• প্রচ্ছদ » » তসলিমা নাসরিনকে কীভাবে এতোটা অন্ধত্ব গ্রাস করলো?


তসলিমা নাসরিনকে কীভাবে এতোটা অন্ধত্ব গ্রাস করলো?

আমাদের নতুন সময় : 11/10/2019

ইভান মনোয়ার : আমি মাঝে মাঝে হতভম্ব হয়ে যাই তসলিমা নাসরিনের ফেসবুকীয় লেখা পড়ে। এই তসলিমা কি সেই তসলিমা যার বই পড়ে যুক্তি শিখেছিলাম? আমি মাঝেমধ্যে খুব অবাক হই তসলিমার লেখা পড়ে যে এতোটা অন্ধত্ব তাকে কীভাবে গ্রাস করলো? শুধু মুসলিমদের বিরোধিতা করতে গিয়ে তিনি তাবৎ কাশ্মীরিদের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে বিজেপির হাতকে শক্তিশালী করেন। আবরার স্রেফ মুসলিম বলে আপনার রায় চলে যায় খুনিদের পক্ষে। ক্ষুরধার লেখক তসলিমা যখন মিনমিন করে খুনিদের পক্ষে লেখে ‘মেরে ফেলার মোটিভ নিয়ে তারা মারেনি। হয়তো মাথায় আঘাত লেগেছে আর মরে গেছে’ তখন পক্ষান্তরে হত্যার অপরাধকে হালকা করা হয়। একজন মানুষ ব্যক্তিগতভাবে ধর্ম পালন করাতে তো কোনো অপরাধ নয়। আমাদের অভিযোগ সবসময় ধর্মের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে।
তসলিমা ইদানীং অনেক ভুলভাল বলেন। এটাই স্বাভাবিক। বয়স বেড়েছে তসলিমার। একজন বিজ্ঞানের ছাত্রী হিসেবে তিনি নিশ্চয়ই জানেন যে প্রতিটি হিউম্যান ব্রেনের কার্যক্ষমতা একদিন শেষ হয়। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চিন্তাচেতনাগুলো স্ট্রাকচারাল হয়ে যায়, অধিকতর দুর্বল আর সেকেলে হয়ে যায়। তার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হবে না। তার বয়স বেড়েছে। মস্তিকের বয়স বেড়েছে। সুতরাং তরুণ তসলিমার যে ক্ষুরধার চিন্তাচেতনা ছিলো তা বৃদ্ধ তসলিমার থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তরুণ তসলিমার যা অর্জন তা এই বৃদ্ধ তসলিমা নষ্ট করে দিচ্ছে। যদি সম্ভব হয় তাহলে স্টেটমেন্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। স্টেটমেন্ট দেওয়ার মতো স্বাভাবিক অবস্থায় তিনি আর নেই। সব কিছুই একদিন শেষ হয়। এটুকু মেনে নিয়ে নতুন পৃথিবীর সঙ্গে ক্ষাপ খাইয়ে নিতে চেষ্টা করুন। তসলিমার জন্য শুভকামনা। কথাগুলো এভাবে বলতে চাইনি। আপনার মানসিক অবস্থা, আপনার একাকিত্ব, আপনার যন্ত্রণা এগুলো বুঝতে পারি। সব কিছুর বিচারেই তাই আপনার কথাগুলোকে জাস্টিফাই করি। তারপরেও আজ বলে ফেললাম কথাগুলো। অন্ধ নাস্তিকতা না হলে কোনো খুনিকে কেউ ডিফেইন করে না, খুন খুনই। খুনিরা শিবির মারলো নাকি জামায়াত মারলো সেটা লজিক্যল ফেলাসি। বড় কথা হলো খুনিরা একজন মানুষ খুন করেছে, আবারও বলছি একজন মানুষ। মানুষ হত্যা কোনো যুক্তি দিয়েই জাস্টিফাই করা যাবে না। বিজ্ঞানমনস্ক কেউ ধর্ম চর্চা করলে সেটা অজ্ঞানতা, তবে সে বাহাসকে আবরার হত্যাকান্ডের সাথে মিলিয়ে খুনিদের জাস্টিফাই করলে চলবে না। ফেসুবক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]