• প্রচ্ছদ » » সাহিত্যে নোবেল, পশ্চিমপ্রেমের অক্ষমতা থেকে বের হতে আবারও ব্যর্থ সুইডিশ অ্যাকাডেমি


সাহিত্যে নোবেল, পশ্চিমপ্রেমের অক্ষমতা থেকে বের হতে আবারও ব্যর্থ সুইডিশ অ্যাকাডেমি

আমাদের নতুন সময় : 11/10/2019

আসিফুজ্জামান পৃথিল : এক বছরের জন্য বন্ধ ছিলো নোবেল সাহিত্য পুরস্কার। আগেই জানা ছিলো মুলতবি থাকা বছর সহ পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন দুজন। দুজনের নাম ঘোষণা হবে। প্রতীক্ষা মধুরও হয়। কিন্তু এবারের প্রতীক্ষায় কাঁটা বিঁধছিলো যেনো। ২০১৮ সালে যৌন কেলেঙ্কারির মতো বিশ্রি এক বিষয়ে বন্ধ ছিলো সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার। সকল সাহিত্যপ্রেমীর হৃদয় হয়েছিলো ক্ষতবিক্ষত। সম্প্রতি সুইডিশ অ্যাকাডেমি, যারা নোবেল দেয়, বলেছিলো এবারের পুরস্কার হবে ভিন্নরকম। এবারের পুরস্কার হবে ইউরোপকেন্দ্রিকতা থেকে বের হয়ে আসার পুরস্কার। পুরুষতান্ত্রিকতাকে উৎরে যাওয়ার পুরস্কার। এ ধরণের ঘোষণা আশা যোগায়। ৩টি শ্রেণিতে এবছর যেসময় পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা হয়েছে, তারও এক ঘন্টা ২০ মিনিট পর সিডিউল ছিলো সাহিত্যে নোবেলপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণার। তবুও অপেক্ষা সহ্য হয় না। খোলা থাকা নোবেল কমিটির ওয়েবসাইটে বারবার টোকা দেয়, রিফ্রেশ করা। আবারও টোকা দেয়া। অবশেষে লেখা উঠলো, হেয়ার উই গো… । মনিটরে ভেসে উঠা নাম দুটে দেখে ছোটছাট ধাকা খেলাম আবারও। ২০১৮ সালের জন্য নোবেল পেয়েছেন ওলগা তোরাকারচুক আর ২০১৯ সালের জন্য পুরস্কৃত হয়েছে পিটার হ্যান্ডেক। নাম দেখে উচ্ছাসের আগে একটি প্রশ্ন আসে মাথায়। এরা কারা?
নাম দুটি সাধারণের মাঝে অপরিচিত তো বটেই, হলপ করে বলা যায়, সাহিত্যপ্রেমিদের মধ্যেও অনেকেই তাদের চেনেন না। টইটারের হ্যান্ডেলও তাই বলছে। নোবেল কমিটির টুইটের সবাবে অধিকাংশ রিটুইটেওপ্রশ্ন করা হচ্ছে এরা কারা। এমনকি গার্ডিয়ান তাদের লাইভ নিউজ স্ক্রিপ্টে দুজনের পরিচয় দিয়ে একটি করে স্ট্রিম স্ক্রিপ্ট খুলতে বাধ্য হয়েছে। তবে একজন সাহিত্যিকের নাম পরিচিতি নেই, এটি কোনোভাবেই তার যোগ্যতা নয়। একজন সাহিত্যিক, যিনি জনপ্রিয় নন, কিন্তু তাকে খুঁজে বের করে পুরস্কার প্রদান করতে পারাটাই নোবেল কমিটির সবচেয়ে বড় স্বার্থকতা হওয়ার কথা। মস্তিস্ক হাতড়ে তবুও ওলগা তোরাকারচুকের নামটি অল্প বিস্তর মনে পরে। তার লেখা ফ্লাইট উপন্যাসটি ২০১৮ সালের বুকার পুরস্কার বিজয়ী। নাহ্ তাহলে ওলগা হেলাফেলার কেউ নন। আচ্ছা তিনি বুকার পাবার পরে ফ্লাইট কি পড়েছি। স্মৃতি আরও হাতড়ানোর পর উত্তর মিললো। হ্যাঁ পড়া হয়েছে। কিন্তু এতো ‘চমৎকার’ উপন্যাস, যা বুকার পায়, নোবেল পায় তার স্মৃতি একটু ঝাপসা কোনো। জবাব দিলো গুগলে পাওয়া বুক কভারটি। বইটি আমাকে যথেষ্ট আনন্দ দেয়নি। একটি সফল ক্রাইম থ্রিলার হতে হতে না হওয়া ‘ফ্লাইট’ আমার মতো নগন্য পাঠকের পছন্দ নাও হতে পারে। তবে এটি দূর্বল নাও হতে পারে। একটি পপ কালচারের উপর ভিত্তি করে লেখা ‘ঐতিহাসিক উপন্যাসের’ ভক্ত হতেই পারে সুইস অ্যাকাডেমি। তবে সত্যটা হলো নোবেল কমিটি একরকমের প্রতারণা করলো আবার। এবারেও বোঝা যায় তারা পশ্চিমের প্রতি প্রেম ভুলতেই পারেনি। শুধু ইউরোপীয়ান আর উত্তর আমেরিকানরাই সাহিত্য লিখতে পারে এমন ধারণা ভুলতেই পারছে না নোবেল কমিটি। এবার তাদের আগাম ঘোষণা আমাদের আশাবাদী করেছিলো, হারুকি মুরাকামির সঙ্গে প্রতিবছর হওয়া অন্যায় বোধহয় বন্ধ হবে এ বছর। নাহ্ এক অস্ট্রিয়ান নাট্যকার, যিনি ১০ বছরের বেশি সময় ধরে থাকছেন প্যারিসে, যার লেখার পরতে পরতে লকিয়ে থাকে পুরুষপ্রেম, অন্ধ আভিজাত্যের ফাঁপা বুলি, তিনি হারিয়ে দিলেন জীবনের জয়গান গাওয়া মুরাকামিকে। হারিয়ে দিলেন মানবিক ভাষণের পক্ষে আওয়াজ তোলা অরুন্ধুতীদের। নাহ্, মুরাকামি অরুন্ধুতিদের হারানো সম্ভব নয়। যেমন হারানো যায়নি কাহলির জিবরান, সাদাত আলী মন্টো, মিলান কুন্ডেরাদের। পপ কালচারে অভ্যস্থ যাপিত জীবনের কাছে বরং বারবার হেরে যায় নোবেল কমিটি।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]