• প্রচ্ছদ » » প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর এবং রাজাকার শাবকদের অভিযোগের রাজনীতি


প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর এবং রাজাকার শাবকদের অভিযোগের রাজনীতি

আমাদের নতুন সময় : 11/10/2019

মোহাম্মদ এ আরাফাত : মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে বিএনপির বক্তব্য : ‘শেখ হাসিনা আরেকটি দাসখত দিলেন।’ বিএনপি-জামায়াতি অন্ধ সমর্থকগোষ্ঠী ও রাজাকার শাবকরা সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়লো একই কথা প্রচার করতে। রাজাকার শাবকদের ভাষায় শেখ হাসিনা ভারতপন্থী আর তারা নিজেরা দেশপ্রেমী। আসুন এবার সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে পর্যালোচনা করে দেখি বিষয়টি কি?১. ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমার বিরোধ আন্তর্জাতিক ফোরামে গিয়ে শেখ হাসিনাই নিষ্পত্তি করেছেন এবং বাংলাদেশের পক্ষে রায় এনেছেন। বিএনপি-জামায়াত কোনো উদ্যোগই নেয়নি, তবুও রাজাকার শাবকদের দৃষ্টিতে শেখ হাসিনাই ভারতপন্থী, আর পাকিপন্থী বিএনপি-জামায়াত দেশপ্রেমী! ২. স্থলসীমানা বিরোধ নিষ্পত্তি এবং ছিটমহল সমস্যার সমাধানের মধ্য দিয়ে দশ হাজার একর জমি বাংলাদেশের মধ্যে সংযুক্ত করেছেন শেখ হাসিনা, অন্য কেউ নয়। বিএনপি-জামায়াত কোনোদিন চেষ্টা পর্যন্ত করেনি সমাধানের, তবুও রাজাকার শাবকদের দৃষ্টিতে শেখ হাসিনাই ভারতপন্থী, আর পাকিপন্থী বিএনপি-জামায়াত দেশপ্রেমী! ৩. ভারতের মাটি এবং গ্যাস ব্যবহার করে ভারতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ (৬০০ মেগাওয়াট) আমদানি করে বাংলাদেশের কাজে শেখ হাসিনাই লাগিয়েছেন, বিএনপি-জামায়াত ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি তো দূরের কথা, নিজ দেশেই এক কিলোওয়াট বিদ্যুৎ পর্যন্ত উৎপাদন করতে পারেনি। তবুও রাজাকার শাবকদের দৃষ্টিতে শেখ হাসিনাই ভারতপন্থী, আর পাকিপন্থী বিএনপি-জামায়াত দেশপ্রেমী! ৪. বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্যের উপর থেকে ভারতের আরোপিত ট্যারিফ প্রত্যাহার শেখ হাসিনাই করিয়েছেন এবং বাংলাদেশের বেশ কিছু পণ্য ভারতে রপ্তানিতে অন্যান্য বাধাও অপসারণের প্রক্রিয়া শেখ হাসিনাই শুরু করেছেন, যা অদূর ভবিষ্যতে সফলও হবে। বিএনপি-জামায়াত এক্ষেত্রেও কোনো উদ্যোগ নেয়নি, তবুও রাজাকার শাবকদের দৃষ্টিতে শেখ হাসিনাই ভারতপন্থী, আর পাকিপন্থী বিএনপি-জামায়াত দেশপ্রেমী! ৫. ভারতের নাকের ডগা দিয়ে অত্যাধুনিক চাইনিজ সাবমেরিন যুক্ত করে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে রূপান্তর করে দেশকে সামরিকভাবে শক্তিশালী শেখ হাসিনাই করেছেন। বিএনপি-জামায়াত এ বিষয়ে কখনোই কোনো উদ্যোগই নেয়নি। তবুও রাজাকার শাবকদের দৃষ্টিতে শেখ হাসিনাই ভারতপন্থী, আর পাকিপন্থী বিএনপি-জামায়াত দেশপ্রেমী! ৬. গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তিতে ভারতকে রাজি করিয়ে, গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা শেখ হাসিনাই আদায় করেছেন। আর বিএনপি নেত্রী তো গঙ্গার পানির কথা বলতেই ভুলে গিয়েছিলেনÑ এ কথা দেশের সবাই জানে। তবুও রাজাকার শাবকদের দৃষ্টিতে শেখ হাসিনাই ভারতপন্থী, আর পাকিপন্থী বিএনপি-জামায়াত দেশপ্রেমী! ৭. টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করতে ভারতকে বাধ্য শেখ হাসিনাই করেছেন। আর বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে ভারত এই বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা পর্যায়ে বহুদূর এগিয়ে গিয়েছিলো। টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণ বন্ধে বিএনপি-জামায়াত সরকারের কোনো চেষ্টাই ছিলো না। তবুও রাজাকার শাবকদের দৃষ্টিতে শেখ হাসিনাই ভারতপন্থী, আর পাকিপন্থী বিএনপি-জামায়াত দেশপ্রেমী! ৮. তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির জন্য ভারতকে চাপের মধ্যে শেখ হাসিনাই রেখেছেন। এই চুক্তি হলেও শেখ হাসিনার হাত ধরেই হবে। বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকতে তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে তাদের কোনো চিন্তা ছিলো বলে প্রমাণ পাওয়া যায় না। তবুও রাজাকার শাবকদের দৃষ্টিতে শেখ হাসিনাই ভারতপন্থী, আর পাকিপন্থী বিএনপি-জামায়াত দেশপ্রেমী! ৯. ফেলানি হত্যাকাÐের বিচার করতে ভারতকে বাধ্য শেখ হাসিনাই করেছেন। এ বিচার এখনো চলছে। বিএনপি-জামায়াতের এ বিষয়ে কখনো কোনো সদিচ্ছা ছিলো না, শুধু বড় বড় কথা বলেছে। তবুও রাজাকার শাবকদের দৃষ্টিতে শেখ হাসিনাই ভারতপন্থী, আর পাকিপন্থী বিএনপি-জামায়াত দেশপ্রেমী! ১০. বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যাকাÐ বন্ধে শেখ হাসিনাই কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন। বহুবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। এর ফলে সীমান্তে হত্যাকাÐ একেবারে বন্ধ না হলেও অনেকখানি কমে এসেছে। যেকোনো মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট থেকেই দেখা যাবে বিএনপি-জামায়াত আমলে সীমান্তে বছরে শতাধিক হত্যাকাÐ ঘটতো, যা এখন কমে ১২-১৩তে নেমে এসেছে এবং শেখ হাসিনা ভারতের উপর চাপ অব্যাহত রেখেছেন সীমান্তে হত্যাকাÐ শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য। যথারীতি বিএনপি-জামায়াত এ বিষয় নিয়েও সস্তা রাজনীতিই ছাড়া আর কিছু করেনি, কার্যকর কোনো উদ্যোগ কখনো নেয়নি। তবুও রাজাকার শাবকদের দৃষ্টিতে শেখ হাসিনাই ভারতপন্থী, আর পাকিপন্থী বিএনপি-জামায়াত দেশপ্রেমী! ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]