে আবরার হত্যার লোমহর্ষক কিছু মুহূর্ত। বুয়েটের এক শিক্ষার্থী বিবিসিকে বলেন, যে কক্ষে আবরারকে মারধর করা হয়, সেখানে রাত ২টা পর্যন্ত জীবিত ছিলেন আবরার। প্রায় সাত ঘণ্টার টানা নির্যাতনে মৃত্যু হয় গত রোববার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদের।
বুয়েটের প্রত্যক্ষদর্শী ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি আবরারকে ২০০৫ নম্বর কক্ষে দেখতে পাই, তখনো সে জীবিত। কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষার্থীকে সঙ্গে করে আমি তাকে সিঁড়ির কাছে নিয়ে যাই। তখনো সে জীবিত। সে বলছিল- ‘প্লিজ আমাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চলো।’
ঘটনাস্থলে থাকা আরেক শিক্ষার্থী বলেছেন, আবরারকে বাঁচাতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কয়েকজন শিক্ষার্থী হলের সহকারী প্রভোস্টের কক্ষে যান। তখন বাইরে থেকে ওই কক্ষের দরজায় ধাক্কাধাক্কি করছিল ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। তারা কক্ষে ঢোকার চেষ্টা করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসির রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশ-ভারত পানি চুক্তি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পর আবরারকে ইসলামি দলের সদস্য সন্দেহে ধরে নিয়ে ‘জেরা’করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
একাধিক শিক্ষার্থী ও এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে হামলাকারীদের নির্মম নির্যাতনের মুখে আবরার দুবার বমি করেন। সঙ্গে প্র¯্রাব করেন। বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। রোববার মধ্যরাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার মাঝামাঝি সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বুয়েট ছাত্রলীগের ১৪ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। ফাহাদ হত্যাকা-ে ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেছেন তার বাবা বরকুতল্লাহ। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]