দুই মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমেছে পাঁচ হাজার ৭০০ কোটি টাকা

আমাদের নতুন সময় : 11/10/2019

মো. আখতারুজ্জামান : সুযোগ সুবিধা ও মুনাফা কমে যাওয়ায় নিরাপদ এ বিনিয়োগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ৩ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। যা গত বছরের এ সময়ের চেয়ে তিন ভাগের এক ভাগ। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে নিট সঞ্চয়পত্রের বিক্রির পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৫৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। কড়াকড়ি ও কর বাড়ানোর ফলে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার অধিদফতরের হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে সবমিলিয়ে ১১ হাজার ৩০৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে সাত হাজার ৬৪৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এ হিসাবেই এ দুই মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা।
জানা যায়, কালো টাকায় সঞ্চয়পত্র কেনা বন্ধ করতে ক্রেতার তথ্যের একটি ডাটাবেস তৈরি করে অভিন্ন সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিক্রি কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এছাড়া সঞ্চয়পত্রে বড় বিনিয়োগে কঠোর হয়েছে সরকার। এখন চাইলেই ভবিষ্যৎ তহবিল বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থে সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ নেই। প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ দিয়ে সঞ্চয়পত্র কিনতে হলে কর কমিশনারের প্রত্যয়নপত্র লাগবে।
২০১৫ সালের মে মাসে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদ হার গড়ে ২ শতাংশ করে কমানো হয়। তার আগে পাঁচ বছর মেয়াদী এক লাখ টাকার পরিবার সঞ্চয়পত্রে থেকে প্রতি মাসে ১ হাজার ৭০ টাকা মুনাফা পাওয়া যেতো।
সুদের হার কমানোর ফলে পাওয়া যেতো ৯১২ টাকা। জুলাই মাস থেকে করের হার বাড়ানোর ফলে পাওয়া যাচ্ছে ৮৬৪ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিক্রির চাপ আসলেই কমেছে। কড়াকড়ি এবং কর বাড়ানোর ফলে সঞ্চয়পত্র বিক্রি এখন কমে গেছে।
সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংকের আমানতের সুদের হারের চেয়ে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার অনেক বেশি হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরেই সঞ্চয়পত্র বেশি বিক্রি হচ্ছিল। পুঁজিবাজারেও দীর্ঘদিন ধরে মন্দা চলছে। সম্পাদনা : রমাপ্রসাদ বাবু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]