• প্রচ্ছদ » সাবলিড » গত বছরে আটবছরে ৮শত জন, চলতি বছরে আবরারসহ গণপিটুনিতে মৃতের সংখ্যা ৪৭


গত বছরে আটবছরে ৮শত জন, চলতি বছরে আবরারসহ গণপিটুনিতে মৃতের সংখ্যা ৪৭

আমাদের নতুন সময় : 11/10/2019


দেবদুলাল মুন্না : যতো সময় যাচ্ছে ততোই দেশে গণপিটুনিতে নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আইন সালিশ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী গত ৮ বছরে ৮০০ জনকে গণপিটুনিতে মারা হয়েছে। ২০১৮ সালে সারা দেশে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ৩৯ জন।
তবে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য মতে বলছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সারা দেশে ৩৬ জন গণপিটুনিতে মারা গেছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ বছর। এরপরের তিনমাসে গণপিটুনিতে বুয়েটের ছাত্র আবরারসহ মারা গেছেন আরও সাতজন ( বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী)। ফলে এখন পর্যন্ত এ বছর আবরারসহ গণপিটুনিতে মৃতের সংখ্যা ৪৭ জন।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের(১৭তম ব্যাচ) ছাত্র আবরার। ৬ অক্টোবর গভীর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের এক তলা থেকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির মাঝ থেকে আবরারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাকেও বুয়েটের ছাত্রলীগের সদস্যরা ফেসবুকে পোস্ট লেখার কারণে গণপিটুনিতে মেরে ফেলে। ভিসি এ হত্যাকা-ের পরও দুইদিনের ভেতর ঘটনাস্থলে যাননি। চলতি বছরেরই ২০ জুলাই রাজধানীর উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে দুই সন্তানের মা তাসলিমা বেগমের রেনুকে ‘ছেলেধরা’ গুজব ছড়িয়ে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি ওই স্কুলে তাঁর সন্তানের ভর্তির বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন।ওই স্কুলের অধ্যক্ষ গণপিটুনি থেকে রেনুকে বাঁচাতে এগিয়ে যান না। চলতি বছরের আগস্টে মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করেছিলেন শুধু সিরাজগঞ্জের তাড়াশে মা খুশি বেগম। ফলে তাকেও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
আগস্ট ও জুলাই মাসে পদ্মায় সেতু নির্মাণের জন্য মাথা লাগবে এমন মিথ্যা গুজবের জেরে রংপুরের পীরগাছায় ও সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে দুইজনকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়।
চলতি বছরের জুলাই মাসে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে রাজধানীর ওয়ারীতে এক বাবাকে হত্যা করেছেন তারই ছেলেমেয়ে। ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। চলতি বছরের আগস্ট মাসেই গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্র রাহাত মিয়াকে (১৪) পিটিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এররকম গণপিটুনির একটা আলাদা চরিত্র আছে। রিফাত হত্যা বা অভিজিৎ রায়কে প্রকাশ্যে কোপানোর ঘটনায় পাবলিক নিজেদের সংযুক্ত বোধ করে না, কিন্তু ছেলেধরার গুজব বা রাস্তায় যেকোনো দুর্ঘটনায় সে নিজেকে সম্পৃক্ত বোধ করে এবং তার ভেতর সেই সময়কার গণমানুষের সক্রিয়তার মানসিকতা সংক্রমিত হয়। সে সেখানেই বিচারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।’
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেন, ‘যখন সমাজে ‘মোরাল প্যানিক’ ছড়িয়ে পড়ে তখন ‘মব’ তৈরি হয়। ‘মোরাল প্যানিক’ হচ্ছে এমন ধারণা বা ভীতি যা সমাজের বড় অংশের মানুষের জীবনযাপনে ভয়াবহ কিছু তৈরির হুমকি নিয়ে হাজির হয়। ওই অবস্থায় ‘ইভিল’ মোকাবিলার নামে, লোকজন দল বেঁধে ওই ইভিলের প্রতীক হিসেবে একজন মানুষকে আক্রমণ হত্যা করে। সমাজে মুল্যবোধের অবক্ষয়। একটা সমাজে যখন সামাজিক বাঁধনগুলো দুর্বল হয়ে যায় তখন দেখা যায়, মানুষ আর এই ধরনের ঘটনার যে মানবিক একটা দিক আছে, তারা যে অন্য একজন মানুষকে হত্যা করছে তা ভাবে না। মানুষ ভাবে না, কেননা ইতোমধ্যে বিভিন্নভাবে, আইনবহির্ভূতভাবে হত্যার এক ধরনের বৈধতা তৈরি হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত বছর রাজধানীর পুরান ঢাকার গোপীবাগ এলাকায় বিয়েবাড়িতে উচ্চ স্বরে গান-বাজনার প্রতিবাদ করায় নাজমুল হক (৬৫) নামের এক অসুস্থ ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা, ২০১২ সালের ডিসেম্বরে রাজধানীর বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে বিশ্বজিৎ দাসকে কুপিয়ে হত্যা ও সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চুরির অভিযোগ তুলে ২০১৫ সালের ৮ জুলাই শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনা ব্যাপক আলোচিত হয়। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]