• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঝরছে রক্ত, বাড়ছে সহিংসতা ছাত্ররাজনীতির লাগাম টেনে ধরতে বললেন বিশিষ্টজনরা


শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঝরছে রক্ত, বাড়ছে সহিংসতা ছাত্ররাজনীতির লাগাম টেনে ধরতে বললেন বিশিষ্টজনরা

আমাদের নতুন সময় : 11/10/2019

 

এস এম নূর মোহাম্মদ : ভালো কোন কাজের জন্য না হলেও গত ১১ বছরে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা নানা অপরাধমূলক কর্মকা-ের জন্য বরাবরই পত্রিকার শিরোনাম হয়েছেন। হত্যা ছাড়াও চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ছিনতাই, অপহরণ, ধর্ষণ ও নির্যাতনের হাজারো অভিযোগ রয়েছে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের নিজেদের কোন্দলে নিহত হন ৩৯ জন। আর এই সময়ে ছাত্রলীগের হাতে প্রাণ হারান অন্য সংগঠনের ১৫ জন।
টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে সম্প্রতি সংগঠন থেকে বিদায় করা হয়েছে। এবার আবরারকে পিটিয়ে মারার পর ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে নিষিদ্ধের দাবি করেছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ঘটনার পর বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি থাকার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। এর পর বুয়েটের ছাত্র-শিক্ষকদের রাজনীতি না রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন শিক্ষক সমিতি।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বুয়েট চাইলে সেখানে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করতে পারবে। সেইসঙ্গে এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীদের খোঁজে বের করার নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে বর্তমান পরিস্থিতে অনেকে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি তুললেও একে নিয়ন্ত্রণ করার পক্ষে মত দিয়েছেন আইনজ্ঞরা। তারা মনে করেন, নিষিদ্ধ নয়, এখনই লাগাম টেনে ধরতে হবে। নইলে দিন দিন আরও কলুষিত শিক্ষাঙ্গনের মতো পবিত্র স্থান।
জানতে চাইলে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ছাত্রদের মূল দলের রাজনীতি থেকে দূরে রাখা যেতে পারে। আর সেটা করতে হবে রাজনৈতিক দল থেকেই। দলগুলোর উচিৎ হবে ছাত্রদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাহিরে কোন কিছু প্রশ্রয় না দেয়া। ছাত্ররা দলের আশ্রয়ে গিয়ে নিজেদের শক্তিশালী করার চেষ্টা করে। সেই আশ্রয় দেয়াটা ঠিকনা। আর কেউ কোন ধরনের অন্যায় করলে তার যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদগুলোকে কার্যকর করা উচিৎ বলে মনে করেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, কোন ছাত্র সংগঠন দলের লেজুড় বৃত্তি করতে পারবেনা। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়া-লেখার মধ্যে থাকবে। সেখানে কোন অনিয়ম বা শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কথা বলবে। এ বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং দলগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ নয়, নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সকল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি কেমন হবে, কারা করতে পারবে এ বিষয়ে রুলস বা আইন করা যেতে পারে। আর সে রুলস তৈরি করবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মতো করে এ বিষয়ে রুলস তৈরি করলে এবং নিয়ন্ত্রণ করলে সন্ত্রাসী কর্মকা- বন্ধ হবে বলে মনে করেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ নয়, নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নিয়ন্ত্রণ না থাকলে বেপরোয়া হওয়াটা স্বাভাবিক। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি, প্রোভিসি, প্রক্টর, হাউজ টিউটরসহ অনেকগুলো বিষয় আছে। সবাই তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে কোন কিছু করা ছাত্রদের পক্ষে সম্ভাবনা। ছাত্র সংগঠন গুলোর সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকেও লেজুড়বৃত্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, এরজন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও দায়ী। তারা সঠিকভাবে সব কিছু তদারকি করলে এসব হতোনা। আর অবশ্যই ছাত্র সংসদ কার্যকর করা দরকার। সেইসঙ্গে আপাতত কয়েক বছরের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে দেয়া উচিৎ বলে মনে করেন এই আইনজীবী। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]